দুর্নীতির অভিযোগ
বিমানের উপ-মহাব্যবস্থাপক সাময়িক বরখাস্ত
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:৪৪:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫
- / 424
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক (আইন) মো. আল মাসুদ খানকে দুর্নীতি, তথ্য গোপন এবং আদালতের নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বিমানের প্রশাসন ও মানবসম্পদ পরিদপ্তরের তদন্ত শাখা বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর ২০২৫) জারি করা অফিস আদেশে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আদেশে স্বাক্ষর করেছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মো. সাফিকুর রহমান।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ক্যাপ্টেন আলী রুবাইয়াত চৌধুরীর দায়ের করা রিট পিটিশন (নং ৮২৮/২০২৫)-এর শুনানিতে আদালত বিমান কর্তৃপক্ষকে ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু মো. আল মাসুদ খান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন আদালতে জমা দেননি, যা আদালত অবমাননার পর্যায়ে পড়ে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর অফিস আদেশ নং ৬৮/২০২৪ অনুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদন অফিসে জমা পড়লেও তিনি তা আদালতে জমা দেননি। এছাড়া আদালত অবমাননার ২৪০/২০২৫ সংক্রান্ত তথ্য গোপন করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো মামলা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেননি। এই কার্যকলাপ গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্পোরেশন কর্মচারী প্রবিধানমালা, ১৯৭৯-এর ৫৮ ধারার অধীনে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন এবং নিয়মিত হাজিরা দিতে হবে। আদেশ অনুযায়ী, তিনি তাঁর বর্তমান ঠিকানায় অবস্থান করবেন এবং আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
অভিযোগ রয়েছে, মো. আল মাসুদ খান পিআর বিভাগে নিজের পছন্দের লোক দিয়ে বিভিন্ন ভিডিও বানিয়েছেন, যা মানহীন ও হাস্যকর হিসেবে ধরা হয়েছে। প্রতিটি ভিডিওতে তিনি নিজেকে মডেল হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। পছন্দের হাতে গোনা কয়েকজন কেবিন ক্রু ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন বানানো হয়েছে।
মাসুদ পূর্ব সরকারের সময়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ঘুষ-কেলেংকারিতে জড়িত থাকা অবস্থায় তিনি সাবেক এমডি ও সিইও শফিউল আজিমের সময় নিজেকে আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে প্রমাণ করে জনসংযোগ বিভাগে ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। নিয়মিত বিদেশ ভ্রমণসহ নানা সুবিধা ভোগ করেছেন।
৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মাসুদ নিজেকে বিএনপি-জামাতের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে জনসংযোগ বিভাগের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন। এরপর তিনি লিগ্যাল বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন শুরু করেন এবং সেই দায়িত্বেও ক্ষমতার অপব্যবহার চালিয়ে যান।































