ঢাকা ০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নিম্ন মধ্যবিত্ত থেকে দশ কোটি টাকার ফ্ল্যাটে

বিমানের ‘সৎ কর্মকর্তার’ শতকোটি টাকার সম্পদ!

শরিয়ত খান, বিশেষ প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:৪৩:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫
  • / 2198

বিমানের ‘সৎ কর্মকর্তার’ই শতকোটি টাকার সম্পদ!

বাংলাদেশ বিমানের উপ-মহাব্যবস্থাপক- ডিজিএম মনিরুজ্জামান খান। গোপালগঞ্জ বাড়ি, এই পরিচয় ব্যবহার করে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অনিয়মকে নিয়মে পরিনত করেছিলেন তিনি। তদবির বানিজ্য, চোরাচালান, ঠিকাদারি করে নিজের এবং বিমান ক্রু স্ত্রীর নামে গড়েছেন রাজধানীতে অঢেল সম্পদ। সরকার পরিবর্তনের পরেও এই কর্মকর্তার প্রভাব এতটুকুও কমেনি। আবার নিজেকে দাবি করেন ‘ বিমানের সৎ কর্মকতা’ হিসেবে। তাকে নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ

দ্বিতীয় পর্ব।

 

আমাদের অনুসন্ধানে এই কর্মকর্তার রাজধানীর ধানমন্ডি, উত্তরা, বসুন্ধরা, গুলশানের মতো সব অভিজাত এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, বাড়ি, জমি, দোকানসহ নানা সম্পদের তথ্য মিলেছে। এমনকি সম্প্রতি অভিজাত হয়ে ওঠা পূর্বাচলেও কিনে রেখেছেন জমি। এছাড়া তিন সন্তানের দু’জন পড়ালেখা করেন ধানমন্ডির একটি অভিজাত ইংরেজি মাধ্যমে স্কুলে এবং একজন মালয়েশিয়াতে। আর এর সবই নিজের একমাত্র চাকরির বেতনের টাকায় সামলাচ্ছেন বলে দাবি মনিরুজ্জামান খানের।

তবে, সম্প্রতি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড লজিস্টিক সাপোর্ট বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মনিরুজ্জামান খান বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সরকারি চাকরিতে থেকে শত শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন।

মনিরুজ্জামান খানের চাকরী জীবন শুরু কেবিন ক্রু হিসেবে ১৯৯৪ সালে। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সদস্য শেখ সেলিমের আশির্বাদে নিয়োগ পান বিমানের ফ্লাইট সার্ভিস বিভাগে। সরকার পতনের আগ পর্যন্ত এই বিভাগের ডিজিএম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। আওয়ামী লীগের সেই প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সখ্যতার অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট তাঁকে প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড লজিস্টিক সাপোর্ট বিভাগে বদলি করা হয়। বদলির পর থেকেই তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আরও জোরালো হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মনিরুজ্জামান নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান। তবে বর্তমানে তিনি রাজধানীর ধানমন্ডির ৬ নম্বর রোডের যে বিলাসবহুল ফ্ল্যাটটিতে ধানমন্ডির বিলাশবহুল এই ফ্ল্যাটটি ২০২৩ সালে ক্রয় করেন মনিরুজ্জামান। ছবি: বাংলা অ্যাফেয়ার্স
ধানমন্ডির বিলাশবহুল এই ফ্ল্যাটটি ২০২৩ সালে ক্রয় করেন মনিরুজ্জামান। ছবি: বাংলা অ্যাফেয়ার্স

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মনিরুজ্জামান নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান। তবে বর্তমানে তিনি রাজধানীর ধানমন্ডির ৬ নম্বর রোডের যে বিলাসবহুল ফ্ল্যাটটিতে থাকেন, সেটির মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। যা তিনি ২০২৩ সালে ক্রয় করেন।

রাজধানীর উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টরের ১২ ও ১৭ নম্বর রোডে দুটি ছয় তলা ভবন আছে মনিরুজ্জামানের। প্রতিটি ভবন কমপক্ষে তিন কাঠা জমির উপর গড়ে তোলা হয়েছে। যার মূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা।

