ঢাকা ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাটা কি ইসরাইলি পণ্য!

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩৭:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ এপ্রিল ২০২৫
  • / 197

জুতা – আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। আর জুতার নাম শুনলেই যেটি সবচেয়ে বেশি পরিচিত, সেটি হলো ‘বাটা’। তবে আজকাল একটি প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে মানুষের মুখে মুখে: “বাটা কি ইসরায়েলি পণ্য?”

চলুন, ইতিহাসের পাতায় চোখ রেখে খুঁজে বের করি – বাটার জন্ম কোথায় ? বর্তমান মালিক কারা? এবং এর সাথে ইসরায়েলের কোনো সম্পর্ক আদৌ আছে কি না।

বাটার জন্ম ১৮৯৪ সালে, বর্তমান চেক প্রজাতন্ত্রের একটি ছোট শহর জ্লিন-এ। প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিন ভাইবোন- টমাস বাটা, অ্যানা বাটা এবং আন্তোনিন বাটা। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত ও সাশ্রয়ী দামের জুতা তৈরি করা।

টমাস বাটা ছিলেন একজন দূরদর্শী উদ্যোক্তা। তিনি বুঝেছিলেন, শিল্পায়নের যুগে যদি আধুনিক যন্ত্রপাতি ও দক্ষ শ্রমিকের সমন্বয় করা যায়, তবে বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য কম খরচে জুতা তৈরি করা সম্ভব। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই জন্ম নেয় বাটার খ্যাতি।

ব্র্যান্ডটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ইউরোপজুড়ে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়েও বাটার চাহিদা ছিল আকাশচুম্বী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর, কোম্পানিটি আন্তর্জাতিক রূপ নেয়।

বাটার শোরুমে ভাঙচুর
বাটার শোরুমে ভাঙচুর-লুটপাট

১৯৩০ এর দশকে বাটা প্রবেশ করে ভারতীয় উপমহাদেশে। ১৯৩১ সালে তারা কলকাতায় কারখানা স্থাপন করে। স্বাধীনতার আগে থেকেই বাটা হয়ে ওঠে ভারত, পাকিস্তান এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশে একটি পরিচিত নাম।

বাংলাদেশে বাটার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৬২ সালে। তখন এটি ছিল পাকিস্তানের অংশ। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে ‘বাটা সু কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড’ নামে এটি নিবন্ধিত হয়। এরপর থেকেই বাংলাদেশি জনগণের কাছে এটি দেশীয় পণ্যের স্বীকৃতি পায়। বর্তমানে বাটার প্রধান কারখানা রয়েছে টঙ্গী ও দিনাজপুরে। হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করে এখানে।

এখন প্রশ্ন হলো, বাটা কি ইসরায়েলি পণ্য? এই প্রশ্নের পেছনে রয়েছে কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্য। অনেকেই ধরে নেন, যেহেতু কিছু বাটার দোকান বা শাখা ইসরায়েলে রয়েছে, তাই পুরো কোম্পানিটি ইসরায়েলি মালিকানাধীন। কিন্তু বাস্তবতা হলো ‘বাটা মূলত একটি সুইস-ভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানি’, যার নাম Bata Shoe Organization।

এর প্রধান কার্যালয় এখন সুইজারল্যান্ডের লোজানে। বিশ্বজুড়ে ৭০টির বেশি দেশে বাটার ব্যবসা রয়েছে এবং প্রায় ৫০০০-এরও বেশি রিটেইল আউটলেট আছে। ইসরায়েলে বাটার কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি থাকলেও, কোম্পানিটির মালিকানা বা পরিচালনা ইসরায়েলি নয়। অর্থাৎ বাটা কোনো ইসরায়েলি কোম্পানি নয়।

কানাডা থেকে শুরু করে কেনিয়া, জাপান থেকে ব্রাজিল – প্রায় সব মহাদেশেই বাটার কারখানা, অফিস এবং দোকান রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ জুতা বিক্রি হয় বাটার মাধ্যমে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বাটা কি ইসরাইলি পণ্য!

সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩৭:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ এপ্রিল ২০২৫

জুতা – আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। আর জুতার নাম শুনলেই যেটি সবচেয়ে বেশি পরিচিত, সেটি হলো ‘বাটা’। তবে আজকাল একটি প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে মানুষের মুখে মুখে: “বাটা কি ইসরায়েলি পণ্য?”

চলুন, ইতিহাসের পাতায় চোখ রেখে খুঁজে বের করি – বাটার জন্ম কোথায় ? বর্তমান মালিক কারা? এবং এর সাথে ইসরায়েলের কোনো সম্পর্ক আদৌ আছে কি না।

বাটার জন্ম ১৮৯৪ সালে, বর্তমান চেক প্রজাতন্ত্রের একটি ছোট শহর জ্লিন-এ। প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিন ভাইবোন- টমাস বাটা, অ্যানা বাটা এবং আন্তোনিন বাটা। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত ও সাশ্রয়ী দামের জুতা তৈরি করা।

টমাস বাটা ছিলেন একজন দূরদর্শী উদ্যোক্তা। তিনি বুঝেছিলেন, শিল্পায়নের যুগে যদি আধুনিক যন্ত্রপাতি ও দক্ষ শ্রমিকের সমন্বয় করা যায়, তবে বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য কম খরচে জুতা তৈরি করা সম্ভব। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই জন্ম নেয় বাটার খ্যাতি।

ব্র্যান্ডটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ইউরোপজুড়ে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়েও বাটার চাহিদা ছিল আকাশচুম্বী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর, কোম্পানিটি আন্তর্জাতিক রূপ নেয়।

বাটার শোরুমে ভাঙচুর
বাটার শোরুমে ভাঙচুর-লুটপাট

১৯৩০ এর দশকে বাটা প্রবেশ করে ভারতীয় উপমহাদেশে। ১৯৩১ সালে তারা কলকাতায় কারখানা স্থাপন করে। স্বাধীনতার আগে থেকেই বাটা হয়ে ওঠে ভারত, পাকিস্তান এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশে একটি পরিচিত নাম।

বাংলাদেশে বাটার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৬২ সালে। তখন এটি ছিল পাকিস্তানের অংশ। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে ‘বাটা সু কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড’ নামে এটি নিবন্ধিত হয়। এরপর থেকেই বাংলাদেশি জনগণের কাছে এটি দেশীয় পণ্যের স্বীকৃতি পায়। বর্তমানে বাটার প্রধান কারখানা রয়েছে টঙ্গী ও দিনাজপুরে। হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করে এখানে।

এখন প্রশ্ন হলো, বাটা কি ইসরায়েলি পণ্য? এই প্রশ্নের পেছনে রয়েছে কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্য। অনেকেই ধরে নেন, যেহেতু কিছু বাটার দোকান বা শাখা ইসরায়েলে রয়েছে, তাই পুরো কোম্পানিটি ইসরায়েলি মালিকানাধীন। কিন্তু বাস্তবতা হলো ‘বাটা মূলত একটি সুইস-ভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানি’, যার নাম Bata Shoe Organization।

এর প্রধান কার্যালয় এখন সুইজারল্যান্ডের লোজানে। বিশ্বজুড়ে ৭০টির বেশি দেশে বাটার ব্যবসা রয়েছে এবং প্রায় ৫০০০-এরও বেশি রিটেইল আউটলেট আছে। ইসরায়েলে বাটার কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি থাকলেও, কোম্পানিটির মালিকানা বা পরিচালনা ইসরায়েলি নয়। অর্থাৎ বাটা কোনো ইসরায়েলি কোম্পানি নয়।

কানাডা থেকে শুরু করে কেনিয়া, জাপান থেকে ব্রাজিল – প্রায় সব মহাদেশেই বাটার কারখানা, অফিস এবং দোকান রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ জুতা বিক্রি হয় বাটার মাধ্যমে।