ঢাকা ০১:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিক্ষোভের মুখে ইউরোপের আরও এক দেশে সরকার পতন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৫:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 88

বিক্ষোভের মুখে ইউরোপের আরও এক দেশে সরকার পতন

বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী রোসেন ঝেলিয়াজকভ বৃহস্পতিবার তার সরকারের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। দেশের অর্থনৈতিক নীতি ও দুর্নীতি দমনে ব্যর্থতার অভিযোগে কয়েক সপ্তাহের ধারাবাহিক বিক্ষোভের পর তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন।

পার্লামেন্টে নিজের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবে ভোট হওয়ার কয়েক মিনিট আগে টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে ঝেলিয়াজকভ পদত্যাগ ঘোষণা করেন।

ইউরোজোনে যোগদানের ঠিক আগে এ পদত্যাগ আসে—দেশটি ১ জানুয়ারি থেকে ইউরো মুদ্রা ব্যবহারে রূপান্তরিত হওয়ার কথা।

ঝেলিয়াজকভ বলেন, ‘আমাদের জোট বৈঠক করেছে। বর্তমান পরিস্থিতি, আমরা যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি এবং যে সিদ্ধান্তগুলো দায়িত্ব নিয়ে নিতে হবে—সবই আমরা আলোচনা করেছি। সমাজ আমাদের কাছ থেকে যা প্রত্যাশা করে, আমরা সেই উচ্চতায় থাকতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষমতা মানুষের কণ্ঠ থেকেই আসে।’

হাজারো বুলগেরীয় বুধবার সন্ধ্যায় সোফিয়া ও দেশজুড়ে ডজন ডজন শহরে রাস্তায় নেমে আসে—এটি ছিল ধারাবাহিক বিক্ষোভের সর্বশেষ ধাপ, যা দীর্ঘদিন ধরে চলা দুর্নীতি এবং টানা সরকারগুলোর ব্যর্থতার প্রতি জনঅসন্তোষ স্পষ্ট করেছে।

গত সপ্তাহে বিক্ষোভের মুখে ঝেলিয়াজকভ সরকার ২০২৬ সালের বাজেট পরিকল্পনা ফিরিয়ে নেয়—যা প্রথমবার ইউরোতে প্রস্তুত করা হয়েছিল। বিরোধী দল ও বিভিন্ন সংগঠন সামাজিক নিরাপত্তা অনুদান এবং লভ্যাংশের ওপর কর বাড়ানোর প্রস্তাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল, যা বাড়তি সরকারি ব্যয় মেটাতে আনতে চেয়েছিল সরকার।

সরকার বাজেট পরিকল্পনা প্রত্যাহার করলেও বিক্ষোভ থামেনি। দেশটিতে গভীর রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভেদের কারণে গত চার বছরে সাতটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছে ২০২৪ সালের অক্টোবরে।
সপ্তাহের শুরুতে প্রেসিডেন্ট রুমেন রাদেভও সরকারকে পদত্যাগের আহ্বান জানান। ফেসবুকে দেওয়া বার্তায় তিনি আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে লেখেন, ‘জনগণের কণ্ঠস্বর আর মাফিয়ার ভয়—চত্বরগুলো যে কথা বলছে, তা শোনো!’

বুলগেরিয়ার সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমিত। এখন তিনি সংসদে দলগুলোকে নতুন সরকার গঠনের সুযোগ দেবেন। আর যদি তা সম্ভব না হয়, তিনি একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসন নিয়োগ করবেন, যা নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত দেশ পরিচালনা করবে।

সূত্র: রয়টার্স

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বিক্ষোভের মুখে ইউরোপের আরও এক দেশে সরকার পতন

সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৫:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী রোসেন ঝেলিয়াজকভ বৃহস্পতিবার তার সরকারের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। দেশের অর্থনৈতিক নীতি ও দুর্নীতি দমনে ব্যর্থতার অভিযোগে কয়েক সপ্তাহের ধারাবাহিক বিক্ষোভের পর তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন।

পার্লামেন্টে নিজের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবে ভোট হওয়ার কয়েক মিনিট আগে টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে ঝেলিয়াজকভ পদত্যাগ ঘোষণা করেন।

ইউরোজোনে যোগদানের ঠিক আগে এ পদত্যাগ আসে—দেশটি ১ জানুয়ারি থেকে ইউরো মুদ্রা ব্যবহারে রূপান্তরিত হওয়ার কথা।

ঝেলিয়াজকভ বলেন, ‘আমাদের জোট বৈঠক করেছে। বর্তমান পরিস্থিতি, আমরা যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি এবং যে সিদ্ধান্তগুলো দায়িত্ব নিয়ে নিতে হবে—সবই আমরা আলোচনা করেছি। সমাজ আমাদের কাছ থেকে যা প্রত্যাশা করে, আমরা সেই উচ্চতায় থাকতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষমতা মানুষের কণ্ঠ থেকেই আসে।’

হাজারো বুলগেরীয় বুধবার সন্ধ্যায় সোফিয়া ও দেশজুড়ে ডজন ডজন শহরে রাস্তায় নেমে আসে—এটি ছিল ধারাবাহিক বিক্ষোভের সর্বশেষ ধাপ, যা দীর্ঘদিন ধরে চলা দুর্নীতি এবং টানা সরকারগুলোর ব্যর্থতার প্রতি জনঅসন্তোষ স্পষ্ট করেছে।

গত সপ্তাহে বিক্ষোভের মুখে ঝেলিয়াজকভ সরকার ২০২৬ সালের বাজেট পরিকল্পনা ফিরিয়ে নেয়—যা প্রথমবার ইউরোতে প্রস্তুত করা হয়েছিল। বিরোধী দল ও বিভিন্ন সংগঠন সামাজিক নিরাপত্তা অনুদান এবং লভ্যাংশের ওপর কর বাড়ানোর প্রস্তাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল, যা বাড়তি সরকারি ব্যয় মেটাতে আনতে চেয়েছিল সরকার।

সরকার বাজেট পরিকল্পনা প্রত্যাহার করলেও বিক্ষোভ থামেনি। দেশটিতে গভীর রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভেদের কারণে গত চার বছরে সাতটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছে ২০২৪ সালের অক্টোবরে।
সপ্তাহের শুরুতে প্রেসিডেন্ট রুমেন রাদেভও সরকারকে পদত্যাগের আহ্বান জানান। ফেসবুকে দেওয়া বার্তায় তিনি আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে লেখেন, ‘জনগণের কণ্ঠস্বর আর মাফিয়ার ভয়—চত্বরগুলো যে কথা বলছে, তা শোনো!’

বুলগেরিয়ার সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমিত। এখন তিনি সংসদে দলগুলোকে নতুন সরকার গঠনের সুযোগ দেবেন। আর যদি তা সম্ভব না হয়, তিনি একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসন নিয়োগ করবেন, যা নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত দেশ পরিচালনা করবে।

সূত্র: রয়টার্স