বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: পথচলা, অর্জন ও চ্যালেঞ্জ
- সর্বশেষ আপডেট ১০:০৫:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 151
দীর্ঘ ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে ৪৭ বছর পূর্ণ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দলটি একাধিকবার রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলেও অধিকাংশ সময় অতিবাহিত হয়েছে আন্দোলন, বিরোধিতা ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে। আজ (১ সেপ্টেম্বর) দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হচ্ছে বড় আয়োজনে, সাত দিনের কর্মসূচির মাধ্যমে।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর মৃত্যুর পর ১৯৮১ সালে খালেদা জিয়া দলের হাল ধরেন এবং তিনবার দলকে ক্ষমতায় নিয়ে আসেন। আশির দশকে এরশাদ সরকারের সময়, ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেন পরিস্থিতি এবং আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে বিএনপি একাধিকবার সংকটে পড়লেও ভাঙন এড়াতে সক্ষম হয়। বর্তমানে দলটি দাবি করছে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পতনের পর তারা নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মতে, হামলা-মামলা, গুম-খুন, দমন-পীড়নসহ বহু বাধা সত্ত্বেও নেতাকর্মীদের আস্থা ও ঐক্যের কারণে দলটি টিকে আছে। তবে সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে;
সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা
ভোট বানচালের প্রচেষ্টা মোকাবিলা করা
জনপ্রিয় প্রার্থী বাছাই ও মিত্রদের সঙ্গে আসন সমঝোতা করা
দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিএনপিকে শুধু আন্দোলনের দল হিসেবে নয়, একটি দায়িত্বশীল বিকল্প সরকার হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর অবস্থান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সুসংহত করা এবং জনগণের আস্থা অর্জন করাই হবে বড় পরীক্ষা।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক বার্তায় বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাই বিএনপির মূল লক্ষ্য। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অবাধ নির্বাচন ও জবাবদিহিমূলক সরকার গঠন জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে অঙ্গীকারবদ্ধ। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে আগ্রহী, এবং দলটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত।
দলটি বর্তমানে জনপ্রিয়তা পুনরুদ্ধারের দাবি করলেও কিছু জায়গায় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। বিএনপি নেতৃত্ব বলছে, এসব কর্মকাণ্ডে তারা জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে এবং অপকর্মে জড়িতদের শাস্তি দিচ্ছে। তবে এ নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অপপ্রচারও চলছে বলে মনে করছে দলটি।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাত দিনব্যাপী নানা আয়োজন করা হয়েছে।
১ সেপ্টেম্বর: নয়াপল্টনে পতাকা উত্তোলন, জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন, জেলা-উপজেলায় আলোচনা সভা ও র্যালি।
২ সেপ্টেম্বর: রাজধানীতে কেন্দ্রীয় র্যালি।
৩ সেপ্টেম্বর: উপজেলা ও পৌরসভায় র্যালি ও আলোচনা সভা।
পরবর্তী দিনগুলোতে: গোলটেবিল বৈঠক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বৃক্ষরোপণ, মৎস্য অবমুক্তকরণ, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা।
চার দশকের বেশি সময়ের রাজনৈতিক যাত্রায় বিএনপি বারবার উত্থান-পতনের মুখোমুখি হয়েছে। এখন সামনে তাদের মূল চ্যালেঞ্জ হলো গণতান্ত্রিক প্রজ্ঞা প্রদর্শন করে জনগণের আস্থা অর্জন, ঐক্যবদ্ধ থেকে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য লড়াই করা এবং ভবিষ্যতের জন্য সুস্পষ্ট পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরা। প্রতিষ্ঠার ৪৭ বছর পূর্তিতে দলটির কাছে এটিই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
































