বিএনপি–এনসিপির মধ্যে ঐক্য প্রয়োজন: পাটওয়ারী
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:২১:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 67
বিএনপি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) গণতান্ত্রিক জাতীয়তাবাদী ধারার দুটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি উল্লেখ করে দুই দলের মধ্যে দায়িত্বশীল ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই ঐক্যের জন্য কয়েকটি শর্তও তুলে ধরেন।
তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটকে আমরা বহুদিন ধরে ব্যক্তি ও দলের সংকট হিসেবে দেখার ভুল করেছি। এই সংকট বেগম জিয়া বা তারেক জিয়ার নয়—এটি গভীরতর রাষ্ট্রগত সংকট, যা ব্যক্তিনির্ভর ব্যাখ্যার ঊর্ধ্বে। পরিবারতন্ত্রের যে দুর্বলতা দীর্ঘদিন বিএনপিকে জর্জরিত করেছে, সেই জায়গায় সংস্কারের পথ আমরা স্পষ্ট করেছি। ফলে বিএনপি যখন জনগণের কাছে তাদের ঐতিহাসিক আবেদন হারিয়েছে, তখন তারা প্রতিষ্ঠানের ছায়ায় আশ্রয় খুঁজেছে। তবুও আশা থাকে—নতুন প্রজন্ম যদি সত্যিই জেগে ওঠে, তারা পরিবারতন্ত্রের গণ্ডি ভেঙে আবারও জনরাজনীতিতে ফিরে আসতে পারবে। ভারতের কংগ্রেসও আজ একই পথ খুঁজছে—পরিবারতন্ত্রের শেকল ভেঙে পুনর্গঠনের পথ।’
দেশের বড় সংকটকে দুই রাজনৈতিক ধারার—মুজিববাদ ও মওদূদীবাদ—আধিপত্যে আটকে থাকা বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, গত পাঁচ দশক ধরে বাংলাদেশ ছিল ভারত–পাকিস্তানের রাজনৈতিক প্রক্সি যুদ্ধের ক্ষেত্র, যার নিয়ন্ত্রণে কখনো মুজিববাদ, কখনো মওদূদীবাদ ছিল। এই দ্বৈত আধিপত্য রাষ্ট্র, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও প্রশাসনের কাঠামোকে দুর্বল করেছে।
‘প্রক্সি রাজনীতি’র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘২০২৪-এর গণ–অভ্যুত্থানের পর আমাদের লক্ষ্য ছিল প্রক্সি রাজনীতির দাসত্ব থেকে বের হয়ে সাম্য, মর্যাদা ও ন্যায়বিচারভিত্তিক নতুন রাষ্ট্র কাঠামো গড়া। কিন্তু দুঃখজনকভাবে শিবির তাদের কিছু কল্যাণমূলক কাজের আড়ালে ছাত্রসমাজকে জামায়াতের হাতে তুলে দিল—কিছু পদ–পদবি ও আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে। ফলে দেশ আবারও পুরোনো প্রক্সি রাজনীতির ঘূর্ণিপাকে ফিরে গেল। এখন দেশপ্রেমিক শক্তির সামনে দুটি যুদ্ধ:
১. মুজিববাদ ও মওদূদীবাদের কর্তৃত্ববাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়াই
২. একটি ন্যায়ভিত্তিক, আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের সংগ্রাম।’
তার মতে, এই দুই যুদ্ধ কোনো একক দল লড়তে পারবে না। বিএনপি ও এনসিপি—গণতান্ত্রিক জাতীয়তাবাদী ধারার দুই শক্তির মধ্যে দায়িত্বশীল ঐক্য জরুরি। তবে এ ঐক্যের শর্ত আছে। বিএনপিকে পুরোনো সীমাবদ্ধতা ও পরিবারতন্ত্রের ছায়া থেকে বের হয়ে সংস্কারের পথে হাঁটতে হবে। একই সঙ্গে ভারতের প্রভাব–রাজনীতির দিকে ঝুঁকে থাকা শক্তিগুলোকে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মূলধারায় ফিরতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘এনসিপি কোনো অবস্থাতেই এই দায়িত্ব থেকে সরে যাবে না। আমাদের চারটি প্রশ্নে আপস নেই—
১. বাংলাদেশের পুনর্গঠন
২. সার্বভৌম মর্যাদা
৩. ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ
৪. নাগরিক অধিকার, স্বাধীনতা ও সম্মান।’
ঐক্য হোক বা না হোক—এনসিপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের আদর্শিক লড়াই চালিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টের শেষে তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের পথ আটকে আছে দুটি ফ্যাসিবাদী প্রক্সির হাতে—মুজিববাদ ও মওদূদীবাদের আধিপত্যে। এই প্রক্সির শাসন কাঠামো ভেঙে যদি আমরা একটি ন্যায়ভিত্তিক, সৎ, জাতীয় রাষ্ট্র গড়তে চাই, তবে প্রতিটি নাগরিককে এই ঐতিহাসিক পুনর্গঠনের কাজে শামিল হতে হবে। এটি কেবল নির্বাচন বা ক্ষমতার লড়াই নয়—এটি বাংলাদেশের আত্মাকে পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম। বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে আগে তার রাজনীতিকে প্রক্সির ছায়া থেকে মুক্ত করতে হবে।’































