বান্দরবানে পাহাড় কাটার মহোৎসব চলছে
- সর্বশেষ আপডেট ০১:১২:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫
- / 98
বান্দরবানের মনোরম পাহাড়ি পরিবেশ এখন ধ্বংসের পথে। টানেলের মাটি অপসারণের নামে চলছে পাহাড় কাটা, যা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও থেমে নেই। দিনদুপুরে উন্নয়নের অজুহাতে নির্বিচারে পাহাড় কর্তন চলছে, যার ফলে প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিপন্ন হচ্ছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া পাহাড় কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। তবুও প্রশাসনের চোখের সামনে বা স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এই কাজ চলছেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবানের পৌর বাস টার্মিনাল এলাকার টানেলের ধ্বসে পড়া মাটি অপসারণের জন্য ঠিকাদার ইয়াছিনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে মাটি অপসারণের নামে আশপাশের পাহাড় কেটে সমতল করা হচ্ছে। দিনে-রাতে স্কেভেটর ব্যবহার করে পাহাড় কেটে ৪–৫টি ডাম্পার ট্রাকে মাটি সরানো হচ্ছে।
এতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের শিক্ষার্থীরা ধুলাবালির কারণে পড়াশোনায় সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকিও বেড়েছে। এছাড়াও বর্ষার সময় পাহাড় ধ্বসে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, টানেলের পাশের পাহাড় কাটার জন্য আমাদের অনুমতি নেওয়া হয়নি। তবে অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইয়াছিন জানান, বান্দরবান পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের নির্দেশে টানেলের মাটি অপসারণের কাজ করছেন। কিন্তু উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ এরশাদ দাবি করেছেন, তারা পাহাড় কাটার বিষয়ে জানে না। নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন মোঃ ইয়াছির কাছে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
বান্দরবান সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা খান হীরামনি বলেন, বর্ষায় ধ্বসে পড়া মাটি সরানোর জন্য একবার মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু পাহাড় কাটার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। যদি আইন লঙ্ঘন ঘটে থাকে, ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবেশবিদরা সতর্ক করছেন, অযথা পাহাড় কাটা ও বনধ্বংস প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করছে এবং স্থানীয় জনগণের জীবন ও নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। তাদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিবেশ ও মানুষের অধিকার রক্ষা করে সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। এতে পরিবেশ, সমাজ ও অর্থনীতির সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।































