ঢাকা ০৪:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাল্টিক আকাশে রুশ অনুপ্রবেশ, ন্যাটোর সতর্ক প্রতিক্রিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:৫৫:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 120

বাল্টিক আকাশে রুশ অনুপ্রবেশ, ন্যাটোর সতর্ক প্রতিক্রিয়া

এস্তোনিয়া জানিয়েছে, রাশিয়ার তিনটি মিগ-৩১ যুদ্ধবিমান অনুমতি ছাড়াই তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছে এবং প্রায় ১২ মিনিট ফিনল্যান্ড উপসাগরের ওপর অবস্থান করেছে। ঘটনাটির পর দেশটি ন্যাটোর অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে জরুরি পরামর্শ চেয়েছে।

এস্তোনিয়ার সরকার বলছে, রাশিয়ার যুদ্ধবিমানগুলো উত্তর-পূর্ব দিক থেকে ঢুকে ফিনিশ যুদ্ধবিমানের মুখোমুখি হয়। পরে যখন বিমানগুলো এস্তোনিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করে, তখন ন্যাটোর বাল্টিক এয়ার প্যাট্রোল মিশনের আওতায় সেখানে অবস্থানরত ইতালির এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সেগুলোকে তাড়িয়ে দেয়। এস্তোনিয়ার দাবি, ওই রুশ বিমানের কোনো ফ্লাইট প্ল্যান ছিল না, তাদের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ ছিল এবং তারা স্থানীয় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে কোনো রেডিও যোগাযোগ করেনি।

ন্যাটোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইতালি, ফিনল্যান্ড ও সুইডেন দ্রুত প্রতিক্রিয়াস্বরূপ যুদ্ধবিমান পাঠায়। জোটটির এক মুখপাত্র বলেন, “এটি রাশিয়ার বেপরোয়া আচরণের আরেকটি উদাহরণ। ন্যাটো দেখিয়েছে, এ ধরনের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা তাদের রয়েছে।”

রাশিয়া অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, তাদের বিমান একটি নির্ধারিত ফ্লাইট সম্পন্ন করেছে এবং আন্তর্জাতিক আকাশসীমার নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করেছে। তারা দাবি করেছে, বিমানগুলো বাল্টিক সাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমার ওপর দিয়ে উড়েছে এবং এস্তোনিয়ার অন্তর্গত ভাইন্দুল দ্বীপ থেকে তিন কিলোমিটারেরও বেশি দূরে ছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্রই রাশিয়ার বিরুদ্ধে আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। পোল্যান্ড ও রোমানিয়া জানিয়েছে, রুশ ড্রোন তাদের আকাশে প্রবেশ করেছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর পোল্যান্ডও ন্যাটো চুক্তির ৪ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় জরুরি পরামর্শ চেয়েছিল। এ মাসে দ্বিতীয়বারের মতো কোনো সদস্য এই অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করল এস্তোনিয়া।

এস্তোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টেন মিকাল বলেন, “যেকোনো উসকানির জবাব ন্যাটোকে ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ়ভাবে দিতে হবে। আমাদের মিত্রদের সঙ্গে পরামর্শ করা জরুরি, যাতে সবাই একই পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত থাকতে পারে এবং যৌথভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করতে পারে।”

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমি এটা মোটেই পছন্দ করি না। এ ধরনের ঘটনা হলে আমার খারাপ লাগে। এখান থেকে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে।”

এস্তোনিয়া জানিয়েছে, চলতি বছরে এটি রাশিয়ার পঞ্চমবারের মতো তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বাল্টিক আকাশে রুশ অনুপ্রবেশ, ন্যাটোর সতর্ক প্রতিক্রিয়া

সর্বশেষ আপডেট ০৪:৫৫:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

এস্তোনিয়া জানিয়েছে, রাশিয়ার তিনটি মিগ-৩১ যুদ্ধবিমান অনুমতি ছাড়াই তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছে এবং প্রায় ১২ মিনিট ফিনল্যান্ড উপসাগরের ওপর অবস্থান করেছে। ঘটনাটির পর দেশটি ন্যাটোর অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে জরুরি পরামর্শ চেয়েছে।

এস্তোনিয়ার সরকার বলছে, রাশিয়ার যুদ্ধবিমানগুলো উত্তর-পূর্ব দিক থেকে ঢুকে ফিনিশ যুদ্ধবিমানের মুখোমুখি হয়। পরে যখন বিমানগুলো এস্তোনিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করে, তখন ন্যাটোর বাল্টিক এয়ার প্যাট্রোল মিশনের আওতায় সেখানে অবস্থানরত ইতালির এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সেগুলোকে তাড়িয়ে দেয়। এস্তোনিয়ার দাবি, ওই রুশ বিমানের কোনো ফ্লাইট প্ল্যান ছিল না, তাদের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ ছিল এবং তারা স্থানীয় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে কোনো রেডিও যোগাযোগ করেনি।

ন্যাটোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইতালি, ফিনল্যান্ড ও সুইডেন দ্রুত প্রতিক্রিয়াস্বরূপ যুদ্ধবিমান পাঠায়। জোটটির এক মুখপাত্র বলেন, “এটি রাশিয়ার বেপরোয়া আচরণের আরেকটি উদাহরণ। ন্যাটো দেখিয়েছে, এ ধরনের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা তাদের রয়েছে।”

রাশিয়া অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, তাদের বিমান একটি নির্ধারিত ফ্লাইট সম্পন্ন করেছে এবং আন্তর্জাতিক আকাশসীমার নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করেছে। তারা দাবি করেছে, বিমানগুলো বাল্টিক সাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমার ওপর দিয়ে উড়েছে এবং এস্তোনিয়ার অন্তর্গত ভাইন্দুল দ্বীপ থেকে তিন কিলোমিটারেরও বেশি দূরে ছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্রই রাশিয়ার বিরুদ্ধে আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। পোল্যান্ড ও রোমানিয়া জানিয়েছে, রুশ ড্রোন তাদের আকাশে প্রবেশ করেছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর পোল্যান্ডও ন্যাটো চুক্তির ৪ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় জরুরি পরামর্শ চেয়েছিল। এ মাসে দ্বিতীয়বারের মতো কোনো সদস্য এই অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করল এস্তোনিয়া।

এস্তোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টেন মিকাল বলেন, “যেকোনো উসকানির জবাব ন্যাটোকে ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ়ভাবে দিতে হবে। আমাদের মিত্রদের সঙ্গে পরামর্শ করা জরুরি, যাতে সবাই একই পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত থাকতে পারে এবং যৌথভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করতে পারে।”

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমি এটা মোটেই পছন্দ করি না। এ ধরনের ঘটনা হলে আমার খারাপ লাগে। এখান থেকে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে।”

এস্তোনিয়া জানিয়েছে, চলতি বছরে এটি রাশিয়ার পঞ্চমবারের মতো তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা।