ঢাকা ০৮:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন

বাংলাদেশের জেন জি বিপ্লব কি ব্যর্থ হচ্ছে?

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:২৮:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫
  • / 65

জেন জি আন্দোলন

অন্ধকারে আট বছরের নির্বাসন—যেখানে দিনের আলো বা বাতাসের কোনো প্রবাহ নেই। একজন বন্দীকে বসতে হয় তেলাপোকা, ইঁদুর ও মশার সঙ্গে। দিন-রাতের পার্থক্য বোঝা যায় না। একমাত্র কামনা থাকে—মৃত্যু। এভাবেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানাচ্ছিলেন গুম হওয়া মীর আহমদ বিন কাসেম (আরমান)। তিনি বলেন, “সেখানে আমার কিছু করার ছিল না, প্রতিটি রাতে কারারক্ষীদের আসার অপেক্ষায় থাকতাম—তারা এসে আমাকে নিয়ে যাবে বলে।”

আরমান জামায়াতে ইসলামীর নেতা মীর কাসেম আলীর ছেলে। ২০১৬ সালে গুম হওয়ার আগে তিনি পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিহিংসার লক্ষ্যবস্তু হওয়া তার পিতার আইনজীবী হিসেবে কাজ করছিলেন। সেই সময় বিশেষ কারাগারে বন্দী করা হতো বহু মানুষকে। কারাগারের নাম ছিল ‘আয়নাঘর’। সেখানে বন্দীদের হাত ও চোখ বেঁধে রাখা হতো। কয়েক শত বন্দীর মধ্যে আরমানও ছিলেন। তিনি গত বছরের ৬ আগস্ট এই ভয়ঙ্কর বন্দিদশা থেকে মুক্তি পান। আরমান বলেন, “আমি ভেবেছিলাম আমাকে মেরে ফেলা হবে। আমি দোয়া ও কালাম পড়ছিলাম। তবে হঠাৎ আমাকে উন্মুক্ত একটি মাঠে ছেড়ে দেওয়া হয়।”

মুক্তির ঠিক এক মাস আগে বাংলাদেশে ঘটে এক নজিরবিহীন ঘটনা। সরকারি চাকরিতে বৈষম্যের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন, যা দ্রুত গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই ঘটনাকে ‘বর্ষা বিপ্লব’ বা ‘মুনসুন রেভোলিউশন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। সেই অভ্যুত্থানে দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনা পতিত হন এবং দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান ভারতে। আরমান যখন মুক্তি পান, তখন এই খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, “আমার বিশ্বাসই হচ্ছিল না যে, আমরা ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি পেয়েছি।”

হাসিনা সরকারের পতনের পর ছাত্রনেতারা নতুন রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা করেন। তারা বাংলাদেশের পরবর্তী নেতার দায়িত্ব দেন শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে। তার নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এই সরকার শপথ নেয় ক্ষমতার অপব্যবহারের রাজনীতি বন্ধ করে সামাজিক, বিচারিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিতে। বিশেষ করে গত ১৫ বছরে ঘটে যাওয়া গুম, হত্যাকাণ্ড ও অর্থপাচারের তদন্ত এবং পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেয় তারা। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের দিকে এগোতে গিয়ে ড. ইউনূস এখন ১৭ কোটি নাগরিকের ঐক্য ধরে রাখার লড়াই করছেন।

একই সঙ্গে ছাত্রনেতাদের নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রাচীন পরিবারতান্ত্রিক প্রভাব আবার সক্রিয় হচ্ছে। সমাজে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বাড়ছে, কট্টর ইসলামপন্থীদের উত্থানের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগ দাবি করছে—তাদের কিছু নেতা-কর্মী হত্যা করা হয়েছে। অপরদিকে, ড. ইউনূসের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ফলে সামাজিক ঐক্য বজায় রাখা তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। অনেকের চোখে গণঅভ্যুত্থান এখন এক ‘মিথ্যা ভোর’ হিসেবে ধরা দিচ্ছে।

ঢাকার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সিনিয়র ফেলো শাফকাত মুনির বলেন, “আমাদের জাতীয় ঐক্যের একটি বিরল মুহূর্ত ছিল, যা এখন পুরোপুরি হারিয়ে গেছে। আমরা বিভক্ত, একে অপরের বিরুদ্ধে লড়ছি।”

