বিচারক বললেন, ‘অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত, প্রতারণা করেছেন’
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৭:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
- / 78
ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ বৃহস্পতিবার ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত তিন মামলার রায় ঘোষণা করেছে। আদালত ৩ মামলায় শেখ হাসিনাকে ৭ বছর করে মোট ২১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। এছাড়া প্রতিটি মামলায় এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে, যা অনাদায়ে আরও ৬ মাস করে কারাদণ্ডে পরিণত হবে।
রায়ে তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এক মামলায় ৫ বছরের, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এক মামলায় ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড পেয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের আওতায় এসেছে। তবে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকারকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেওয়া হয়েছে।
বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের জন্য প্লট বরাদ্দ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় বিধি লঙ্ঘন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “রাজউক এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় অন্যায় করেছে। শেখ হাসিনা অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত, প্রতারণা করেছেন। তিনি এটা না পেলে কোনো সৎ লোক হয়তো পেতেন।”
পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, চারবারের প্রধানমন্ত্রী হয়েও শেখ হাসিনার সম্পদের প্রতি লোভ ছিল; নিজের প্লট নেওয়ার পর ছেলে ও মেয়ের জন্যও বরাদ্দের আবেদন করেছেন।
দুদক প্রসিকিউটর মইনুল হাসান বলেন, “শেখ হাসিনাকে তিন মামলায় ৭ বছর করে ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম প্রত্যেক মামলায় সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন হতো। দোষী প্রমাণিত হলেও সর্বোচ্চ সাজা না হওয়ায় আমরা এই রায়ে অখুশি। হাইকোর্টে আপিল করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।”
বিচারক রায়ে অন্যান্য আসামিদেরও বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন, তবে কিছু অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পাওয়া হয়েছে। মামলার মূল বিষয়বস্তু ছিল শেখ হাসিনার জন্য পূর্বাচল নতুন শহরে সরকারি প্লট বরাদ্দের প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও হলফনামায় মিথ্যা তথ্য প্রদান।































