বাপের জমি বিক্রি করে রাজনীতি করেছি : মির্জা ফখরুল
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:৩০:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
- / 5
পৈতৃক জমি ও বাড়িঘর বিক্রি করে রাজনীতির খরচ জুগিয়েছেন দাবি করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তিনি কখনো রাজনীতিকে অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেননি। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জীবনে সততা ও ত্যাগের পথেই থাকার চেষ্টা করেছেন বলে উল্লেখ করে তিনি ভোটারদের কাছে আস্থা ও সমর্থন চেয়েছেন।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের চন্ডিপুর স্কুল মাঠে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, রাজনীতি করে তিনি ব্যবসা করেননি। নিজের পৈতৃক জমিজমা ও বাড়িঘর বিক্রি করেই রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন। ইতোমধ্যে পৈতৃক জমির অর্ধেক শেষ হয়ে গেছে এবং বাড়ির সামনের জমিটিও বিক্রি করতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
নিজের আর্থিক অবস্থার কথা তুলে ধরে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ২০০৬ সালে একটি গাড়ি কেনার পর আর নতুন গাড়ি কেনা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে অন্যের দেওয়া গাড়িতে করেই নির্বাচনি প্রচার চালাতে হচ্ছে। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনের সময় এলাকার নারীরা মুরগির ডিম ও মুরগি বিক্রি করে তার নির্বাচনি তহবিলে সহায়তা করেছিলেন, কারণ তখন তার নিজের কোনো অর্থ ছিল না।
এর আগে সকালে সালন্দর ইউনিয়নের কালিতলা বাজার এলাকায় এক পথসভায় অংশ নেন মির্জা ফখরুল। সেখানে স্থানীয় নারীরা তাকে টাকার মালা পরিয়ে সংবর্ধনা দিলে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এ সময় তিনি এলাকার মানুষের ভালোবাসা ও ত্যাগের কথা স্মরণ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
নির্বাচনী ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, নির্বাচন থেকে সততা হারিয়ে গেছে। বিএনপি সেই সততা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভোট একটি বড় আমানত, যা একজন পরিচিত ও পরীক্ষিত মানুষের হাতেই তুলে দেওয়া উচিত।
দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, গত ১৫ বছর ধরে তারা স্বাভাবিকভাবে কথা বলার সুযোগ পাননি। এই সময়ে মামলা, হামলা ও দমন-পীড়নের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। সেই কঠিন সময় পার করেই আজ তারা জনগণের সামনে দাঁড়াতে পেরেছেন বলে জানান তিনি।
তরুণদের উদ্দেশে উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের অঙ্গীকার করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, শুধু উচ্চশিক্ষা যথেষ্ট নয়, কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করতে হবে, যাতে দেশে ও বিদেশে ভালো আয়ের সুযোগ তৈরি হয়। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে মানুষকে ভিক্ষা বা দয়ার ওপর নির্ভরশীল না রেখে কর্মমুখী করে তোলা হবে।
জয়ী হলে এলাকায় সবজি সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন এবং নারীদের জন্য কুটির শিল্প প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। পাশাপাশি নিজের সাদামাটা জীবনযাপনের কথা তুলে ধরে বলেন, তিনি কখনো দুর্নীতির আশ্রয় নেননি। তার স্ত্রী ও সন্তানদের অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে সংসার চালাতে হয়েছে। তিনি এখনো প্রায় ২০ বছর পুরোনো একটি গাড়ি ব্যবহার করেন।
ঠাকুরগাঁওকে নিজের জন্মস্থান উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তার বাবা, তিনি নিজে এবং তার ছোট ভাই একসময় পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন। তবে আগের সরকারের আমলে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না পাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, এটিই তার শেষ নির্বাচন এবং একবার সুযোগ দিলে তিনি এলাকার উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে চন্ডিপুর ও কালিতলা ছাড়াও গড়েয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন মির্জা ফখরুল। এ সময় জেলা ও উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
































