ঢাকা ০৪:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে বোয়ালমারী রণক্ষেত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:৩৮:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫
  • / 72

বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে বোয়ালমারী রণক্ষেত্র

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা সদর শুক্রবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে। ৭ নভেম্বরের কর্মসূচি ঘিরে এই সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এসময় প্রায় ২০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়, পাশাপাশি একটি শপিং কমপ্লেক্সও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে দুটি ভাগে বিভক্ত। একদল কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলামের অনুসারী, অপর দল উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনুর নেতৃত্বাধীন। সম্প্রতি নতুন কমিটি গঠনের পর থেকে তাদের বিরোধ আরও তীব্র হয়।

৭ নভেম্বরের কর্মসূচি ঘিরে উভয়পক্ষ পৃথকভাবে র‌্যালির ঘোষণা দেয়। সকাল থেকেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে। বিকেল ৪টার দিকে উভয়পক্ষের মিছিল মুখোমুখি হলে শুরু হয় ইটপাটকেল নিক্ষেপ। পরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে। এ সময় কাজী হারুন শপিং কমপ্লেক্সের সামনে মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং কমপ্লেক্সটির কিছু অংশেও ভাঙচুর চলে।

আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উত্তেজিত কর্মীরা তাদের ফেরত পাঠিয়ে দেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে লিয়াকত হোসেন, মিনহাজুর রহমান লিপন ও রফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। তাঁদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, এছাড়া বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরও আটজন চিকিৎসাধীন।

শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু অভিযোগ করেন, “খন্দকার নাসিরুল ইসলামের সমর্থকরা বহিরাগত লোক এনে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে, অফিসে আগুন দিয়েছে ও নেতাকর্মীদের মারধর করেছে। আমি ঘটনার বিচার চাই।”

অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম দাবি করেন, “ঝুনু গ্রুপের কর্মীরাই আমাদের ওপর হামলা করেছে এবং নিজেরাই মোটরসাইকেলে আগুন দিয়েছে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদের জানানো হবে।”

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, “বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী সতর্ক অবস্থায় আছে।”

বোয়ালমারী উপজেলা ফরিদপুর-১ আসনের অন্তর্ভুক্ত। আসনটিতে বিএনপি এখনো মনোনয়ন ঘোষণা করেনি। গত ২৩ অক্টোবর উপজেলা ও পৌর বিএনপির নতুন কমিটি গঠনের পর থেকেই দলীয় কোন্দল শুরু হয়। নতুন কমিটিতে খন্দকার নাসিরুল ইসলামের সমর্থকদের প্রভাব বেশি থাকায় ঝুনু মিয়া ও তাঁর অনুসারীরা ক্ষুব্ধ হন এবং কমিটি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নামেন।

ঘটনার পর খন্দকার নাসিরুল ইসলামের সমর্থকরা সাতৈর বাজারে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন, ঝুনু গ্রুপ পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে এবং ‘জয় বাংলা’ ও ‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগান দিয়ে তাদের উপর আক্রমণ করেছে। তারা প্রশাসনের কাছে ঘটনার সঠিক তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি দাবি করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহা, পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস শেখ এবং সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরান হোসেনসহ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে বোয়ালমারী রণক্ষেত্র

সর্বশেষ আপডেট ০৯:৩৮:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা সদর শুক্রবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে। ৭ নভেম্বরের কর্মসূচি ঘিরে এই সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এসময় প্রায় ২০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়, পাশাপাশি একটি শপিং কমপ্লেক্সও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে দুটি ভাগে বিভক্ত। একদল কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলামের অনুসারী, অপর দল উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনুর নেতৃত্বাধীন। সম্প্রতি নতুন কমিটি গঠনের পর থেকে তাদের বিরোধ আরও তীব্র হয়।

৭ নভেম্বরের কর্মসূচি ঘিরে উভয়পক্ষ পৃথকভাবে র‌্যালির ঘোষণা দেয়। সকাল থেকেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে। বিকেল ৪টার দিকে উভয়পক্ষের মিছিল মুখোমুখি হলে শুরু হয় ইটপাটকেল নিক্ষেপ। পরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে। এ সময় কাজী হারুন শপিং কমপ্লেক্সের সামনে মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং কমপ্লেক্সটির কিছু অংশেও ভাঙচুর চলে।

আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উত্তেজিত কর্মীরা তাদের ফেরত পাঠিয়ে দেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে লিয়াকত হোসেন, মিনহাজুর রহমান লিপন ও রফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। তাঁদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, এছাড়া বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরও আটজন চিকিৎসাধীন।

শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু অভিযোগ করেন, “খন্দকার নাসিরুল ইসলামের সমর্থকরা বহিরাগত লোক এনে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে, অফিসে আগুন দিয়েছে ও নেতাকর্মীদের মারধর করেছে। আমি ঘটনার বিচার চাই।”

অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম দাবি করেন, “ঝুনু গ্রুপের কর্মীরাই আমাদের ওপর হামলা করেছে এবং নিজেরাই মোটরসাইকেলে আগুন দিয়েছে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদের জানানো হবে।”

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, “বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী সতর্ক অবস্থায় আছে।”

বোয়ালমারী উপজেলা ফরিদপুর-১ আসনের অন্তর্ভুক্ত। আসনটিতে বিএনপি এখনো মনোনয়ন ঘোষণা করেনি। গত ২৩ অক্টোবর উপজেলা ও পৌর বিএনপির নতুন কমিটি গঠনের পর থেকেই দলীয় কোন্দল শুরু হয়। নতুন কমিটিতে খন্দকার নাসিরুল ইসলামের সমর্থকদের প্রভাব বেশি থাকায় ঝুনু মিয়া ও তাঁর অনুসারীরা ক্ষুব্ধ হন এবং কমিটি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নামেন।

ঘটনার পর খন্দকার নাসিরুল ইসলামের সমর্থকরা সাতৈর বাজারে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন, ঝুনু গ্রুপ পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে এবং ‘জয় বাংলা’ ও ‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগান দিয়ে তাদের উপর আক্রমণ করেছে। তারা প্রশাসনের কাছে ঘটনার সঠিক তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি দাবি করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহা, পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস শেখ এবং সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরান হোসেনসহ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।