তবে জনগণের মনে শেখ হাসিনার প্রতি প্রতিশোধের আগুন এখনও জ্বলছে। রাজধানীর রাস্তায় তার ফাঁসির দাবি নিয়ে ব্যানার টানানো হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে সংঘটিত ভয়াবহ গণহত্যার জন্য হাসিনাকে দায়ী করা হচ্ছে। ব্যানারে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবি উঠেছে। জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, অভ্যুত্থানে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হয়েছিলেন, যার মধ্যে কয়েক ডজন শিশু। অধিকাংশ নিহত হন বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম কাজগুলোর মধ্যে ছিল এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে নতুন প্রধান প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ করা হয়। তিনি বলেন, “গণহত্যার নির্দেশ, পরিকল্পনা, প্রস্তুতি, উস্কানি ও সহায়তার জন্য ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড চাওয়া হয়েছে।” তার ভাষায়, “এগুলো সবচেয়ে গুরুতর ও জঘন্যতম অপরাধ।”

প্রধান প্রসিকিউটর আরও জানান, ঢাকা ভারতের কাছে হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ পাঠিয়েছে, তবে নয়াদিল্লি এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সাড়া দেয়নি। কর্মকর্তাদের ধারণা, হাসিনাকে ফেরত আনার সম্ভাবনা কম, কারণ ভারতের প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী রাজনৈতিক অপরাধের ক্ষেত্রে অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করার অধিকার রয়েছে।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পিতা মেজর জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। তার ৮০ বছর বয়সী মা খালেদা জিয়া কয়েক দশক বিএনপির নেতৃত্বে ছিলেন এবং পরে দায়িত্বটি ছেলেকে অর্পণ করেন।

ছাত্রনেতা নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে নতুন রাজনৈতিক দল—জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তার মতে, দেশের রাজনীতিতে স্বাভাবিক ধারা ফিরিয়ে আনা জরুরি। নাহিদের ভাষায়, “গত বছরের গণঅভ্যুত্থান ছিল ফ্যাসিবাদী রাজনীতি, দুর্নীতি ও জনগণকে উপেক্ষা করার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে। মানুষ যখন রাস্তায় নেমেছিল, তারা শুধু সরকার উৎখাত চায়নি—বরং পুরনো রাজনীতি বিলোপ করে আইনের শাসন, ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা ও মর্যাদা দাবি করেছিল।” তবে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু নাও হতে পারে।

একই সময়ে আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির ভারসাম্য রক্ষাও বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, তাকে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে এবং ভারতের সঙ্গে টানাপোড়েন সামলাতে হবে। পাশাপাশি দেশের প্রধান রপ্তানি খাত গার্মেন্টস শিল্পের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন

বাংলাদেশের জেন জি বিপ্লব কি ব্যর্থ হচ্ছে?

সর্বশেষ আপডেট ০২:২৮:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫

অন্ধকারে আট বছরের নির্বাসন—যেখানে দিনের আলো বা বাতাসের কোনো প্রবাহ নেই। একজন বন্দীকে বসতে হয় তেলাপোকা, ইঁদুর ও মশার সঙ্গে। দিন-রাতের পার্থক্য বোঝা যায় না। একমাত্র কামনা থাকে—মৃত্যু। এভাবেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানাচ্ছিলেন গুম হওয়া মীর আহমদ বিন কাসেম (আরমান)। তিনি বলেন, “সেখানে আমার কিছু করার ছিল না, প্রতিটি রাতে কারারক্ষীদের আসার অপেক্ষায় থাকতাম—তারা এসে আমাকে নিয়ে যাবে বলে।”

আরমান জামায়াতে ইসলামীর নেতা মীর কাসেম আলীর ছেলে। ২০১৬ সালে গুম হওয়ার আগে তিনি পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিহিংসার লক্ষ্যবস্তু হওয়া তার পিতার আইনজীবী হিসেবে কাজ করছিলেন। সেই সময় বিশেষ কারাগারে বন্দী করা হতো বহু মানুষকে। কারাগারের নাম ছিল ‘আয়নাঘর’। সেখানে বন্দীদের হাত ও চোখ বেঁধে রাখা হতো। কয়েক শত বন্দীর মধ্যে আরমানও ছিলেন। তিনি গত বছরের ৬ আগস্ট এই ভয়ঙ্কর বন্দিদশা থেকে মুক্তি পান। আরমান বলেন, “আমি ভেবেছিলাম আমাকে মেরে ফেলা হবে। আমি দোয়া ও কালাম পড়ছিলাম। তবে হঠাৎ আমাকে উন্মুক্ত একটি মাঠে ছেড়ে দেওয়া হয়।”

মুক্তির ঠিক এক মাস আগে বাংলাদেশে ঘটে এক নজিরবিহীন ঘটনা। সরকারি চাকরিতে বৈষম্যের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন, যা দ্রুত গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই ঘটনাকে ‘বর্ষা বিপ্লব’ বা ‘মুনসুন রেভোলিউশন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। সেই অভ্যুত্থানে দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনা পতিত হন এবং দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান ভারতে। আরমান যখন মুক্তি পান, তখন এই খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, “আমার বিশ্বাসই হচ্ছিল না যে, আমরা ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি পেয়েছি।”

