বিএনপি কৃষকদের ক্ষমতায়ন করবে: তারেক রহমান
- সর্বশেষ আপডেট ০১:২৭:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫
- / 280
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, কৃষকের পরিশ্রম ও ত্যাগে বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। বগুড়ার উর্বর মাঠ থেকে বরিশালের ভাসমান বাগান পর্যন্ত প্রতিটি শস্যদানার ভেতর লুকিয়ে আছে কৃষকের সহনশীলতার গল্প এবং দেশের ভবিষ্যৎ।
বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে তিনি বলেন, সত্যিকারের খাদ্য নিরাপত্তা সম্ভব সরকারের, কৃষক, উদ্যোক্তা ও জনগণের যৌথ অংশীদারিত্বের মাধ্যমে।
তারেক রহমান উল্লেখ করেন, জাতীয় নেতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দুর্ভিক্ষ ও হতাশার মধ্যে নেতৃত্ব দিয়েছেন। খাদ্য নিরাপত্তা ছাড়া স্বাধীনতার অর্থ অসম্পূর্ণ। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ নির্ভরতা থেকে মর্যাদার পথে যাত্রা শুরু করে। প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মে এগিয়ে নিয়েছেন। সার ভর্তুকি, গ্রামীণ বিদ্যুতায়ন এবং ‘কাজের বিনিময়ে খাদ্য’ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষককে ক্ষমতায়ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি, পানিসঙ্কট ও জলবায়ু হুমকির মুখোমুখি। এছাড়া দেশ ১১.৫ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিচ্ছে, যেখানে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় পরিবারগুলো মাত্র সীমিত খাদ্য সহায়তায় টিকে আছে। বিএনপি বিশ্বাস করে, সরকারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থা, দাতা দেশ ও বেসরকারি অংশীদারদের সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
খাদ্য ও কৃষি নিরাপত্তায় বিএনপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি কৃষককে নিরাপদ ডিজিটাল পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে সরাসরি সার, ভর্তুকি, ন্যায্যমূল্য, ঋণ, ফসল বিমা ও সরকারি ক্রয়ে অংশ নেওয়া সম্ভব হবে। ফলে কৃষক জাতীয় অর্থনীতির প্রকৃত অংশীদার হবেন।
বন, নদী ও খাল পুনঃউদ্ধার, সম্প্রদায়ভিত্তিক সেচব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন এবং আধুনিক ব্যারাজ নির্মাণের মাধ্যমে পানির প্রবাহ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। ‘অলটারনেট ওয়েটিং অ্যান্ড ড্রায়িং’ পদ্ধতিতে ধান চাষ সম্প্রসারণ করা হবে, যা কার্বন নিঃসরণ কমাবে, পানি সাশ্রয় করবে এবং বাংলাদেশকে কার্বন ক্রেডিট থেকে আয় করতে সহায়তা করবে।
‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ কর্মসূচির মাধ্যমে নারীদের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় নেতৃত্ব দেওয়া হবে। কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাতে ১৩ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। আধুনিক গুদাম ও কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন, তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং চক্রাকার অর্থনীতি গড়ে তোলা হবে। গ্রামীণ বায়োগ্যাস কেন্দ্র ও বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি হবে টেকসই।
কৃষি গবেষণা, সম্প্রসারণ ও প্রশিক্ষণ আধুনিকায়ন করে মানসম্পন্ন বীজ, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
তারেক রহমান বলেন, ‘‘এক অনিশ্চিত বিশ্বে বাংলাদেশ উদাহরণ হতে পারে—যেখানে খাদ্য নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন ও কৃষকের মর্যাদা বাস্তব রূপ পায়। বাংলাদেশের শক্তি সবসময় ছিল সেই হাতে, যে হাত মাটিতে চাষ করে। বিএনপি সেই হাতগুলোকে ক্ষমতায়িত করবে—যাতে তারা গড়ে তোলে বাংলাদেশের আগামী।’’
































