ঢাকা ০৮:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বানরের উপদ্রব ঠেকাচ্ছে পোষা কুকুর!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফেনী
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:০১:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫
  • / 99

বানরের উপদ্রব ঠেকাচ্ছে পোষা কুকুর!

ফেনীর পরশুরাম উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় বানরের উপদ্রব কৃষকদের জন্য বড় সমস্যা তৈরি করেছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লাঠি হাতে ধানক্ষেতে দাঁড়িয়ে, চিৎকার-চেঁচামেচি করে কৃষকরা বানর তাড়াচ্ছেন। বনভূমিতে ওত পেতে থাকা বানরের পালের আক্রমণে একবারে দেড় থেকে দুই হাজার বানর পাকা ধান খেয়ে নষ্ট করতে পারে।

উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের সত্যনগর, জয়চাঁদপুর, বীরচন্দ্রনগর, মহেশপুষ্করনি ও রাঙামাটি এলাকায় বিশেষত বানরের উপদ্রব বেড়েছে। এছাড়া বক্সমাহমুদ, চিথলিয়া ও পৌরসদর এলাকার সীমান্তবর্তী এলাকাতেও সমস্যা দেখা দিয়েছে।

কৃষকরা জানিয়েছেন, বানর ধানক্ষেতে নামার আগেই তা তাড়াতে না পারলে নিমেষেই পাকা ধান শেষ হয়ে যায়। খাদ্যের সংকটের কারণে বানরের পালের উপদ্রব বাড়ছে, এবং ইতিমধ্যেই কয়েক হেক্টর জমির ধান নষ্ট করেছে।

কৃষক ফরিদ আহমেদ বলেন, “বানর মানুষকে ভয় পায় না। আক্রমণের আশঙ্কা আছে। তাই কুকুর সঙ্গে নিয়ে সারাদিন পাকা ধান পাহারা দিচ্ছি। প্রতিদিন ছেলেসহ লাঠি হাতে ক্ষেতের পাহারা দেই, তবুও প্রায় ৫০ শতক জমির ধান নষ্ট হয়েছে।”

জাহাঙ্গীর হোসেন আরও জানিয়েছেন, “আমন মৌসুমে ৬০ শতক জমি চাষ করেছি। কিন্তু বানরের আক্রমণে ২০ শতক ধান খেয়ে গেছে। এতে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। শ্রমিক মজুরি, সার ও কীটনাশক খরচের কারণে মৌসুমি লোকসানও বাড়ছে।”

পরশুরাম উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি আমন মৌসুমে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেছেন, “বানরের উপদ্রব বৃদ্ধির কারণে কৃষকদের সতর্ক থেকে ধান পাহারা দিতে হবে। ধান কাটা শুরু হওয়ার আগে এ কার্যক্রম খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”

উপজেলা বন কর্মকর্তা আবু নাসের জিয়াউর রহমান বলেন, “জঙ্গলে খাদ্যের সংকটের কারণে বানরের পাল পাকা ধানে হানা দিচ্ছে। বন বিভাগের ফরেস্টর ও বনমালীদের টহল জোরদার করা হয়েছে। কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, তারা নিয়মিতভাবে ধানক্ষেত পাহারা দিয়ে ফসল রক্ষা করুন। বানর হত্যা না করতে হবে। না হলে ধান নষ্ট হয়ে অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বানরের উপদ্রব ঠেকাচ্ছে পোষা কুকুর!

সর্বশেষ আপডেট ০১:০১:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫

ফেনীর পরশুরাম উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় বানরের উপদ্রব কৃষকদের জন্য বড় সমস্যা তৈরি করেছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লাঠি হাতে ধানক্ষেতে দাঁড়িয়ে, চিৎকার-চেঁচামেচি করে কৃষকরা বানর তাড়াচ্ছেন। বনভূমিতে ওত পেতে থাকা বানরের পালের আক্রমণে একবারে দেড় থেকে দুই হাজার বানর পাকা ধান খেয়ে নষ্ট করতে পারে।

উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের সত্যনগর, জয়চাঁদপুর, বীরচন্দ্রনগর, মহেশপুষ্করনি ও রাঙামাটি এলাকায় বিশেষত বানরের উপদ্রব বেড়েছে। এছাড়া বক্সমাহমুদ, চিথলিয়া ও পৌরসদর এলাকার সীমান্তবর্তী এলাকাতেও সমস্যা দেখা দিয়েছে।

কৃষকরা জানিয়েছেন, বানর ধানক্ষেতে নামার আগেই তা তাড়াতে না পারলে নিমেষেই পাকা ধান শেষ হয়ে যায়। খাদ্যের সংকটের কারণে বানরের পালের উপদ্রব বাড়ছে, এবং ইতিমধ্যেই কয়েক হেক্টর জমির ধান নষ্ট করেছে।

কৃষক ফরিদ আহমেদ বলেন, “বানর মানুষকে ভয় পায় না। আক্রমণের আশঙ্কা আছে। তাই কুকুর সঙ্গে নিয়ে সারাদিন পাকা ধান পাহারা দিচ্ছি। প্রতিদিন ছেলেসহ লাঠি হাতে ক্ষেতের পাহারা দেই, তবুও প্রায় ৫০ শতক জমির ধান নষ্ট হয়েছে।”

জাহাঙ্গীর হোসেন আরও জানিয়েছেন, “আমন মৌসুমে ৬০ শতক জমি চাষ করেছি। কিন্তু বানরের আক্রমণে ২০ শতক ধান খেয়ে গেছে। এতে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। শ্রমিক মজুরি, সার ও কীটনাশক খরচের কারণে মৌসুমি লোকসানও বাড়ছে।”

পরশুরাম উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি আমন মৌসুমে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেছেন, “বানরের উপদ্রব বৃদ্ধির কারণে কৃষকদের সতর্ক থেকে ধান পাহারা দিতে হবে। ধান কাটা শুরু হওয়ার আগে এ কার্যক্রম খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”

উপজেলা বন কর্মকর্তা আবু নাসের জিয়াউর রহমান বলেন, “জঙ্গলে খাদ্যের সংকটের কারণে বানরের পাল পাকা ধানে হানা দিচ্ছে। বন বিভাগের ফরেস্টর ও বনমালীদের টহল জোরদার করা হয়েছে। কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, তারা নিয়মিতভাবে ধানক্ষেত পাহারা দিয়ে ফসল রক্ষা করুন। বানর হত্যা না করতে হবে। না হলে ধান নষ্ট হয়ে অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।”