ঢাকা ০৪:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বরিশালে লাশ উদ্ধারে গিয়ে পুলিশের বর্বরতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:০২:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ জুন ২০২৫
  • / 318

বরিশালে লাশ উদ্ধারে পুলিশ কাণ্ডে তোলপাড়!

গত শনিবার ঈদুল আজহার দিন সকালে বরিশাল নগরীর কেডিসি এলাকা সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীতে ভেসে ওঠে এক অচেনা মৃতদেহ। মৃত ওই ব্যক্তির নাম জসিম উদ্দিন খান।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়রা জানান, তারা সকাল ৮টার দিকে নদীতে মরদেহটি দেখতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেন।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বরিশাল সদর নৌ থানা পুলিশের এসআই বেলায়েত হোসেন ও এএসআই তাপস কুমার। কিন্তু এরপর যা ঘটে, তা দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে যান প্রত্যক্ষদর্শীরা। তারা আরও জানান, পুলিশ সদস্যরা মরদেহটির গলায় দড়ি বেঁধে সেটিকে একটি ট্রলারের সঙ্গে টেনে তীরে নিয়ে আসেন। মরদেহটিকে এভাবে গলায় রশি বেঁধে টেনে আনাটা কী ধরনের প্রক্রিয়া? এর চেয়ে বড় অমানবিকতা আর কী হতে পারে? বিষয়টিকে পুলিশের চূড়ান্ত বর্বরতা হিসেবেই দেখছেন অনেকে।

এ ঘটনার একটি ভিডিও ও ছবি ইতোমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—কেন একজন মৃত মানুষের প্রতি এমন অমানবিক আচরণ করা হলো? কোথায় পুলিশের পেশাগত দায়িত্ববোধ, মানবিকতা?

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “এই দৃশ্য দেখে আমরা হতবাক। মরদেহের প্রতি এমন আচরণ শুধুমাত্র অমানবিকই নয়, বরং আইনগতভাবেও গুরুতর অপরাধ হতে পারে।”

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করা হয় এএসআই তাপস কুমারের সঙ্গে। তিনি প্রথমে ফোনে তেমন কোনো সদুত্তর দেননি, পরে ক্যামেরার সামনে কথা বলতেও অস্বীকৃতি জানান। উল্টো অনুরোধ করেন, যেন এই ঘটনা নিয়ে কোনো সংবাদ প্রকাশ না করা হয়। অভিযোগ আছে, তিনি পরে সংবাদটি বন্ধে একাধিকবার চেষ্টা করেছেন এবং বিভিন্ন মহলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

আর মরদেহটি টেনে হিচড়ে নেওয়ার ব্যাপারে কোনো উত্তর না দিলেও এসআই বেলায়েত হোসেন বলেন, “আমরা ওসি স্যারের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই।”

বরিশাল সদর নৌ থানার ওসি সনাতন চন্দ্র সরকারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে থানায় সরেজমিন উপস্থিত হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে থানা সূত্রে জানা যায়, ওসি নিজেও গিয়েছিলেন ওই উদ্ধার অভিযানে।

অন্যদিকে, ঘটনা সম্পর্কে বরিশাল অঞ্চল নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার এস. এম. নাজমুল হক জানান, “এ বিষয়ে আমি জানি না, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।”

তবে শেষ পর্যন্ত এই অমানবিক ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। জনগণের প্রত্যাশা—এ ঘটনা যেন শুধু একটি ‘তদন্ত চলছে’ বিবৃতিতে চাপা না পড়ে, বরং জবাবদিহি নিশ্চিত করে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বরিশালে লাশ উদ্ধারে গিয়ে পুলিশের বর্বরতা

সর্বশেষ আপডেট ০৫:০২:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ জুন ২০২৫

গত শনিবার ঈদুল আজহার দিন সকালে বরিশাল নগরীর কেডিসি এলাকা সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীতে ভেসে ওঠে এক অচেনা মৃতদেহ। মৃত ওই ব্যক্তির নাম জসিম উদ্দিন খান।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়রা জানান, তারা সকাল ৮টার দিকে নদীতে মরদেহটি দেখতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেন।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বরিশাল সদর নৌ থানা পুলিশের এসআই বেলায়েত হোসেন ও এএসআই তাপস কুমার। কিন্তু এরপর যা ঘটে, তা দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে যান প্রত্যক্ষদর্শীরা। তারা আরও জানান, পুলিশ সদস্যরা মরদেহটির গলায় দড়ি বেঁধে সেটিকে একটি ট্রলারের সঙ্গে টেনে তীরে নিয়ে আসেন। মরদেহটিকে এভাবে গলায় রশি বেঁধে টেনে আনাটা কী ধরনের প্রক্রিয়া? এর চেয়ে বড় অমানবিকতা আর কী হতে পারে? বিষয়টিকে পুলিশের চূড়ান্ত বর্বরতা হিসেবেই দেখছেন অনেকে।

এ ঘটনার একটি ভিডিও ও ছবি ইতোমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—কেন একজন মৃত মানুষের প্রতি এমন অমানবিক আচরণ করা হলো? কোথায় পুলিশের পেশাগত দায়িত্ববোধ, মানবিকতা?

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “এই দৃশ্য দেখে আমরা হতবাক। মরদেহের প্রতি এমন আচরণ শুধুমাত্র অমানবিকই নয়, বরং আইনগতভাবেও গুরুতর অপরাধ হতে পারে।”

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করা হয় এএসআই তাপস কুমারের সঙ্গে। তিনি প্রথমে ফোনে তেমন কোনো সদুত্তর দেননি, পরে ক্যামেরার সামনে কথা বলতেও অস্বীকৃতি জানান। উল্টো অনুরোধ করেন, যেন এই ঘটনা নিয়ে কোনো সংবাদ প্রকাশ না করা হয়। অভিযোগ আছে, তিনি পরে সংবাদটি বন্ধে একাধিকবার চেষ্টা করেছেন এবং বিভিন্ন মহলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

আর মরদেহটি টেনে হিচড়ে নেওয়ার ব্যাপারে কোনো উত্তর না দিলেও এসআই বেলায়েত হোসেন বলেন, “আমরা ওসি স্যারের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই।”

বরিশাল সদর নৌ থানার ওসি সনাতন চন্দ্র সরকারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে থানায় সরেজমিন উপস্থিত হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে থানা সূত্রে জানা যায়, ওসি নিজেও গিয়েছিলেন ওই উদ্ধার অভিযানে।

অন্যদিকে, ঘটনা সম্পর্কে বরিশাল অঞ্চল নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার এস. এম. নাজমুল হক জানান, “এ বিষয়ে আমি জানি না, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।”

তবে শেষ পর্যন্ত এই অমানবিক ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। জনগণের প্রত্যাশা—এ ঘটনা যেন শুধু একটি ‘তদন্ত চলছে’ বিবৃতিতে চাপা না পড়ে, বরং জবাবদিহি নিশ্চিত করে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়।