হাসিনা সরকারের পতনের পর ছাত্রনেতারা নতুন রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা করেন। তারা বাংলাদেশের পরবর্তী নেতার দায়িত্ব দেন শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে। তার নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এই সরকার শপথ নেয় ক্ষমতার অপব্যবহারের রাজনীতি বন্ধ করে সামাজিক, বিচারিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিতে। বিশেষ করে গত ১৫ বছরে ঘটে যাওয়া গুম, হত্যাকাণ্ড ও অর্থপাচারের তদন্ত এবং পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেয় তারা। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের দিকে এগোতে গিয়ে ড. ইউনূস এখন ১৭ কোটি নাগরিকের ঐক্য ধরে রাখার লড়াই করছেন।

একই সঙ্গে ছাত্রনেতাদের নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রাচীন পরিবারতান্ত্রিক প্রভাব আবার সক্রিয় হচ্ছে। সমাজে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বাড়ছে, কট্টর ইসলামপন্থীদের উত্থানের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগ দাবি করছে—তাদের কিছু নেতা-কর্মী হত্যা করা হয়েছে। অপরদিকে, ড. ইউনূসের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ফলে সামাজিক ঐক্য বজায় রাখা তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। অনেকের চোখে গণঅভ্যুত্থান এখন এক ‘মিথ্যা ভোর’ হিসেবে ধরা দিচ্ছে।

ঢাকার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সিনিয়র ফেলো শাফকাত মুনির বলেন, “আমাদের জাতীয় ঐক্যের একটি বিরল মুহূর্ত ছিল, যা এখন পুরোপুরি হারিয়ে গেছে। আমরা বিভক্ত, একে অপরের বিরুদ্ধে লড়ছি।”

তবে জনগণের মনে শেখ হাসিনার প্রতি প্রতিশোধের আগুন এখনও জ্বলছে। রাজধানীর রাস্তায় তার ফাঁসির দাবি নিয়ে ব্যানার টানানো হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে সংঘটিত ভয়াবহ গণহত্যার জন্য হাসিনাকে দায়ী করা হচ্ছে। ব্যানারে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবি উঠেছে। জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, অভ্যুত্থানে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হয়েছিলেন, যার মধ্যে কয়েক ডজন শিশু। অধিকাংশ নিহত হন বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম কাজগুলোর মধ্যে ছিল এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে নতুন প্রধান প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ করা হয়। তিনি বলেন, “গণহত্যার নির্দেশ, পরিকল্পনা, প্রস্তুতি, উস্কানি ও সহায়তার জন্য ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড চাওয়া হয়েছে।” তার ভাষায়, “এগুলো সবচেয়ে গুরুতর ও জঘন্যতম অপরাধ।”

প্রধান প্রসিকিউটর আরও জানান, ঢাকা ভারতের কাছে হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ পাঠিয়েছে, তবে নয়াদিল্লি এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সাড়া দেয়নি। কর্মকর্তাদের ধারণা, হাসিনাকে ফেরত আনার সম্ভাবনা কম, কারণ ভারতের প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী রাজনৈতিক অপরাধের ক্ষেত্রে অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করার অধিকার রয়েছে।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পিতা মেজর জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। তার ৮০ বছর বয়সী মা খালেদা জিয়া কয়েক দশক বিএনপির নেতৃত্বে ছিলেন এবং পরে দায়িত্বটি ছেলেকে অর্পণ করেন।

ছাত্রনেতা নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে নতুন রাজনৈতিক দল—জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তার মতে, দেশের রাজনীতিতে স্বাভাবিক ধারা ফিরিয়ে আনা জরুরি। নাহিদের ভাষায়, “গত বছরের গণঅভ্যুত্থান ছিল ফ্যাসিবাদী রাজনীতি, দুর্নীতি ও জনগণকে উপেক্ষা করার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে। মানুষ যখন রাস্তায় নেমেছিল, তারা শুধু সরকার উৎখাত চায়নি—বরং পুরনো রাজনীতি বিলোপ করে আইনের শাসন, ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা ও মর্যাদা দাবি করেছিল।” তবে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু নাও হতে পারে।

একই সময়ে আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির ভারসাম্য রক্ষাও বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, তাকে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে এবং ভারতের সঙ্গে টানাপোড়েন সামলাতে হবে। পাশাপাশি দেশের প্রধান রপ্তানি খাত গার্মেন্টস শিল্পের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।