ঢাকা ০৩:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিজয় ভোজে কাঁচা মাংস ও পোকা! ক্ষুব্ধ ববি শিক্ষার্থীরা

মোঃ আশিকুল ইসলাম, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৯:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫
  • / 167

বিজয় ভোজে কাঁচা মাংস

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আজ ৫ আগস্ট বিজয় ভোজের আয়োজন করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)। তবে খাবারের মান নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ঝাড়ছেন অনেকেই। তাদের অভিযোগ, বিজয় ভোজের নামে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।

ফেসবুকে এক শিক্ষার্থী একটি ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে দেখা যায় খাবারের মাংস কাঁচা অবস্থায় পরিবেশন করা হয়েছে।

আরেক শিক্ষার্থী অর্ধ-কাঁচা মাংসের ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, “আজ ৫ আগস্ট দেশ থেকে স্বৈরাচার তাড়ানোর দিনে খাবারের নামে আমাদের সঙ্গে প্রহসন করা হলো। প্রত্যেক শিক্ষার্থী থেকে ৫০ টাকা করে নিয়ে অত্যন্ত নিম্নমানের খাবার দেওয়া হয়েছে। পোলাও বা মুরগি; কোনোটিরই স্বাদ ছিল না। মুরগি ঠিকভাবে রান্না হয়নি, রক্ত মেশানো কাঁচা মাংস পরিবেশন করা হয়েছে।”

এক শিক্ষার্থী খাবারের ছবি পোস্ট করে লেখেন, “খাবারে পোকা! প্রশাসন কীভাবে হুমাহুমের মতো একটা নিম্নমানের রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার অর্ডার করতে পারে?”

অন্য একজন লেখেন, “৫০ টাকা এন্ট্রি ফি নিয়ে এই থার্ড ক্লাস বিরিয়ানি দেওয়ার দরকার ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেস্টে এই ধরনের খাবার মানায় না। কেউ তো খাবারের জন্য আন্দোলন করেনি। তাহলে এই খাবার দেওয়ার দরকার কী ছিল? আজকের বন্ধের দিনে অনেকে দূর থেকে কেবল বিজয় ভোজের জন্য ক্যাম্পাসে এসেছে।”

একাধিক শিক্ষার্থী দাবি করেছেন, খাবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের উচিত হিসাব প্রকাশ করা। একজন লিখেছেন, “এইরকম খাবার পার্সেল নিতে কত টাকা খরচ হয় তা শিক্ষার্থীরা জানে। তাই খরচের হিসাব দেওয়া হোক।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ‘ঐক্য ও বিজয় ফেস্ট বাস্তবায়ন কমিটি’র আহ্বায়ক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের বিজয় ভোজের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। খাবারের জন্য বরিশালের সবচেয়ে ভালো দুটি রেস্টুরেন্ট বাছাই করা হয়েছে। প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থীর জন্য খাবার প্রস্তুত করা হয়েছে। একটি রেস্টুরেন্টের পক্ষে এত খাবার সরবরাহ করা সম্ভব নয় বলে দুটি রেস্টুরেন্টে অর্ডার দিয়েছি। অর্ডার দেওয়ার আগে আমরা খাবার যাচাই করে দেখেছি, তবে এত খাবার সরবরাহের সময় কিছু প্যাকেটে মানের সমস্যা হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু সরবরাহকারী রেস্টুরেন্টের কারণে কিছু অসুবিধা হতে পারে। এত বড় পরিসরে কিছু সমস্যা হওয়াটাই স্বাভাবিক।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, “আমি খাবারের সময় বিভিন্ন বিভাগে গিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে খোঁজ নিয়েছি, তারা খাবারের মান ভালো বলেছে। তবুও যেহেতু অভিযোগ এসেছে, আমি বিষয়টি দেখব।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বিজয় ভোজে কাঁচা মাংস ও পোকা! ক্ষুব্ধ ববি শিক্ষার্থীরা

সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৯:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আজ ৫ আগস্ট বিজয় ভোজের আয়োজন করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)। তবে খাবারের মান নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ঝাড়ছেন অনেকেই। তাদের অভিযোগ, বিজয় ভোজের নামে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।

ফেসবুকে এক শিক্ষার্থী একটি ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে দেখা যায় খাবারের মাংস কাঁচা অবস্থায় পরিবেশন করা হয়েছে।

আরেক শিক্ষার্থী অর্ধ-কাঁচা মাংসের ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, “আজ ৫ আগস্ট দেশ থেকে স্বৈরাচার তাড়ানোর দিনে খাবারের নামে আমাদের সঙ্গে প্রহসন করা হলো। প্রত্যেক শিক্ষার্থী থেকে ৫০ টাকা করে নিয়ে অত্যন্ত নিম্নমানের খাবার দেওয়া হয়েছে। পোলাও বা মুরগি; কোনোটিরই স্বাদ ছিল না। মুরগি ঠিকভাবে রান্না হয়নি, রক্ত মেশানো কাঁচা মাংস পরিবেশন করা হয়েছে।”

এক শিক্ষার্থী খাবারের ছবি পোস্ট করে লেখেন, “খাবারে পোকা! প্রশাসন কীভাবে হুমাহুমের মতো একটা নিম্নমানের রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার অর্ডার করতে পারে?”

অন্য একজন লেখেন, “৫০ টাকা এন্ট্রি ফি নিয়ে এই থার্ড ক্লাস বিরিয়ানি দেওয়ার দরকার ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেস্টে এই ধরনের খাবার মানায় না। কেউ তো খাবারের জন্য আন্দোলন করেনি। তাহলে এই খাবার দেওয়ার দরকার কী ছিল? আজকের বন্ধের দিনে অনেকে দূর থেকে কেবল বিজয় ভোজের জন্য ক্যাম্পাসে এসেছে।”

একাধিক শিক্ষার্থী দাবি করেছেন, খাবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের উচিত হিসাব প্রকাশ করা। একজন লিখেছেন, “এইরকম খাবার পার্সেল নিতে কত টাকা খরচ হয় তা শিক্ষার্থীরা জানে। তাই খরচের হিসাব দেওয়া হোক।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ‘ঐক্য ও বিজয় ফেস্ট বাস্তবায়ন কমিটি’র আহ্বায়ক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের বিজয় ভোজের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। খাবারের জন্য বরিশালের সবচেয়ে ভালো দুটি রেস্টুরেন্ট বাছাই করা হয়েছে। প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থীর জন্য খাবার প্রস্তুত করা হয়েছে। একটি রেস্টুরেন্টের পক্ষে এত খাবার সরবরাহ করা সম্ভব নয় বলে দুটি রেস্টুরেন্টে অর্ডার দিয়েছি। অর্ডার দেওয়ার আগে আমরা খাবার যাচাই করে দেখেছি, তবে এত খাবার সরবরাহের সময় কিছু প্যাকেটে মানের সমস্যা হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু সরবরাহকারী রেস্টুরেন্টের কারণে কিছু অসুবিধা হতে পারে। এত বড় পরিসরে কিছু সমস্যা হওয়াটাই স্বাভাবিক।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, “আমি খাবারের সময় বিভিন্ন বিভাগে গিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে খোঁজ নিয়েছি, তারা খাবারের মান ভালো বলেছে। তবুও যেহেতু অভিযোগ এসেছে, আমি বিষয়টি দেখব।”