বাংলাদেশে ধেঁয়ে আসছে বার্ধক্য!
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৫৪:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ জুন ২০২৪
- / 335
বাংলাদেশে আশঙ্কাজনক হারে কমেছে শিশু জন্মহার। যেমনি ঘটেছে চীন ও জাপানে। পরিসংখ্যান বলছে, গত তিন দশক ধরে ধারাবাহিকভাবেই কমছে বাংলাদেশের জন্মহার!
বাংলাদেশ পরিসংখ্যাণ ব্যুরো পরিচালিত জনশুমারি প্রতিবেদন অনুযায়ি, ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের জন্মহার ছিল দুই দশমিক ১৭ শতাংশ। যেটি ২০০১ সালে নেমে আসে এক দশমিক ৫৮ শতাংশে।
এরপর ২০১১ সালে আদমশুমারির প্রতিবেদনে দেখা যায় জন্ম হার আরো কমে এক দশমিক ৪৬ শতাংশ হয়েছে।
সর্বশেষ ২০২২ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী এই হার এক দশমিক ২২ শতাংশে নেমে এসেছে।তবে ১৯৬০ কিংবা ১৯৭০ এর দশকে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার অনেক বেশি ছিলো।
জন্মহার কমলেও বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে। দেশে বর্তমান জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৫১ লক্ষ ৫৮ হাজার ৬১৬ জন। এটি বিশ্বের ৮ম বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশ।
এখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে প্রায় এক হাজার ১১৯ জন। কিছু দ্বীপ ও নগর রাষ্ট্র বাদে জনসংখ্যার এই ঘনত্ব সারা পৃথিবীতে সর্বোচ্চ।
জাতিসংঘ বলছে ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের জনসংখ্যা হবে ২০ কোটির বেশি।
প্রশ্ন হচ্ছে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির এই হার বাংলাদেশের জন্য ভালো খবর নাকি খারাপ খবর? বিশ্লেষকরা বলছেন বিষয়টি নির্ভর করছে দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার উপর। আপাতত এটি ভালো খবর। দেশ যখন অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দিকে অগ্রসর হয় এবং নারীর শিক্ষা, ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়ে তখন এ ধরণের পরিস্থিতির তৈরি হয়। এর সাথে নগরায়নের একটি বড় ভূমিকা আছে।
বাংলাদেশে বর্তমানে ১৫ থেকে ৬৪ বছর পর্যন্ত জনগোষ্ঠী ৬৫ দশমিক ৫১ শতাংশ। এই জনগোষ্ঠীকে কর্মক্ষম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই জনগোষ্ঠী বেশি হবার কারণে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সচল থাকবে বেশি। অর্থাৎ তাদের ব্যবহার করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা সম্ভব। যদি জন্ম হার বাড়তেই থাকতো তাহলে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগানো সম্ভব হতো না। ফলে বেকারত্ব ভয়াবহ আকার ধারণ করতো।
তবে এর কিছু ভবিষ্যৎ ঝুঁকিও রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আগামী ষোল থেকে সতের বছর পর অর্থাৎ ২০৩৮ সালের পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করবে। কারণ তখন ৬৫ বছরের বেশি জনগোষ্ঠী আরো বাড়বে। পরিসংখ্যান অনুযায়ি, শূন্য থেকে ১৪ বছর বয়সী জনসংখ্যা কমছে এবং ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে জনসংখ্যা বাড়ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ি, দেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়ে ৭২.৩ বছর হয়েছে। সে অনুপাতে জন্ম ও মৃত্যুহার দুটোই কমেছে। জন্ম ও মৃত্যুহার কমে গেলে বয়স কাঠামোতে পরিবর্তন আসতে শুরু করে।
২০২২ সালের জনশুমারিতে দেখা যাচ্ছে, ৬৫ বছর থেকে শুরু করে তার ঊর্ধ্বে জনসংখ্যা ৫.৮৮ শতাংশ। এটি যদি সাত শতাংশে পৌঁছে যায় তখন সেটিকে ‘প্রবীণ সমাজ’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। সে হিসেবে ২০৬০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের প্রবীণ জনসংখ্যা হবে পাঁচ কোটির মতো। প্রবীণদের সংখ্যা শিশুদের চেয়ে বেড়ে যাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এভাবে চলতে থাকলে দেশের সমাজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। এছাড়াও দেশে কর্মক্ষম লোকের ঘাটতি দেখা দেবে। দেশ অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়বে।তিনি বলেন, প্রবীণদের বোঝা হিসেবে বিবেচনা না করে যদি তাদের দক্ষতাকে কাজে লাগানো যায় এবং তাদের কর্মক্ষম রাখা যায় তাহলে সেটি অর্থনৈতিক উন্নয়নের কাজে লাগবে। এজন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে বলে তিনি মনে করেন। জন্মহার যখন কমতে থাকে তখন এক পর্যায়ে গিয়ে সেটি জিরো গ্রোথ বা শূন্য গ্রোথ এ পৌঁছবে। কিন্তু বাংলাদেশের আপাতত সেটি হচ্ছে না।
বাংলাদেশে পুরুষদের চাইতে নারীদের গড় আয়ু বেশি কেন? বাংলাদেশে যেসব কাজের জন্য মৃত্যু নিবন্ধন জরুরি। অধ্যাপক মইনুল ইসলাম বলেন, ২০৫৭ থেকে ২০৬৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জনসংখ্যা স্থিতিশীল থাকবে। কারণ তখন জন্ম ও মৃত্যুহার সমান হবে। এরপরে মোট জনসংখ্যা আস্তে আস্তে কমতে থাকবে বলে তিনি উলেখ করেন। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমতে শুরু করলে সেটি বাড়ানো খুব কঠিন কাজ।
“কোন কোন দেশ জনসংখ্যা বাড়াতে চাইলেও বাড়াতে পারে না। আমি চীনের বেইজিং-এ ছিলাম চার বছর। ওখানে দেখা যাচ্ছে ওরা জন্মহার বাড়াতে চাইলেও আর বাড়াতে পারছে না,” বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সের অধ্যাপক মোহাম্মদ মইনুল ইসলাম।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে বর্তমানে যে বেকারত্ব রয়েছে সেটি কমে আসবে যদি জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে যাওয়া অব্যাহত থাকে।
