এছাড়া বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এম ব্লকে রয়েছে ১০ কাঠার একটি প্লট, যার মূল্য প্রায় ১২–১৫ কোটি টাকা। শুধু তাই নয়, পূর্বাচলের ভোলানাথপুরে আছে সাড়ে সাত কাঠা জমি। যার বাজারমূল্য প্রায় আট থেকে নয় কোটি টাকা।

ধানমন্ডির একটি মার্কেটে রয়েছে অর্ধকোটি টাকা দামের দোকান।

উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টরের ১৭ নম্বর রোডে ছয় তলা ভবন। ছবি: বাংলা অ্যাফেয়ার্স
উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টরের ১৭ নম্বর রোডে ছয় তলা ভবন। ছবি: বাংলা অ্যাফেয়ার্স

এসব সম্পদের বিষয়ে মনিরুজ্জামান খান বাংলা এ্যাফেয়ার্সকে জানান, গত ত্রিশ বছরের চাকরী থেকে যা আয় হয়েছে তা সবই সঞ্চয় করেছেন তিনি। আর সেই অর্থ দিয়েই এসব সম্পদ গড়েছেন। তবে ত্রিশ বছরের হিসেব দিলেও চাকরী জীবনের প্রথম ১০ বছরেই এসব সম্পদ কিনেছেন মনিরুজ্জামান।

চাকরী জীবনের মাত্র চার বছরের মাথায় প্রথম ধানমন্ডি ৯/এ রোডে একটি ফ্ল্যাট কেনেন মনিরুজ্জামান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এজন্য তাকে জীবনে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। ক্রেবিন ক্রু হলেও বিভিন্ন মেসে থাকতেন তিনি এবং সবসময় মাত্র একটি শার্ট ব্যবহার করতেন।

মনিরুজ্জামানের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানিতে এবং টেকেরহাট এলাকায়ও রয়েছে বিপুল সম্পদ। সেখানে রয়েছে অসংখ্য আবাদি ও অনাবাদি জমি। যেসব জমিতে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তুলেছেন মনিরুজ্জামান। তবে গোপালগঞ্জের সম্পদের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডে ছয় তলা আরেকটি ভবন। ছবি: বাংলা অ্যাফেয়ার্স
উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডে ছয় তলা আরেকটি ভবন। ছবি: বাংলা অ্যাফেয়ার্স

বিমানের একাধিক কর্মকর্তা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শেখ সেলিমের ক্ষমতাবলে কেরানীগঞ্জ জেলখানার মাটি ভরাট প্রকল্পের কাজ বাগিয়ে নেন এই মনিরুজ্জামান। আর এ কাজ নেয়ার জন্য বন্ধুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ব্যবহার করেন তিনি। যার মাধ্যমে তিনি কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেন।

অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এর বিভিন্ন ঠিকাদারি ও সিভিল এভিয়েশনের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ বাগিয়ে নেন তিনি। আর এ কাজের জন্য তিনি তার পরিচিত কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করেন।

বিমানের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, কেবিন ক্রু ইউনিয়নের একজন প্রভাশালী নেতার সাথে যৌথভাবে বিভিন্ন ব্যবসা পরিচালনা করেছেন মনিরুজ্জামান। আর এ ব্যবসা করতে গিয়ে একসময় আর্থিক লেনদেনে বনিবনা না হওয়ায় সেই ব্যবসা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন ইউনিয়নের সেই নেতা। সেসব ব্যবসা বর্তমানে পরিচালনা করছেন মনিরুজ্জামানের আপন ভাই। তবে এসব ব্যবসার বিষয়ে অস্বীকার করেন মনিরুজ্জামান।

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচুত হওয়ার পর বিমানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আর্শিবাদে টিকেছিলেন মনিরুজ্জামান। আর বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক দায়িত্ব নেয়ারও পর থেকে তার আর্শিবাদে আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন মনিরুজ্জামান।

এসব বিষয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিমানের কেবিন ক্রু হয়ে শুধুমাত্র বেতনের টাকায় এসব সম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব না। তার এই বিপুল সম্পদের উৎস খুঁজে বের করার দাবি তাদের।

 

আরো পড়তে পারেন

শেখ সেলিমের ছায়ায় বিমানে ‘অঘোষিত সর্বেসর্বা’

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নিম্ন মধ্যবিত্ত থেকে দশ কোটি টাকার ফ্ল্যাটে

বিমানের ‘সৎ কর্মকর্তার’ শতকোটি টাকার সম্পদ!

