গেজেট জারির নির্দেশ হাইকোর্টের
বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন পুনর্বহাল
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:৩৯:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 74
হাইকোর্ট বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসন পুনর্বহাল রেখে নির্বাচন কমিশনকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ ডিসেম্বর) বিচারপতি শশাঙ্গ শেখর সরকার ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ৬১ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে বাগেরহাটের চারটি আসন কমিয়ে তিনটি করার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের গেজেটকে অবৈধ ঘোষণা করেন আদালত।
রিটকারীদের পক্ষে আইনজীবী ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন এই নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, গত ১০ নভেম্বর হাইকোর্ট বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন থেকে একটি কমিয়ে তিনটি করার বিষয়ে কমিশনের গেজেটকে অবৈধ ঘোষণা করেন এবং চারটি আসন বহাল রাখার নির্দেশ দেন। বিচারপতি শশাঙ্গ শেখর সরকার ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের বেঞ্চ এ বিষয়ে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে রায় দেন।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর আদালত বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন বহাল রাখতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে রুল জারি করেছিলেন। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের গেজেট কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না সে বিষয়েও জানতে চেয়েছিলেন। নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে ১০ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছিল।
রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার শেখ মুহাম্মদ জাকির হোসেন ও সহযোগী আইনজীবীরা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইকরামুল কবির।
এর আগে বাগেরহাটে চারটি আসন বহালের দাবিতে দুটি রিট দায়ের করা হয়। রিট দায়ের করে বাগেরহাট প্রেসক্লাব, জেলা আইনজীবী সমিতি, জেলা বিএনপি, জেলা জামায়াতে ইসলামী, জেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জেলা ট্রাক মালিক সমিতি। রিটে বাংলাদেশ সরকার, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব ও অ্যাটর্নি জেনারেলকে বিবাদী করা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশন প্রাথমিকভাবে চারটি আসন থেকে একটি কমিয়ে তিনটি করার প্রস্তাব দেয়। তবে আন্দোলনের মুখে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়। কমিশন ৪ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে এবং চারটি আসন থেকে একটি কমিয়ে বাগেরহাটকে তিনটি আসনে ভাগ করে। এরপর থেকে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি আসন কমানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে হরতাল, অবরোধ, অবস্থান ও বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি চালিয়ে আসছে।
চূড়ান্ত গেজেট অনুযায়ী, বাগেরহাট-১: সদর, চিতলমারী ও মোল্লাহাট; বাগেরহাট-২: ফকিরহাট, রামপাল ও মোংলা; বাগেরহাট-৩: কচুয়া, মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা।
১৯৬৯ সাল থেকে বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসনে নির্বাচন হয়ে আসছিল। আগে বাগেরহাট-১ ছিল চিতলমারী-মোল্লাহাট-ফকিরহাট; বাগেরহাট-২: সদর-কচুয়া; বাগেরহাট-৩: রামপাল-মোংলা; বাগেরহাট-৪: মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা।































