সীমান্ত হত্যা নিয়ে
বিএসএফ ডিজির মন্তব্যে বিজিবি ডিজির দ্বিমত
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:১৩:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫
- / 158
সীমান্তে জীবনসংকটাপন্ন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেই কেবল মারণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়; ভারতীয় বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মহাপরিচালক (ডিজি) দালজিৎ সিং চৌধুরীর এমন মন্তব্যে দ্বিমত জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ডিজি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৬তম সীমান্ত সম্মেলনের শেষ দিনে পিলখানাস্থ বিজিবি সদর দপ্তরের শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সীমান্তে হত্যা বন্ধের বিষয়ে বিজিবি ও বিএসএফ কী ধরনের সিদ্ধান্তে উপনীত হলো, এমন প্রশ্নের জবাবে বিএসএফ ডিজি বলেন, ‘চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৩৫ জন বিএসএফ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন অনুপ্রবেশকারীদের ধারাল অস্ত্রের হামলায়। সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ সদস্যরা প্রথমে সতর্ক করে বাধা দেন এবং শেষ পদক্ষেপ হিসেবে গুলি চালানো হয়।’
তার এমন মন্তব্যের পরই তাৎক্ষণিক দ্বিমত জানান বিজিবি মহাপরিচালক। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি একজন অল্প বয়সী বাংলাদেশি নাগরিককে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করেছে বিএসএফ। ওই শিশুটি বর্ডার নিরাপত্তার জন্য কতটুকু ঝুঁকিপূর্ণ ছিল?’
যদিও এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান বিএসএফ ডিজি।
তবে সীমান্ত হত্যা নিয়ে সার্বিকভাবে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ‘এটা নিয়ে এবার সীমান্ত সম্মেলনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়েছে। সীমান্তে মরণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রাতের বেলায় টহল জোরদার করে সীমান্ত হত্যার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সে ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। উভয় পক্ষ যৌথভাবে সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচি গ্রহণ, সীমান্তের অলঙ্ঘনীয়তা সম্পর্কে প্রচারণা প্রদান এবং অপরাধীদের আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম প্রতিরোধের মাধ্যমে এ ধরনের আক্রমণ, নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা শূন্যে নামিয়ে আনার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।’
এবারের সম্মেলনে বিশেষ গুরুত্ব পায় পুশ-ব্যাক ও পুশ-ইনের বিষয়টিও। এ প্রসঙ্গে দালজিৎ সিং চৌধুরী বলেন, ‘যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বাংলাদেশে পুশ-ইন করানো হচ্ছে। শুধু যারা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী তাদের বিরুদ্ধেই নিয়ম মেনে পুশ-ইন করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৫৫০ জনকে বিজিবির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত দুই হাজার ৪০০ কেস যাচাই প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, বাংলাদেশ হাইকমিশন সহযোগিতা করছে।’
পুশ-ইনের নামে কেন ভারতে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে বিএসএফ? এ ছাড়া কিছু ক্ষেত্রে ভারতীয় নাগরিকদেরও বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে; এমন প্রশ্ন করা হলে বিএসএফ মহাপরিচালক বলেন, ‘আমরা আইনের মধ্য থেকে যথাযথ চ্যানেলে পুশ-ইন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছি। যদি এমন (ভারতে আশ্রিত রোহিঙ্গা বা ভারতীয় নাগরিক) কোনো ঘটনা ঘটে থাকে, যথাযথ প্রক্রিয়ায় জানানো হলে ভারত সহযোগিতা করবে।’
বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে চার দিনব্যাপী (২৫-২৮ আগস্ট) মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৬তম সীমান্ত সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সকালে রাজধানীর পিলখানাস্থ বিজিবি সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা শুরু হয়।
সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ২১ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, সড়ক বিভাগ, ভূমি জরিপ অধিদপ্তর, যৌথ নদী কমিশন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ছিলেন।
অপরদিকে, বিএসএফ মহাপরিচালক শ্রী দালজিৎ সিং চৌধুরী, আইপিএস-এর নেতৃত্বে ১১ সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধিদল সম্মেলনে অংশ নেয়। ভারতীয় প্রতিনিধিদলে বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ভারতের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তারা ছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
আজই ভারতীয় প্রতিনিধিদল ভারতে প্রত্যাবর্তন করবে। সমাপনী সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীসহ বিজিবির শীর্ষ কর্মকর্তারা।






































