বিকেলে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’, রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:১৬:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫
- / 157
৫ আগস্ট, মঙ্গলবার; বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। আজ গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের এক বছর পূর্ণ হলো। এই উপলক্ষে বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করবেন। একইদিন রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বহু প্রতীক্ষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় ঘোষণা করতে পারেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, বিকাল ৫টায় অনুষ্ঠিতব্য অনুষ্ঠানটি হবে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়, যেখানে ড. ইউনূস ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ জাতির সামনে তুলে ধরবেন। এরপর রাতেই তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন বলে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
ভাষণে ড. ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরের অর্জন, ‘জুলাই গণহত্যা’ তদন্তে অগ্রগতি এবং চলমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের সারসংক্ষেপ তুলে ধরবেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, তিনি ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন কবে হতে পারে, তার সম্ভাব্য সময়সীমা নির্দিষ্ট করতে পারেন।
ভোটের সম্ভাব্য সময়সীমা ঘোষণার পরে, নির্বাচন কমিশনকে তফসিল ঘোষণা করার আহ্বান জানাতে পারেন প্রধান উপদেষ্টা। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, কমিশন ইতোমধ্যেই প্রস্তুতির চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে এবং প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করছে।
তিনি বলেন, “জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই আমরা সব প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া টাইমলাইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। সে অনুযায়ী জনগণকে জানানো হবে।”
নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সেনাবাহিনী, পুলিশ ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়েছে। ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত বৈঠকে সেনা-পুলিশ-প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের নির্দেশ দেন ড. ইউনূস।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, সেপ্টেম্বর থেকে প্রায় দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে নির্বাচনী প্রস্তুতিমূলক বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যা চলবে অক্টোবর ও নভেম্বর মাস জুড়ে। পাশাপাশি সেনাবাহিনীও মাঠে সক্রিয় থাকবে। ইতোমধ্যে ৫ আগস্ট থেকেই সেনা মোতায়েন শুরু হয়েছে, এবং নির্বাচনকালে প্রায় ৬০ হাজার সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। সেনাবাহিনীর বিচারিক ক্ষমতাও থাকবে।
গত ২৬ জুলাই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ড. ইউনূসের নেতৃত্বে ১৪টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে সংলাপ হয়। ওই বৈঠকে তিনি নির্বাচনের সময়সূচি দ্রুত প্রকাশের অঙ্গীকার করেন। বৈঠক শেষে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা আমাদের জানিয়েছেন, আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যেই তিনি নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করবেন।” এরই ধারাবাহিকতায়, আজকের ভাষণে সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়িত হতে পারে।
গত ১৩ জুন লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে ড. ইউনূস নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছান। বৈঠক পরবর্তী যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধে নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এর আগে যদি সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়, তাহলে রমজান শুরুর আগেই নির্বাচন আয়োজন সম্ভব।

তবে সেই পরিস্থিতি নির্ভর করছে বিচার ও সংস্কারমূলক কার্যক্রমে সন্তোষজনক অগ্রগতির ওপর।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা ছাড়ে আওয়ামী লীগ সরকার। তারপর ৮ আগস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। শুরুতে সিদ্ধান্ত ছিল, ৫ আগস্টে ঘোষণা আর ৮ আগস্টে ভাষণ দেবেন তিনি। তবে গণ-অভ্যুত্থানের প্রতীকী গুরুত্ব বিবেচনায় আজকের দিনেই ভাষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্রগুলো থেকে ইঙ্গিত মিলেছে, আজকের ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরের কর্ম-প্রতিবেদন তুলে ধরার পাশাপাশি ড. ইউনূস আগামী জাতীয় নির্বাচনের মাস উল্লেখ করে একটি সময়রেখা ঘোষণা করতে পারেন। এর মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ধাপে প্রবেশ করবে বাংলাদেশ।
এছাড়া, ভাষণে তিনি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের রূপরেখাও উপস্থাপন করতে পারেন, যা আগামী নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, গ্রহণযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাই; ২০২৬ সালের নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময় কীভাবে ঘোষণা করবেন প্রধান উপদেষ্টা? জাতি আজ রাতেই সে উত্তরের জন্য অপেক্ষা করছে।































