ঢাকা ০১:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিএসএফের নির্যাতনে দুই বাংলাদেশির মৃত্যু, পদ্মায় মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:৪৫:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫
  • / 204

বিএসএফের নির্যাতনে দুই বাংলাদেশির মৃত্যু, পদ্মায় মরদেহ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মাসুদপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক নির্যাতনে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নিহতরা হলেন শফিকুল ইসলাম ও সেলিম রেজা।

স্থানীয়দের দাবি, নির্যাতনের পর তাদের মরদেহ পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। শনিবার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের বাতাসির ঘাট এলাকা থেকে বিজিবি, পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় নৌ-পুলিশ তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত শফিকুল ইসলাম শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের তারাপুর হঠাৎপাড়া গ্রামের সেরাজুল ইসলামের ছেলে এবং সেলিম রেজা একই এলাকার মৃত মূর্তুজা রেজার ছেলে।

৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফাহাদ মাহমুদ রিংকু এবং শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়া সুনির্দিষ্ট কিছু জানাতে পারেননি বিজিবি বা পুলিশ।

স্থানীয় ও পরিবারসূত্রে জানা গেছে, নিহত শফিকুল ও সেলিম পেশায় মৎস্যজীবী হলেও সীমান্তে চোরাচালানেও জড়িত ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) তারা পদ্মা নদীপথে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে যান। এরপর থেকেই তারা নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের দাবি, তারা মাছ ধরতে গিয়েছিল।

শনিবার বিকেলে স্থানীয়রা প্রথমে পদ্মা নদীতে শফিকুলের মরদেহ ভাসতে দেখেন এবং বিজিবিকে খবর দেন। পরে বিজিবি ও পুলিশের সহায়তায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সন্ধ্যার দিকে একই এলাকায় সেলিম রেজার মরদেহও ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়।

নিহত শফিকুলের বোনজামাই ও মনাকষা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সমীর উদ্দিন বলেন, ‘তাদের মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। শরীরজুড়ে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। কিছু দগ্ধ অংশ দেখে মনে হয়েছে অ্যাসিড বা রাসায়নিক কিছু দিয়ে পোড়ানো হয়েছে। শফিকুলের দাঁতের অনেকগুলো ভেঙে গেছে। আমাদের ধারণা, ভারতের নিমতিতা ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা নির্যাতন করে তাদের হত্যা করেছে এবং পরে মরদেহ নদীতে ফেলে দিয়েছে।’

৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফাহাদ মাহমুদ রিংকু বলেন, ‘এখনও পর্যন্ত নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তবে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি জানার পর সীমান্তের ক্যাম্প কমান্ডার পর্যায়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা জানিয়েছে, সীমান্তে কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাটি একেবারে সীমান্ত এলাকায় হওয়ায় পুলিশকে আমরা সহযোগিতা করেছি।’

শিবগঞ্জ থানার ওসি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘বিজিবির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নৌ-পুলিশের সহায়তায় পদ্মা নদী থেকে শফিকুল ও সেলিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। মরদেহ নৌ-পুলিশের মাধ্যমে মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বিএসএফের নির্যাতনে দুই বাংলাদেশির মৃত্যু, পদ্মায় মরদেহ

সর্বশেষ আপডেট ০৭:৪৫:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মাসুদপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক নির্যাতনে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নিহতরা হলেন শফিকুল ইসলাম ও সেলিম রেজা।

স্থানীয়দের দাবি, নির্যাতনের পর তাদের মরদেহ পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। শনিবার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের বাতাসির ঘাট এলাকা থেকে বিজিবি, পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় নৌ-পুলিশ তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত শফিকুল ইসলাম শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের তারাপুর হঠাৎপাড়া গ্রামের সেরাজুল ইসলামের ছেলে এবং সেলিম রেজা একই এলাকার মৃত মূর্তুজা রেজার ছেলে।

৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফাহাদ মাহমুদ রিংকু এবং শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়া সুনির্দিষ্ট কিছু জানাতে পারেননি বিজিবি বা পুলিশ।

স্থানীয় ও পরিবারসূত্রে জানা গেছে, নিহত শফিকুল ও সেলিম পেশায় মৎস্যজীবী হলেও সীমান্তে চোরাচালানেও জড়িত ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) তারা পদ্মা নদীপথে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে যান। এরপর থেকেই তারা নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের দাবি, তারা মাছ ধরতে গিয়েছিল।

শনিবার বিকেলে স্থানীয়রা প্রথমে পদ্মা নদীতে শফিকুলের মরদেহ ভাসতে দেখেন এবং বিজিবিকে খবর দেন। পরে বিজিবি ও পুলিশের সহায়তায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সন্ধ্যার দিকে একই এলাকায় সেলিম রেজার মরদেহও ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়।

নিহত শফিকুলের বোনজামাই ও মনাকষা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সমীর উদ্দিন বলেন, ‘তাদের মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। শরীরজুড়ে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। কিছু দগ্ধ অংশ দেখে মনে হয়েছে অ্যাসিড বা রাসায়নিক কিছু দিয়ে পোড়ানো হয়েছে। শফিকুলের দাঁতের অনেকগুলো ভেঙে গেছে। আমাদের ধারণা, ভারতের নিমতিতা ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা নির্যাতন করে তাদের হত্যা করেছে এবং পরে মরদেহ নদীতে ফেলে দিয়েছে।’

৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফাহাদ মাহমুদ রিংকু বলেন, ‘এখনও পর্যন্ত নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তবে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি জানার পর সীমান্তের ক্যাম্প কমান্ডার পর্যায়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা জানিয়েছে, সীমান্তে কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাটি একেবারে সীমান্ত এলাকায় হওয়ায় পুলিশকে আমরা সহযোগিতা করেছি।’

শিবগঞ্জ থানার ওসি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘বিজিবির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নৌ-পুলিশের সহায়তায় পদ্মা নদী থেকে শফিকুল ও সেলিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। মরদেহ নৌ-পুলিশের মাধ্যমে মর্গে পাঠানো হয়েছে।’