বাবা-মায়ের পাশেই চিরশায়িত লালনকন্যা ফরিদা পারভীন
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৫৫:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 208
লোকসংগীতের কিংবদন্তি, লালনকন্যা খ্যাত দেশবরেণ্য শিল্পী ফরিদা পারভীন শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী বাবা-মায়ের কবরেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মরদেহবাহী গাড়ি কুষ্টিয়ায় পৌঁছালে স্বজন, বন্ধু, ভক্ত ও অনুসারীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে রাত ৯টার দিকে পৌর কেন্দ্রীয় গোরস্থান জামে মসজিদে নামাজে জানাজা শেষে তাকে বাবা-মায়ের কবরেই দাফন করা হয়।
এর আগে সকাল থেকে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করে সর্বস্তরের মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানান এই প্রখ্যাত শিল্পীকে। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে মরদেহ কুষ্টিয়ার উদ্দেশে নেওয়া হয়।
প্রথমে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠে জানাজা হওয়ার কথা থাকলেও বৈরী আবহাওয়া ও ঢাকার আনুষ্ঠানিকতায় বিলম্ব হওয়ায় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়।
শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ফরিদা পারভীন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।
কুষ্টিয়া পৌর কেন্দ্রীয় গোরস্তানের খাদেম নূর ইসলাম জানান, “দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে এ গোরস্তানে খাদেমের দায়িত্বে আছি। ফরিদা পারভীনের পরিবারের সঙ্গে আমার সখ্যতা রয়েছে। তাঁর বাবা দেলোয়ার হোসেনকে ১৯৯৬ সালে এখানে দাফন করেছিলাম। এরপর মা রৌফা বেগমও একই কবরে শায়িত হন। আজ ফরিদাকেও তাদের সঙ্গেই সমাহিত করা হলো।”
সংগীত জীবনের পথচলা
১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়ায় জন্মগ্রহণ করেন ফরিদা পারভীন। বাবার চাকরির সুবাদে তিনি বড় হয়েছেন কুষ্টিয়ায়। মাত্র ১৪ বছর বয়সে, ১৯৬৮ সালে পেশাদার সংগীতজীবন শুরু করেন তিনি। দীর্ঘ ৫৫ বছরের সংগীতজীবনে লালনগীতিকে বিশ্ব দরবারে পরিচিত করতে তিনি গড়ে তোলেন নিজস্ব ঘরানা।
‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’, ‘বাড়ির কাছে আরশিনগর’-সহ অসংখ্য জনপ্রিয় লালনগীতিকে তিনি নিজের কণ্ঠে জীবন্ত করে তুলেছিলেন। শ্রোতারা ভালোবেসে তাকে ‘লালনকন্যা’ উপাধি দিয়েছিলেন।
তার মৃত্যুতে কুষ্টিয়া ও সারা দেশে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।





































