ঢাকা ১০:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাঘ শুধু প্রাণী নয়, আমাদের অহংকার: রিজওয়ানা হাসান

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:১২:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫
  • / 330

বাঘ শুধু প্রাণী নয়, আমাদের অহংকার: রিজওয়ানা হাসান

বিশ্ব বাঘ দিবস ২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত এক ভার্চ্যুয়াল আলোচনায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, “বাঘ শুধু একটি বন্যপ্রাণী নয়, এটি আমাদের গর্ব, জাতিসত্তার অহংকারের প্রতীক এবং জাতীয় পরিচয়ের একটি শক্তিশালী প্রতিমূর্তি।”

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বন ভবন, আগারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় সচিবালয় থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি বলেন, “যেমন আমরা সুন্দরবন নিয়ে গর্ব করি, তেমনি রয়েল বেঙ্গল টাইগারও আমাদের অহংকারের অংশ। সাহস, ভালোবাসা ও বীরত্বের প্রতীক হিসেবে আমরা বাঘকে দেখি। ক্রিকেট দলকে ‘টাইগারস’ নামে ডাকাও সেই আবেগেরই অংশ।”

তিনি সাম্প্রতিক বাঘ শুমারির তথ্য উল্লেখ করে বলেন, “ইতিবাচক কিছু পদক্ষেপের ফলে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে, যা আশার আলো দেখাচ্ছে। তবে হরিণ শিকার বন্ধে কঠোর নজরদারি, অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবস্থা এবং চোরা শিকার রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অপরিহার্য।”

উপদেষ্টা আরও বলেন, “বাঘ নিধন ও পাচার একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। একই সঙ্গে মানুষ ও বাঘের দ্বন্দ্বের মাত্রাও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় একটি শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার প্রয়োজন আছে।”

তিনি আরও আহ্বান জানান, “যেসব ব্যক্তি চোরাকারবারে জড়িত এবং যাদের বিকল্প জীবিকার সুযোগ থাকলে সেই পথ থেকে ফিরে আসতে পারেন, তাদের একটি তালিকা তৈরি করে আমাদের জানাতে হবে, যাতে আমরা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারি।”

রিজওয়ানা হাসান বলেন, “আমাদের পরিবেশ রক্ষা ও বাঘকে টিকিয়ে রাখার সংগ্রামে সম্মিলিতভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়া দরকার। বাঘ আমাদের ঐতিহ্য, এবং এই ঐতিহ্য ধরে রাখাই আমাদের দায়িত্ব।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ এবং সভার সভাপতিত্ব করেন বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী।

আলোচনায় অংশ নেন দেশি-বিদেশি খ্যাতনামা পরিবেশবিদ ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন, দুবাই সাফারি পার্কের প্রাক্তন প্রধান বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ আলী রেজা খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও ওয়াইল্ডটিম প্রধান নির্বাহী ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম, আইইউসিএন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ বিপাশা হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম এ আজিজ, খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক মো. ছানাউল্যা পাটোয়ারী।

অনুষ্ঠানে ‘সুন্দরবনে সংঘাতপ্রবণ বাঘ ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা’ ও ‘টাইগারস্ অব দ্য সুন্দরবনস’ শীর্ষক দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। পাশাপাশি, সুন্দরবন কেন্দ্রিক লোকজ ধারার পটের গান পরিবেশন করেন স্থানীয় শিল্পীরা।

এই আয়োজনের মাধ্যমে পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নীতিনির্ধারক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বাঘ শুধু প্রাণী নয়, আমাদের অহংকার: রিজওয়ানা হাসান

সর্বশেষ আপডেট ০৬:১২:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫

বিশ্ব বাঘ দিবস ২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত এক ভার্চ্যুয়াল আলোচনায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, “বাঘ শুধু একটি বন্যপ্রাণী নয়, এটি আমাদের গর্ব, জাতিসত্তার অহংকারের প্রতীক এবং জাতীয় পরিচয়ের একটি শক্তিশালী প্রতিমূর্তি।”

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বন ভবন, আগারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় সচিবালয় থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি বলেন, “যেমন আমরা সুন্দরবন নিয়ে গর্ব করি, তেমনি রয়েল বেঙ্গল টাইগারও আমাদের অহংকারের অংশ। সাহস, ভালোবাসা ও বীরত্বের প্রতীক হিসেবে আমরা বাঘকে দেখি। ক্রিকেট দলকে ‘টাইগারস’ নামে ডাকাও সেই আবেগেরই অংশ।”

তিনি সাম্প্রতিক বাঘ শুমারির তথ্য উল্লেখ করে বলেন, “ইতিবাচক কিছু পদক্ষেপের ফলে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে, যা আশার আলো দেখাচ্ছে। তবে হরিণ শিকার বন্ধে কঠোর নজরদারি, অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবস্থা এবং চোরা শিকার রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অপরিহার্য।”

উপদেষ্টা আরও বলেন, “বাঘ নিধন ও পাচার একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। একই সঙ্গে মানুষ ও বাঘের দ্বন্দ্বের মাত্রাও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় একটি শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার প্রয়োজন আছে।”

তিনি আরও আহ্বান জানান, “যেসব ব্যক্তি চোরাকারবারে জড়িত এবং যাদের বিকল্প জীবিকার সুযোগ থাকলে সেই পথ থেকে ফিরে আসতে পারেন, তাদের একটি তালিকা তৈরি করে আমাদের জানাতে হবে, যাতে আমরা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারি।”

রিজওয়ানা হাসান বলেন, “আমাদের পরিবেশ রক্ষা ও বাঘকে টিকিয়ে রাখার সংগ্রামে সম্মিলিতভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়া দরকার। বাঘ আমাদের ঐতিহ্য, এবং এই ঐতিহ্য ধরে রাখাই আমাদের দায়িত্ব।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ এবং সভার সভাপতিত্ব করেন বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী।

আলোচনায় অংশ নেন দেশি-বিদেশি খ্যাতনামা পরিবেশবিদ ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন, দুবাই সাফারি পার্কের প্রাক্তন প্রধান বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ আলী রেজা খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও ওয়াইল্ডটিম প্রধান নির্বাহী ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম, আইইউসিএন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ বিপাশা হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম এ আজিজ, খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক মো. ছানাউল্যা পাটোয়ারী।

অনুষ্ঠানে ‘সুন্দরবনে সংঘাতপ্রবণ বাঘ ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা’ ও ‘টাইগারস্ অব দ্য সুন্দরবনস’ শীর্ষক দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। পাশাপাশি, সুন্দরবন কেন্দ্রিক লোকজ ধারার পটের গান পরিবেশন করেন স্থানীয় শিল্পীরা।

এই আয়োজনের মাধ্যমে পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নীতিনির্ধারক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।