ঢাকা ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
দাফন শেষে কালামের বাড়িতে আহাজারি

‘বাবা ঘুমাচ্ছে মা, তুমি কান্না করো না’

নিজস্ব প্রতিবেদক, শরীয়তপুর
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৫৫:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫
  • / 124

দাফন শেষে কালামের বাড়িতে আহাজারি

রাজধানীর ফার্মগেটে মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড পড়ে নিহত আবুল কালামের জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। দাফনের সময় স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে আশপাশের পরিবেশ। বিশেষ করে নিহতের স্ত্রী আইরিন আক্তার পিয়া কান্নায় ভেঙে পড়েন।

সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১০টায় শরীয়তপুরের নড়িয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে রবিবার গভীর রাতে তার মরদেহ নিজ গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার মোক্তারচর ইউনিয়নের ঈশ্বরকাঠি গ্রামে পৌঁছায়।

নিহত আবুল কালাম আজাদ শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার মোক্তারের চর ইউনিয়নের ঈশ্বরকাঠী এলাকার মৃত আব্দুল জলিল চোকিদারের ছেলে। চার ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছোট। তিনি স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তান—ছেলে আব্দুল্লাহ (৫) ও মেয়ে সুরাইয়া আক্তার (৩) নিয়ে নারায়ণগঞ্জের পাঠানতলি এলাকায় বসবাস করতেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে ঢাকায় একটি ট্রাভেল এজেন্সি পরিচালনা করতেন তিনি।

নিহতের স্ত্রী আইরিন আক্তার পিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার সন্তানরা এখনও বুঝতে পারছে না, তাদের বাবা আর ফিরবে না। তারা বলে, ‘বাবা ঘুমাচ্ছে মা, তুমি কান্না করো না।’ আমি কীভাবে তাদের বোঝাই যে, বাবা আর কখনও জাগবে না! আবুলই ছিল আমাদের একমাত্র ভরসা। এখন আমি সন্তানদের নিয়ে একেবারে দিশেহারা।”

নিহতের চাচাতো ভাই আব্দুল গণি চোকদার বলেন, “সরকারের অবহেলার কারণে আমার ভাই মারা গেল। এখন এর দায় কে নেবে?”

নড়িয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকী দাস বলেন, “আবুল কালামের মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানাজা ও দাফনে অংশ নিয়েছি। পরিবার যে কোনো প্রয়োজনে আমাদের পাশে পাবে।”

ঘটনার বিবরণে বলা হয়, রবিবার বেলা ১২টার দিকে ব্যক্তিগত কাজে ঢাকার ফার্মগেটে যাওয়ার সময় মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে আবুল কালামের মৃত্যু হয়। রাত ১০টায় সিদ্ধিরগঞ্জের নতুন আইলপাড়া এলাকায় বায়তুল ফালাহ্ জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

দুর্ঘটনার পর সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান জানান, এই দুর্ঘটনা নাশকতা না নির্মাণ ত্রুটির কারণে হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখার জন্য সেতু বিভাগের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫ লাখ টাকা দেওয়া হবে। এছাড়া পরিবারের কর্মক্ষম কেউ থাকলে যোগ্যতা অনুযায়ী মেট্রোরেলে চাকরির ব্যবস্থা করা হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

দাফন শেষে কালামের বাড়িতে আহাজারি

‘বাবা ঘুমাচ্ছে মা, তুমি কান্না করো না’

সর্বশেষ আপডেট ১২:৫৫:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫

রাজধানীর ফার্মগেটে মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড পড়ে নিহত আবুল কালামের জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। দাফনের সময় স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে আশপাশের পরিবেশ। বিশেষ করে নিহতের স্ত্রী আইরিন আক্তার পিয়া কান্নায় ভেঙে পড়েন।

সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১০টায় শরীয়তপুরের নড়িয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে রবিবার গভীর রাতে তার মরদেহ নিজ গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার মোক্তারচর ইউনিয়নের ঈশ্বরকাঠি গ্রামে পৌঁছায়।

নিহত আবুল কালাম আজাদ শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার মোক্তারের চর ইউনিয়নের ঈশ্বরকাঠী এলাকার মৃত আব্দুল জলিল চোকিদারের ছেলে। চার ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছোট। তিনি স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তান—ছেলে আব্দুল্লাহ (৫) ও মেয়ে সুরাইয়া আক্তার (৩) নিয়ে নারায়ণগঞ্জের পাঠানতলি এলাকায় বসবাস করতেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে ঢাকায় একটি ট্রাভেল এজেন্সি পরিচালনা করতেন তিনি।

নিহতের স্ত্রী আইরিন আক্তার পিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার সন্তানরা এখনও বুঝতে পারছে না, তাদের বাবা আর ফিরবে না। তারা বলে, ‘বাবা ঘুমাচ্ছে মা, তুমি কান্না করো না।’ আমি কীভাবে তাদের বোঝাই যে, বাবা আর কখনও জাগবে না! আবুলই ছিল আমাদের একমাত্র ভরসা। এখন আমি সন্তানদের নিয়ে একেবারে দিশেহারা।”

নিহতের চাচাতো ভাই আব্দুল গণি চোকদার বলেন, “সরকারের অবহেলার কারণে আমার ভাই মারা গেল। এখন এর দায় কে নেবে?”

নড়িয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকী দাস বলেন, “আবুল কালামের মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানাজা ও দাফনে অংশ নিয়েছি। পরিবার যে কোনো প্রয়োজনে আমাদের পাশে পাবে।”

ঘটনার বিবরণে বলা হয়, রবিবার বেলা ১২টার দিকে ব্যক্তিগত কাজে ঢাকার ফার্মগেটে যাওয়ার সময় মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে আবুল কালামের মৃত্যু হয়। রাত ১০টায় সিদ্ধিরগঞ্জের নতুন আইলপাড়া এলাকায় বায়তুল ফালাহ্ জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

দুর্ঘটনার পর সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান জানান, এই দুর্ঘটনা নাশকতা না নির্মাণ ত্রুটির কারণে হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখার জন্য সেতু বিভাগের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫ লাখ টাকা দেওয়া হবে। এছাড়া পরিবারের কর্মক্ষম কেউ থাকলে যোগ্যতা অনুযায়ী মেট্রোরেলে চাকরির ব্যবস্থা করা হবে।