বিতর্কের মুখে সর্বমিত্র চাকমার ব্যাখ্যা
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৫১:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫
- / 62
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক বৃদ্ধকে লাঠি হাতে তাড়ানোর ঘটনায় বিতর্কে জড়িয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাতে ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, সর্বমিত্র চাকমা লাঠি হাতে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক বৃদ্ধকে তার বোঁচকা ও ক্র্যাচসহ সরিয়ে দিতে বলছেন। ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল টিমের কয়েকজন সদস্যও উপস্থিত ছিলেন। ভিডিও ধারণের সময় সর্বমিত্র বৃদ্ধকে বলেন, “আমি মিটিং করে তুলতেছি, এগুলো নাও।” পরে প্রক্টোরিয়াল টিমের এক সদস্য লাঠি দিয়ে বৃদ্ধের বস্তায় আঘাত করলে তিনি কষ্টে বলেন, “আমি মইরা যামু।” এরপরও সর্বমিত্র আবার লাঠি তুলে হুমকি দেন, “আর দেখবো এখানে?”—বৃদ্ধ তখন জবাব দেন, “না বাবা।”
ভিডিওটি ঢাবির ছাত্র আমিনুল হক অভি তার ফেসবুক পেজে প্রকাশ করলে সেটি ভাইরাল হয়ে যায়। পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, “এটাই নতুন শিবির মনোনীত প্রশাসকের কাজ।” এর পর থেকেই ক্যাম্পাস ও অনলাইনে সর্বমিত্রের আচরণ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কেউ কেউ তার সমালোচনায় মুখর হলেও, কেউ কেউ তাকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, “মাদকাসক্তদের যদি সরানো না হয়, তাহলে কীভাবে ক্যাম্পাস নিরাপদ থাকবে?”
বিতর্কের পরদিন সর্বমিত্র চাকমা নিজের ফেসবুক পেজে ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, ভিডিওতে যাকে তাড়ানো হয়েছে, তিনি মাদকাসক্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে অবস্থান করছিলেন। বারবার সরানোর পরও তিনি ফিরে আসায় এমন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেন সর্বমিত্র। তিনি লেখেন, “এই লোকটা বারবার ক্যাম্পাসে আসত, আমি মাদকমুক্ত পরিবেশের জন্য কাজ করি—তাকে না সরালে অন্যদের জন্য খারাপ দৃষ্টান্ত হতো।”
তবে সর্বমিত্র স্বীকার করেন, ভিডিওতে তার আচরণ “অপ্রত্যাশিত মনে হতে পারে।” তিনি জানান, “আমি ভবিষ্যতে আর কোনো উচ্ছেদ অভিযানে থাকব না, তবে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ চালিয়ে যাব।”
এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, তার বিরোধীরা ভিডিওটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ছড়িয়ে দিচ্ছে। ভিডিওটি যেখানে ধারণ করা হয়েছে, সেটি বার্ন ইনস্টিটিউট নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে—এ তথ্য বিকৃতভাবে ছড়ানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর রফিকুল ইসলাম বলেন, “ডাকসু বা কোনো ছাত্রনেতাকে আমরা এই উচ্ছেদ অভিযানে দায়িত্ব দিইনি। এটি প্রশাসনের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ।”































