বামপন্থি দলগুলো একত্রে, ঢাকায় বড় সমাবেশের প্রস্তুতি
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:৫০:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫
- / 83
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের বামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোকে এক ছাতার নিচে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাম গণতান্ত্রিক জোট ও গণতন্ত্র মঞ্চের বাইরে থাকা বেশ কয়েকটি বাম ও প্রগতিশীল দলের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়াও চলছে। লক্ষ্য একটাই—ভোট ও আন্দোলনে বামপন্থিদের শক্ত অবস্থান তৈরি করা।
সম্প্রতি বাম গণতান্ত্রিক জোট ও গণতন্ত্র মঞ্চের কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। এর পাশাপাশি গণফোরাম, বাংলাদেশ জাসদ, সাম্যবাদী দল, ঐক্য ন্যাপ ও ন্যাপ ভাসানীর মতো দলগুলোও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এসব বৈঠকে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা ও নির্বাচনে অংশগ্রহণের কৌশল নিয়ে মতবিনিময় হয়।
আগামী ১৪ নভেম্বর ঢাকায় বড় আকারে সমাবেশের আয়োজন করছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। এ সমাবেশে বামপন্থি ও প্রগতিশীল ঘরানার রাজনৈতিক দল এবং চিন্তার মানুষদের একই মঞ্চে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত রাজনৈতিক সমঝোতার ছবি পরিষ্কার হবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর।
২০১৮ সালে সিপিবি ও বাসদসহ আটটি দল নিয়ে যাত্রা শুরু হয় বাম গণতান্ত্রিক জোটের। তবে মতপার্থক্যের কারণে ২০২২ সালে গণসংহতি আন্দোলন ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ওই জোট থেকে বেরিয়ে যায়। পরে তারা জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনসহ কয়েকটি দলকে নিয়ে ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’ গঠন করে। যদিও পরবর্তীতে ভাসানী অনুসারী পরিষদ রাজনৈতিক দলে রূপান্তরিত হয়ে ‘ভাসানী জনশক্তি পার্টি’ নামে আলাদা পরিচয় নেয়, আর গণঅধিকার পরিষদ নিজস্ব পথে চলার সিদ্ধান্ত নেয়।
এদিকে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে গণতন্ত্র মঞ্চভুক্ত দলগুলো প্রার্থীর প্রাথমিক তালিকা তৈরি করছে। এ সংক্রান্ত বৈঠক ইতোমধ্যেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি জোটে নতুন দল যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবুল জানিয়েছেন, আলোচনায় অংশ নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে আরও কিছু রাজনৈতিক দল।
গণতন্ত্র মঞ্চ বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে ছিল এবং নির্বাচনে কিছু আসনে তাদের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে বাম গণতান্ত্রিক জোট নিজেদের আলাদা অবস্থান বজায় রেখে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রয়োজনে গণতন্ত্র মঞ্চের সঙ্গেও আসনভিত্তিক সমঝোতা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে তারা।
এছাড়া বাম গণতান্ত্রিক জোট তাদের পরিধি আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশ জাসদ, ঐক্য ন্যাপ, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)সহ কয়েকটি বাম ও প্রগতিশীল দলের সঙ্গে এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা চলছে।
বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান জানিয়েছেন, দক্ষিণপন্থিদের মোকাবিলায় বাম শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা চলছে। একইভাবে বাসদের সাধারণ সম্পাদক ও বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক বজলুর রশীদ ফিরোজ জানিয়েছেন, পূজার ছুটি শেষে বিভিন্ন দলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শুরু হবে।