সর্বশেষ আপডেট ০২:৪৩:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫

বাংলাদেশ বিমানের উপ-মহাব্যবস্থাপক- ডিজিএম মনিরুজ্জামান খান। গোপালগঞ্জ বাড়ি, এই পরিচয় ব্যবহার করে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অনিয়মকে নিয়মে পরিনত করেছিলেন তিনি। তদবির বানিজ্য, চোরাচালান, ঠিকাদারি করে নিজের এবং বিমান ক্রু স্ত্রীর নামে গড়েছেন রাজধানীতে অঢেল সম্পদ। সরকার পরিবর্তনের পরেও এই কর্মকর্তার প্রভাব এতটুকুও কমেনি। আবার নিজেকে দাবি করেন ‘ বিমানের সৎ কর্মকতা’ হিসেবে। তাকে নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ

দ্বিতীয় পর্ব।

 

আমাদের অনুসন্ধানে এই কর্মকর্তার রাজধানীর ধানমন্ডি, উত্তরা, বসুন্ধরা, গুলশানের মতো সব অভিজাত এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, বাড়ি, জমি, দোকানসহ নানা সম্পদের তথ্য মিলেছে। এমনকি সম্প্রতি অভিজাত হয়ে ওঠা পূর্বাচলেও কিনে রেখেছেন জমি। এছাড়া তিন সন্তানের দু’জন পড়ালেখা করেন ধানমন্ডির একটি অভিজাত ইংরেজি মাধ্যমে স্কুলে এবং একজন মালয়েশিয়াতে। আর এর সবই নিজের একমাত্র চাকরির বেতনের টাকায় সামলাচ্ছেন বলে দাবি মনিরুজ্জামান খানের।

তবে, সম্প্রতি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড লজিস্টিক সাপোর্ট বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মনিরুজ্জামান খান বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সরকারি চাকরিতে থেকে শত শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন।

মনিরুজ্জামান খানের চাকরী জীবন শুরু কেবিন ক্রু হিসেবে ১৯৯৪ সালে। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সদস্য শেখ সেলিমের আশির্বাদে নিয়োগ পান বিমানের ফ্লাইট সার্ভিস বিভাগে। সরকার পতনের আগ পর্যন্ত এই বিভাগের ডিজিএম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। আওয়ামী লীগের সেই প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সখ্যতার অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট তাঁকে প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড লজিস্টিক সাপোর্ট বিভাগে বদলি করা হয়। বদলির পর থেকেই তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আরও জোরালো হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মনিরুজ্জামান নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান। তবে বর্তমানে তিনি রাজধানীর ধানমন্ডির ৬ নম্বর রোডের যে বিলাসবহুল ফ্ল্যাটটিতে ধানমন্ডির বিলাশবহুল এই ফ্ল্যাটটি ২০২৩ সালে ক্রয় করেন মনিরুজ্জামান। ছবি: বাংলা অ্যাফেয়ার্স
ধানমন্ডির বিলাশবহুল এই ফ্ল্যাটটি ২০২৩ সালে ক্রয় করেন মনিরুজ্জামান। ছবি: বাংলা অ্যাফেয়ার্স

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মনিরুজ্জামান নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান। তবে বর্তমানে তিনি রাজধানীর ধানমন্ডির ৬ নম্বর রোডের যে বিলাসবহুল ফ্ল্যাটটিতে থাকেন, সেটির মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। যা তিনি ২০২৩ সালে ক্রয় করেন।

রাজধানীর উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টরের ১২ ও ১৭ নম্বর রোডে দুটি ছয় তলা ভবন আছে মনিরুজ্জামানের। প্রতিটি ভবন কমপক্ষে তিন কাঠা জমির উপর গড়ে তোলা হয়েছে। যার মূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা।

এছাড়া বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এম ব্লকে রয়েছে ১০ কাঠার একটি প্লট, যার মূল্য প্রায় ১২–১৫ কোটি টাকা। শুধু তাই নয়, পূর্বাচলের ভোলানাথপুরে আছে সাড়ে সাত কাঠা জমি। যার বাজারমূল্য প্রায় আট থেকে নয় কোটি টাকা।

ধানমন্ডির একটি মার্কেটে রয়েছে অর্ধকোটি টাকা দামের দোকান।

উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টরের ১৭ নম্বর রোডে ছয় তলা ভবন। ছবি: বাংলা অ্যাফেয়ার্স
উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টরের ১৭ নম্বর রোডে ছয় তলা ভবন। ছবি: বাংলা অ্যাফেয়ার্স

এসব সম্পদের বিষয়ে মনিরুজ্জামান খান বাংলা এ্যাফেয়ার্সকে জানান, গত ত্রিশ বছরের চাকরী থেকে যা আয় হয়েছে তা সবই সঞ্চয় করেছেন তিনি। আর সেই অর্থ দিয়েই এসব সম্পদ গড়েছেন। তবে ত্রিশ বছরের হিসেব দিলেও চাকরী জীবনের প্রথম ১০ বছরেই এসব সম্পদ কিনেছেন মনিরুজ্জামান।

চাকরী জীবনের মাত্র চার বছরের মাথায় প্রথম ধানমন্ডি ৯/এ রোডে একটি ফ্ল্যাট কেনেন মনিরুজ্জামান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এজন্য তাকে জীবনে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। ক্রেবিন ক্রু হলেও বিভিন্ন মেসে থাকতেন তিনি এবং সবসময় মাত্র একটি শার্ট ব্যবহার করতেন।

মনিরুজ্জামানের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানিতে এবং টেকেরহাট এলাকায়ও রয়েছে বিপুল সম্পদ। সেখানে রয়েছে অসংখ্য আবাদি ও অনাবাদি জমি। যেসব জমিতে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তুলেছেন মনিরুজ্জামান। তবে গোপালগঞ্জের সম্পদের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডে ছয় তলা আরেকটি ভবন। ছবি: বাংলা অ্যাফেয়ার্স
উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডে ছয় তলা আরেকটি ভবন। ছবি: বাংলা অ্যাফেয়ার্স

বিমানের একাধিক কর্মকর্তা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শেখ সেলিমের ক্ষমতাবলে কেরানীগঞ্জ জেলখানার মাটি ভরাট প্রকল্পের কাজ বাগিয়ে নেন এই মনিরুজ্জামান। আর এ কাজ নেয়ার জন্য বন্ধুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ব্যবহার করেন তিনি। যার মাধ্যমে তিনি কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেন।

অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এর বিভিন্ন ঠিকাদারি ও সিভিল এভিয়েশনের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ বাগিয়ে নেন তিনি। আর এ কাজের জন্য তিনি তার পরিচিত কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করেন।

বিমানের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, কেবিন ক্রু ইউনিয়নের একজন প্রভাশালী নেতার সাথে যৌথভাবে বিভিন্ন ব্যবসা পরিচালনা করেছেন মনিরুজ্জামান। আর এ ব্যবসা করতে গিয়ে একসময় আর্থিক লেনদেনে বনিবনা না হওয়ায় সেই ব্যবসা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন ইউনিয়নের সেই নেতা। সেসব ব্যবসা বর্তমানে পরিচালনা করছেন মনিরুজ্জামানের আপন ভাই। তবে এসব ব্যবসার বিষয়ে অস্বীকার করেন মনিরুজ্জামান।

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচুত হওয়ার পর বিমানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আর্শিবাদে টিকেছিলেন মনিরুজ্জামান। আর বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক দায়িত্ব নেয়ারও পর থেকে তার আর্শিবাদে আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন মনিরুজ্জামান।

এসব বিষয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিমানের কেবিন ক্রু হয়ে শুধুমাত্র বেতনের টাকায় এসব সম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব না। তার এই বিপুল সম্পদের উৎস খুঁজে বের করার দাবি তাদের।

 

আরো পড়তে পারেন

শেখ সেলিমের ছায়ায় বিমানে ‘অঘোষিত সর্বেসর্বা’