ঢাকা ১০:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ দলকে নিষিদ্ধের আবেদন শুনতে অস্বীকৃতি দিল দিল্লি হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৪৩:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 25

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল

হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করার যে আবেদন করা হয়েছিল, তা শুনতে অস্বীকার করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এটি জনস্বার্থ মামলা হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয় এবং বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারের বাইরে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় ও বিচারপতি তেজস কারিয়ার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ শুরুতেই আবেদনটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। আদালত জানায়, আবেদনটি মূলত পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কসংক্রান্ত, যা নির্ধারণ করার ক্ষমতা সরকারের, আদালতের নয়।

বেঞ্চ মন্তব্য করে, আদালতকে অন্য দেশের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে বলা যায় না। একই সঙ্গে ভারতের সীমার বাইরে কোনো ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার এখতিয়ারও আদালতের নেই।

প্রধান বিচারপতি বলেন, সংবিধানের ২২৬ অনুচ্ছেদের আওতায় বিদেশি সরকার, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থা কিংবা অন্য দেশের ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে কোনো নির্দেশ দেওয়া সম্ভব নয়।

আদালত আরও জানায়, আবেদনকারী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি), বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে নির্দেশ চেয়েছেন। এসব সংস্থার ওপর ভারতীয় আদালতের কোনো বিচারিক ক্ষমতা নেই।

বেঞ্চ আবেদনকারীকে সতর্ক করে বলে, এ ধরনের মামলা জনস্বার্থ মামলার অপব্যবহার এবং এতে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। প্রয়োজনে বড় অঙ্কের জরিমানাও আরোপ করা হতে পারে বলে মন্তব্য করে আদালত।

শুনানিতে ভারতের ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট বোর্ডকে মামলায় পক্ষ করা হয়েছে, যা আইনগতভাবে সম্পূর্ণভাবে আদালতের এখতিয়ারের বাইরে।

আদালত বারবার আবেদনকারীকে জানায়, বিদেশি ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে রিট জারি করা যায় না। একই সঙ্গে সরকার অন্য দেশের সঙ্গে কীভাবে কূটনৈতিক বা ক্রীড়াক্ষেত্রে আচরণ করবে, তা আদালত নির্ধারণ করতে পারে না।

প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, কল্পনা বা ব্যক্তিগত ধারণার ভিত্তিতে জনস্বার্থ মামলা করা যায় না। এ ধরনের আবেদনের জন্য শক্ত আইনি ভিত্তি থাকা জরুরি।

শুনানিকালে আবেদনকারী পাকিস্তানের একটি রায়ের উদাহরণ তুলে ধরার চেষ্টা করলে আদালত তা নাকচ করে দেয়। বেঞ্চ জানায়, ভারতীয় সাংবিধানিক আদালত পাকিস্তানের বিচারব্যবস্থা অনুসরণ করে না।

শেষ পর্যন্ত বেঞ্চের ধারাবাহিক আপত্তির মুখে আবেদনকারী, যিনি নিজেকে একজন আইন শিক্ষার্থী বলে পরিচয় দেন, আবেদন প্রত্যাহারের অনুমতি চান। আদালত তার আবেদন প্রত্যাহারের অনুমতি দেয়।

আদেশে আদালত উল্লেখ করে, আবেদনটি গ্রহণযোগ্য নয় জানানো হলে আবেদনকারী তা প্রত্যাহারের আবেদন করেন এবং সে অনুযায়ী মামলাটি প্রত্যাহার হিসেবে খারিজ করা হলো।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বাংলাদেশ দলকে নিষিদ্ধের আবেদন শুনতে অস্বীকৃতি দিল দিল্লি হাইকোর্ট

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৪৩:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করার যে আবেদন করা হয়েছিল, তা শুনতে অস্বীকার করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এটি জনস্বার্থ মামলা হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয় এবং বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারের বাইরে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় ও বিচারপতি তেজস কারিয়ার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ শুরুতেই আবেদনটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। আদালত জানায়, আবেদনটি মূলত পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কসংক্রান্ত, যা নির্ধারণ করার ক্ষমতা সরকারের, আদালতের নয়।

বেঞ্চ মন্তব্য করে, আদালতকে অন্য দেশের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে বলা যায় না। একই সঙ্গে ভারতের সীমার বাইরে কোনো ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার এখতিয়ারও আদালতের নেই।

প্রধান বিচারপতি বলেন, সংবিধানের ২২৬ অনুচ্ছেদের আওতায় বিদেশি সরকার, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থা কিংবা অন্য দেশের ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে কোনো নির্দেশ দেওয়া সম্ভব নয়।

আদালত আরও জানায়, আবেদনকারী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি), বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে নির্দেশ চেয়েছেন। এসব সংস্থার ওপর ভারতীয় আদালতের কোনো বিচারিক ক্ষমতা নেই।

বেঞ্চ আবেদনকারীকে সতর্ক করে বলে, এ ধরনের মামলা জনস্বার্থ মামলার অপব্যবহার এবং এতে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। প্রয়োজনে বড় অঙ্কের জরিমানাও আরোপ করা হতে পারে বলে মন্তব্য করে আদালত।

শুনানিতে ভারতের ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট বোর্ডকে মামলায় পক্ষ করা হয়েছে, যা আইনগতভাবে সম্পূর্ণভাবে আদালতের এখতিয়ারের বাইরে।

আদালত বারবার আবেদনকারীকে জানায়, বিদেশি ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে রিট জারি করা যায় না। একই সঙ্গে সরকার অন্য দেশের সঙ্গে কীভাবে কূটনৈতিক বা ক্রীড়াক্ষেত্রে আচরণ করবে, তা আদালত নির্ধারণ করতে পারে না।

প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, কল্পনা বা ব্যক্তিগত ধারণার ভিত্তিতে জনস্বার্থ মামলা করা যায় না। এ ধরনের আবেদনের জন্য শক্ত আইনি ভিত্তি থাকা জরুরি।

শুনানিকালে আবেদনকারী পাকিস্তানের একটি রায়ের উদাহরণ তুলে ধরার চেষ্টা করলে আদালত তা নাকচ করে দেয়। বেঞ্চ জানায়, ভারতীয় সাংবিধানিক আদালত পাকিস্তানের বিচারব্যবস্থা অনুসরণ করে না।

শেষ পর্যন্ত বেঞ্চের ধারাবাহিক আপত্তির মুখে আবেদনকারী, যিনি নিজেকে একজন আইন শিক্ষার্থী বলে পরিচয় দেন, আবেদন প্রত্যাহারের অনুমতি চান। আদালত তার আবেদন প্রত্যাহারের অনুমতি দেয়।

আদেশে আদালত উল্লেখ করে, আবেদনটি গ্রহণযোগ্য নয় জানানো হলে আবেদনকারী তা প্রত্যাহারের আবেদন করেন এবং সে অনুযায়ী মামলাটি প্রত্যাহার হিসেবে খারিজ করা হলো।