দক্ষিণ আফ্রিকার ৩২৮ রানের জয়
বসচের তাণ্ডবে জিম্বাবুয়ের বড় পরাজয়
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫৯:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫
- / 126
সকালের প্রথম বলেই আভাস মিলেছিল দিনের দৃশ্যপটের। করবিন বসচ এক তীক্ষ্ণ শর্ট ডেলিভারিতে জিম্বাবুয়ের নিক ওয়েলচকে কাঁপিয়ে দিয়ে শর্ট লেগে ক্যাচে পরিণত করেন। এর ঠিক আগের দিন, তৃতীয় দিনের শেষ বলে তাকুদজ্বানাশে কাইতানোকে তৃতীয় স্লিপে ক্যাচ করিয়ে বসচ হয়ে যান হ্যাটট্রিকের মুখে। যদিও শন উইলিয়ামস হ্যাটট্রিক বাঁচান, তবে এরপর ১৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে জিম্বাবুয়ের ম্যাচে টিকে থাকার সব সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়। দক্ষিণ আফ্রিকা ৫৩৭ রানের লক্ষ্য দিয়ে জিম্বাবুয়েকে ২০৯ রানে অলআউট করে ৩২৮ রানে জয় তুলে নেয় চতুর্থ দিন লাঞ্চ বিরতির পরপরই।
৬ উইকেটে ৮২ রান নিয়ে বিপদে থাকা জিম্বাবুয়ের হাল ধরেন অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিন এবং ওয়েলিংটন মাসাকাদজা। সপ্তম উইকেটে তারা ৮৩ রানের লড়াকু জুটি গড়েন। দক্ষিণ আফ্রিকা কিছুটা সময়ের জন্য চাপে পড়ে, কিন্তু শর্ট লেগে টনি ডি জর্জির দুর্দান্ত ক্যাচে আবারও জুটি ভাঙেন বসচ। আরভিন ৪৯ রানে বিদায় নেন, এটি ছিল বসচের চতুর্থ উইকেট।
চার ওভার পর ভিনসেন্ট মাসেকেসাকে বোল্ড করে নিজের প্রথম টেস্ট পাঁচ উইকেট তুলে নেন বসচ। এর আগে প্রথম দিনেই ব্যাট হাতে শতরান করেছিলেন তিনি। এর মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসে মাত্র পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে এক টেস্টে সেঞ্চুরি ও পাঁচ উইকেটের কীর্তি গড়লেন বসচ। তার সঙ্গে অলরাউন্ড নৈপুণ্য দেখান উইয়ান মুলডার এবং অভিষিক্ত লুয়ান্দ্রে প্রেটোরিয়াস, যিনি প্রথম ইনিংসে খেলেছিলেন ১৫৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস।

তবে জিম্বাবুয়ে দিনটির কিছুটা সময় রঙিন করেছিল। সংকটকালীন সময়ে ব্যাট হাতে নামলেও উইলিয়ামস প্রথম আট বলেই চারটি চার মারেন। ২৬ রান করে বসচের শর্ট বলে কাইল ভেরেইনির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে সেই আগ্রাসন থামে।
২৮তম ওভারে বসচের বদলে বোলিংয়ে আসেন কোডি ইউসুফ। তিনিও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন। তিনি ১২ রানে প্রিন্স মাসভাউরেকে দ্বিতীয় স্লিপে, ওয়েসলি মাধেভেরেকে উইকেটকিপার ভেরেইনির হাতে এবং তাফাদজওা সিগাকে চতুর্থ স্লিপে ক্যাচ করান। তবে আরভিন ও মাসাকাদজা চমৎকার ব্যাটিংয়ে সেই ধাক্কা সামলে নেন।
আরভিন কেশভ মহারাজকে সুইপ, রিভার্স সুইপ এবং চার মেরে চাপে ফেলেন। মাসাকাদজাও খেলেন দারুণভাবে। মুলডারের বলে একবার কাইল ভেরেইনি তার ক্যাচ ফেলেন, যা পরে বড় জুটিতে রূপ নেয়। ৩৩তম ওভারে আরভিন রিভার্স সুইপে ফিফটি পূর্ণ করেন, তখন মহারাজ একপ্রকার পরিকল্পনাহীন হয়ে পড়েন।
দুপুরের পর, মাসাকাদজা গালির পাশ দিয়ে চার মেরে পূর্ণ করেন তার ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট ফিফটি—এর আগে তার সর্বোচ্চ ছিল ১৭। কিন্তু এরপরই বসচ আবার ফিরে আসেন। ডি জর্জির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন আরভিন। এর সঙ্গে সঙ্গেই জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় ধস শুরু হয়। মাসাকাদজা ও মাসেকেসা বিদায় নেন একে একে।
তবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে আরও বিরক্ত করেন নাম্বার টেন ব্যাটার ব্লেসিং মুজারাবানি। ডিওয়াল্ড ব্রেভিসের ৬৪তম ওভারে ৪, ৪, ৬ মারেন। এরপর মহারাজকেও মারেন এক চার ও ছক্কা। তবে শেষ পর্যন্ত ব্রেভিস নিজের প্রথম টেস্ট উইকেট তুলে নেন তানাকা চিভাঙ্গাকে স্টাম্প করে, যখন তিনি বল মিস করে এগিয়ে গিয়েছিলেন।
এই জয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলো এবং জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এটি তাদের রানের ব্যবধানে সবচেয়ে বড় জয় হিসেবে রেকর্ডে নাম লেখাল।
































