বাজারে সবজির সরবরাহ বেড়েছে, কমছে দামের উত্তাপ
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৫৭:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫
- / 109
চালের বাজারে ধীরে ধীরে স্বস্তি ফিরছে। সরবরাহ বাড়ায় সবজির দামও কমতে শুরু করেছে। বেশ কিছু সবজির কেজি দরে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। একই সঙ্গে শুল্কহ্রাস ও সরকারি আমদানির কারণে চালের দামও সামান্য কমেছে। বুধবার রাজধানীর আগারগাঁও, মহাখালী ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
নতুন ধান উঠলেও গত দুই মাস ধরে চালের দাম ছিল চড়া। তবে আমদানি শুল্ক কমানো এবং সরকারি উদ্যোগে চাল আমদানির ফলে এখন খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মিনিকেট বা সরু চাল ৭২ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি জাতের চাল (বিআর-২৮, পায়জাম) কেজিপ্রতি ৫৮ থেকে ৬৬ টাকা এবং মোটা জাতের চাল (গুটি স্বর্ণা, চায়না ইরি) ৫২ থেকে ৫৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ভারতীয় চালের দামও কিছুটা কমে কেজিতে ৫০ থেকে ৫৮ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
বর্তমানে ৬৩.২৫ শতাংশ শুল্ক-কর কমে বেশির ভাগ চাল আমদানিতে কেবল ২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর প্রযোজ্য। পরিকল্পনা কমিশনের অক্টোবরের আপডেট ও আউটলুক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে চালের দাম কমতে শুরু করেছে। আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে দাম প্রায় ১ শতাংশ কমেছে, যদিও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এখনও প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি।
সরকার বাজার স্থিতিশীল রাখতে ভারত থেকে ৫০ হাজার টন চাল এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টন গম আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। পাশাপাশি নভেম্বরের মধ্যে আরও চার লাখ টন খাদ্যশস্য আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। জরুরি ক্রয় প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মেয়াদও ২৭ থেকে কমিয়ে ১৫ দিন করা হয়েছে। ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারের গুদামে ১৫ থেকে ৫০ হাজার টন খাদ্যশস্য মজুত ছিল। প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, এসব উদ্যোগের ফলে আগামী দিনে চালের দাম স্থিতিশীল থাকবে।
কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী সৌরভ হোসেন জানান, “ভারত থেকে চাল আসায় সরবরাহ বেড়েছে, ফলে দামের ওপর চাপ কমেছে।”
সবজির বাজারেও এখন স্বস্তির ইঙ্গিত। গত সপ্তাহে যেখানে বেশির ভাগ সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকায়, কিছু ক্ষেত্রে ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছিল, সেখানে এখন অনেক পণ্যের দাম ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। কাঁকরোল কেজিতে ৮০–৯০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৬০ টাকা, পটোল ৬০–৭০, উচ্ছে ৮০–১০০, ঝিঙে ৬০–৭০ এবং মুলা ৪০–৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ধুন্দল ৬০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৭০–৮০ টাকা। কাঁচা পেঁপে ৩০–৩৫, বরবটি ১০০–১১০, লম্বা বেগুন ৮০–১০০, টমেটো ১০০–১১০ এবং শসা ৫০–৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের দাম অবশ্য আগের মতোই কেজিপ্রতি ১৪০–১৭০ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে।
আগারগাঁওয়ের সবজি বিক্রেতা সাইফুল মিয়া বলেন, “এখন বৃষ্টি নেই, ফলে সবজির সরবরাহ বেড়েছে। পাইকারিতে দাম কমায় খুচরা বাজারেও প্রভাব পড়ছে।”
অন্যদিকে দেশি মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৫০–১৫৫ টাকায় এবং আমদানি করা মসুর ৯৫–১০৫ টাকায়। মুরগি, ডিম ও মাছের দামে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
































