চট্টগ্রামে প্রধান বিচারপতি
বিচার বিভাগ নতুন যুগে প্রবেশ করেছে
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:৩৬:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 62
বিচারব্যবস্থায় গত দেড় বছরে যে কাঠামোগত ও নীতিগত পরিবর্তন এসেছে, তা দেশের বিচারিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। তাঁর মতে, এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে বিচার বিভাগ একটি নতুন প্রাতিষ্ঠানিক পর্বে প্রবেশ করেছে।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু বে-ভিউ হোটেলে আয়োজিত ‘অপারেশনালাইজিং কমার্শিয়াল কোর্ট’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)।
প্রধান বিচারপতি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ কার্যকর হওয়ায় বহুদিনের প্রশাসনিক জটিলতা দূর হয়েছে। প্রথমবারের মতো সুপ্রিম কোর্ট নিজস্ব প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা পেয়েছে, যা বিচার বিভাগকে পদ সৃষ্টি, বাজেট প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণ উন্নয়ন ও নীতিমালা প্রণয়ন—এসব ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিচ্ছে। তাঁর মতে, এটি বিচার সংস্কারকে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।
তিনি আরও বলেন, দ্রুত বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী বিশেষায়িত বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে। শিগগিরই এই বিশেষ আদালত কার্যক্রম শুরু করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দিনের দ্বিতীয় সেশনে ইউএনডিপি ও আইন মন্ত্রণালয়ের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অর্ডিনেন্স ২০২৫’ বিষয়ক আলোচনায় আইন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মারুফ আল্লাম বলেন, নতুন আইনে মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী তদন্তকারী সংস্থায় রূপান্তর করা হয়েছে।
নতুন বিধানে সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী ও পুলিশসহ সব বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ স্বাধীনভাবে তদন্ত করতে পারবে কমিশন। আগে কমিশনের ভূমিকা ছিল পরামর্শমূলক, এখন তা কার্যকর ক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
সেমিনারে বক্তারা জানান; ৩০ দিনের মধ্যে প্রাথমিক অনুসন্ধান, ৬০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করার বাধ্যবাধকতা , আর্থিক জরিমানার বিধান এবং অনুমতি ছাড়াই যে কোনো প্রতিষ্ঠানে কমিশনের আকস্মিক পরিদর্শন; এসব ব্যবস্থা কমিশনকে আরও কার্যকর করবে।
আলোচনায় অংশ নেন ব্যারিস্টার তানিম হোসাইন শাওন, ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি রোমানা সোয়েভার এবং সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি আনোয়ারুল হক। তারা বলেন, নতুন আইন মানবাধিকার সুরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে।
































