ঢাকা ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাবা মায়ের যেসব ভুলে সন্তান হয়ে ওঠে একগুঁয়ে ও জেদি

লাইফস্টাইল ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:০৩:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 100

প্রতিটি বাবা–মাই সন্তানের মঙ্গল চান। সন্তানকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শেখান জীবনবোধ, ভালো–মন্দের পার্থক্য এবং শিষ্টাচার। নিজের আচরণেও সংযত থাকার চেষ্টা করেন তারা। তবে অনেক সময় অজান্তেই এমন কিছু আচরণ করে ফেলেন বাবা–মা, যা সন্তানের মানসিকতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ভুল আচরণের ফলেই অনেক শিশু একগুঁয়ে ও জেদি হয়ে ওঠে।

শিশু বিশেষজ্ঞরা জানান, সাধারণত ৩ থেকে ৭ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যেই জেদের প্রবণতা বেশি দেখা যায়। এই বয়সে সঠিকভাবে লালন-পালন না হলে ভবিষ্যতে আচরণগত নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, সামান্য কিছু না পেলেই শিশু কান্নাকাটি শুরু করে, হাত-পা ছুড়ে জেদ দেখায় এবং বাবা–মায়ের কথা মানতে চায় না। তাই এই সময় সন্তানের সামনে বাবা–মায়ের আচরণ নিয়ে বিশেষ সতর্ক থাকা জরুরি।

অকারণে রাগারাগি

কোনো কারণ ছাড়াই সন্তানের ওপর রাগ দেখানো তার মানসিক বিকাশের জন্য ক্ষতিকর। এতে সন্তানের সঙ্গে বাবা–মায়ের মানসিক দূরত্ব তৈরি হতে পারে। ঘন ঘন রাগারাগি বা পরিবারের ভেতরে ঝগড়া দেখলে শিশু নিজের অনুভূতি প্রকাশে সংকোচ বোধ করে। তাই অযথা রাগ প্রকাশ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

সন্তানের সব ইচ্ছা পূরণ করা

অনেক বাবা–মা মনে করেন, সন্তানের সব চাওয়া পূরণ করলেই ভালো অভিভাবক হওয়া যায়। কিন্তু বাস্তবে এটি ভুল ধারণা। সব ইচ্ছা সহজেই পূরণ হলে শিশু ভাবতে শেখে—যা চাইবে, যখন চাইবে, তা-ই পাবে। ফলে ধীরে ধীরে সে একগুঁয়ে হয়ে ওঠে এবং অন্যের অনুভূতি বুঝতে শেখে না।

সবার সামনে সমালোচনা

প্রতিটি শিশুর মধ্যেই আত্মসম্মানবোধ থাকে। সবার সামনে সন্তানকে অপমান করা, দোষ ধরা বা অন্যের সঙ্গে তুলনা করলে শিশুর মনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এতে সে আত্মবিশ্বাস হারাতে পারে এবং জেদের আশ্রয় নিতে শুরু করে।

ভুল উপেক্ষা করা

শিশু ভুল করলে তা উপেক্ষা করাও একটি বড় ভুল। এতে শিশু মনে করে তার কাজের কোনো পরিণতি নেই। ফলে একই ভুল বারবার করার প্রবণতা তৈরি হয়। তাই সন্তানের ভুল হলে শান্তভাবে তা সংশোধনের চেষ্টা করা প্রয়োজন।

মারধর করা

ভুলের শাস্তি হিসেবে মারধর শিশুর আত্মবিশ্বাস ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। মারধরের কারণে শিশুরা আরও জেদি ও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। তাই সন্তানের ভুল ধরিয়ে দিতে ধৈর্য ও সচেতন আচরণই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের ছোটবেলা থেকেই সৌজন্যবোধ শেখানো জরুরি। কেউ কিছু দিলে ধন্যবাদ জানানো, অন্যের কথা শোনা ও সম্মান করা—এসব অভ্যাস গড়ে তুললে সন্তানের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। সচেতন অভিভাবকত্বই পারে সন্তানকে একগুঁয়ে হওয়ার পথ থেকে দূরে রাখতে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বাবা মায়ের যেসব ভুলে সন্তান হয়ে ওঠে একগুঁয়ে ও জেদি

সর্বশেষ আপডেট ০৩:০৩:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

প্রতিটি বাবা–মাই সন্তানের মঙ্গল চান। সন্তানকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শেখান জীবনবোধ, ভালো–মন্দের পার্থক্য এবং শিষ্টাচার। নিজের আচরণেও সংযত থাকার চেষ্টা করেন তারা। তবে অনেক সময় অজান্তেই এমন কিছু আচরণ করে ফেলেন বাবা–মা, যা সন্তানের মানসিকতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ভুল আচরণের ফলেই অনেক শিশু একগুঁয়ে ও জেদি হয়ে ওঠে।

শিশু বিশেষজ্ঞরা জানান, সাধারণত ৩ থেকে ৭ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যেই জেদের প্রবণতা বেশি দেখা যায়। এই বয়সে সঠিকভাবে লালন-পালন না হলে ভবিষ্যতে আচরণগত নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, সামান্য কিছু না পেলেই শিশু কান্নাকাটি শুরু করে, হাত-পা ছুড়ে জেদ দেখায় এবং বাবা–মায়ের কথা মানতে চায় না। তাই এই সময় সন্তানের সামনে বাবা–মায়ের আচরণ নিয়ে বিশেষ সতর্ক থাকা জরুরি।

অকারণে রাগারাগি

কোনো কারণ ছাড়াই সন্তানের ওপর রাগ দেখানো তার মানসিক বিকাশের জন্য ক্ষতিকর। এতে সন্তানের সঙ্গে বাবা–মায়ের মানসিক দূরত্ব তৈরি হতে পারে। ঘন ঘন রাগারাগি বা পরিবারের ভেতরে ঝগড়া দেখলে শিশু নিজের অনুভূতি প্রকাশে সংকোচ বোধ করে। তাই অযথা রাগ প্রকাশ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

সন্তানের সব ইচ্ছা পূরণ করা

অনেক বাবা–মা মনে করেন, সন্তানের সব চাওয়া পূরণ করলেই ভালো অভিভাবক হওয়া যায়। কিন্তু বাস্তবে এটি ভুল ধারণা। সব ইচ্ছা সহজেই পূরণ হলে শিশু ভাবতে শেখে—যা চাইবে, যখন চাইবে, তা-ই পাবে। ফলে ধীরে ধীরে সে একগুঁয়ে হয়ে ওঠে এবং অন্যের অনুভূতি বুঝতে শেখে না।

সবার সামনে সমালোচনা

প্রতিটি শিশুর মধ্যেই আত্মসম্মানবোধ থাকে। সবার সামনে সন্তানকে অপমান করা, দোষ ধরা বা অন্যের সঙ্গে তুলনা করলে শিশুর মনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এতে সে আত্মবিশ্বাস হারাতে পারে এবং জেদের আশ্রয় নিতে শুরু করে।

ভুল উপেক্ষা করা

শিশু ভুল করলে তা উপেক্ষা করাও একটি বড় ভুল। এতে শিশু মনে করে তার কাজের কোনো পরিণতি নেই। ফলে একই ভুল বারবার করার প্রবণতা তৈরি হয়। তাই সন্তানের ভুল হলে শান্তভাবে তা সংশোধনের চেষ্টা করা প্রয়োজন।

মারধর করা

ভুলের শাস্তি হিসেবে মারধর শিশুর আত্মবিশ্বাস ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। মারধরের কারণে শিশুরা আরও জেদি ও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। তাই সন্তানের ভুল ধরিয়ে দিতে ধৈর্য ও সচেতন আচরণই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের ছোটবেলা থেকেই সৌজন্যবোধ শেখানো জরুরি। কেউ কিছু দিলে ধন্যবাদ জানানো, অন্যের কথা শোনা ও সম্মান করা—এসব অভ্যাস গড়ে তুললে সন্তানের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। সচেতন অভিভাবকত্বই পারে সন্তানকে একগুঁয়ে হওয়ার পথ থেকে দূরে রাখতে।