ঢাকা ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বরখাস্তের মুখে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ইবি (কুষ্টিয়া)
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:১৬:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫
  • / 140

বরখাস্তের মুখে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ শিক্ষক

জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতা করার অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ১৯ শিক্ষক ও ১১ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে। একই সঙ্গে ৩৩ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা এবং সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত ২৭১তম সিন্ডিকেট সভায় গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ।

সিন্ডিকেট সূত্র জানায়, অভিযুক্তরা জুলাই আন্দোলনের বিরোধী ভূমিকা রেখেছেন। তাদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে উপাচার্য একটি শাস্তি নির্ধারণ কমিটি গঠন করবেন। পড়াশোনা শেষ হওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সনদ বাতিল এবং অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বহিষ্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে আন্দোলনের বিরোধে জড়িতদের শনাক্তের জন্য ১৬ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি প্রত্যক্ষদর্শী, ভিডিওচিত্র, সংবাদ প্রতিবেদনসহ নানা প্রমাণ যাচাই করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করে। ১৩ আগস্ট কমিটি তাদের বিষয়ে শাস্তির সুপারিশ সহ প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় এবং সর্বশেষ সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

বরখাস্ত শিক্ষকরা হলেন–
ব্যবস্থাপনা বিভাগের ড. মাহবুবুল আরেফিন, আইসিটি বিভাগের ড. পরেশ চন্দ্র বর্মণ ও ড. তপন কুমার জোদ্দার, ইইই বিভাগের ড. মাহবুবর রহমান, বাংলা বিভাগের ড. রবিউল হোসেন ও ড. বাকী বিল্লাহ বিকুল, ইংরেজি বিভাগের ড. মিয়া রাসিদুজ্জামান, ড. আক্তারুল ইসলাম জিল্লু ও ড. আফরোজা বানু, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ড. কাজী আখতার হোসেন ও ড. শেলীনা নাসরীন, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ড. শহিদুল ইসলাম, অর্থনীতি বিভাগের ড. দেবাশীষ শর্মা, সিএসই বিভাগের ড. জয়শ্রী সেন, আইন বিভাগের ড. শাহজাহান মণ্ডল ও ড. রেবা মণ্ডল, আল-ফিকহ অ্যান্ড ল’র ড. আমজাদ হোসেন, ল অ্যান্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মেহেদী হাসান ও মার্কেটিং বিভাগের মাজেদুল হক।

কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হলেন–
প্রশাসন ও সংস্থাপন শাখার উপরেজিস্ট্রার আলমগীর হোসেন খান ও আব্দুল হান্নান, ড. ইব্রাহীম হোসেন সোনা, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের সহকারী রেজিস্ট্রার ওয়ালিদ হাসান মুকুট ও মাসুদুর রহমান, উপরেজিস্ট্রার আব্দুস সালাম সেলিম, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শাখা কর্মকর্তা উকীল উদ্দিন, ফার্মেসি বিভাগের জাহাঙ্গীর আলম (শিমুল), আইসিটি সেলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জে এম ইলিয়াস, অর্থ ও হিসাব বিভাগের শাখা কর্মকর্তা তোফাজ্জেল হোসেন, তথ্য, প্রকাশনা ও জনসংযোগ দপ্তরের উপরেজিস্ট্রার (ফটোগ্রাফি) শেখ আবু সিদ্দিক রোকন।

এছাড়া শিক্ষার্থীরা হলেন–
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতির বিপুল খান, মুন্সি কামরুল হাসান অনিক, অর্থনীতির নাসিম আহমেদ জয়, তানভীর, শেখ সাদি, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মেহেদী হাসান হাফিজ ও শাহীন আলম, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের রতন রায়, মনিরুল ইসলাম আসিফ, ইমামুল মুক্তাকী শিমুল, মার্কেটিং বিভাগের হুসাইন মজুমদার, বাংলা বিভাগের তরিকুল ইসলাম ও আব্দুল আলিম, ফারহান লাবিব ধ্রুব, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের মৃদুল রাব্বী ও রাফিদ, ইংরেজি বিভাগের ফজলে রাব্বী ও মাসুদ রানা, ল অ্যান্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্টের শাকিল, বিজন রায়, শেখ সোহাগ, শাওন, ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিমুল খান, লিয়াফত ইসলাম রাকিব, আইন বিভাগের কামাল হোসেন, আরবি ভাষা ও সাহিত্যের মেজবাহুল ইসলাম, সমাজকল্যাণ বিভাগের অনিক কুমার, মাজহারুল ইসলাম, মারুফ ইসলাম, চারুকলা বিভাগের পিয়াস, আল-ফিকহ অ্যান্ড ল’র প্রাঞ্জল, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের নাবিল আহমেদ ইমন এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের আদনান আলী পাটোয়ারী প্রমুখ।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বরখাস্তের মুখে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ শিক্ষক

সর্বশেষ আপডেট ১০:১৬:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫

জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতা করার অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ১৯ শিক্ষক ও ১১ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে। একই সঙ্গে ৩৩ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা এবং সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত ২৭১তম সিন্ডিকেট সভায় গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ।

সিন্ডিকেট সূত্র জানায়, অভিযুক্তরা জুলাই আন্দোলনের বিরোধী ভূমিকা রেখেছেন। তাদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে উপাচার্য একটি শাস্তি নির্ধারণ কমিটি গঠন করবেন। পড়াশোনা শেষ হওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সনদ বাতিল এবং অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বহিষ্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে আন্দোলনের বিরোধে জড়িতদের শনাক্তের জন্য ১৬ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি প্রত্যক্ষদর্শী, ভিডিওচিত্র, সংবাদ প্রতিবেদনসহ নানা প্রমাণ যাচাই করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করে। ১৩ আগস্ট কমিটি তাদের বিষয়ে শাস্তির সুপারিশ সহ প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় এবং সর্বশেষ সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

বরখাস্ত শিক্ষকরা হলেন–
ব্যবস্থাপনা বিভাগের ড. মাহবুবুল আরেফিন, আইসিটি বিভাগের ড. পরেশ চন্দ্র বর্মণ ও ড. তপন কুমার জোদ্দার, ইইই বিভাগের ড. মাহবুবর রহমান, বাংলা বিভাগের ড. রবিউল হোসেন ও ড. বাকী বিল্লাহ বিকুল, ইংরেজি বিভাগের ড. মিয়া রাসিদুজ্জামান, ড. আক্তারুল ইসলাম জিল্লু ও ড. আফরোজা বানু, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ড. কাজী আখতার হোসেন ও ড. শেলীনা নাসরীন, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ড. শহিদুল ইসলাম, অর্থনীতি বিভাগের ড. দেবাশীষ শর্মা, সিএসই বিভাগের ড. জয়শ্রী সেন, আইন বিভাগের ড. শাহজাহান মণ্ডল ও ড. রেবা মণ্ডল, আল-ফিকহ অ্যান্ড ল’র ড. আমজাদ হোসেন, ল অ্যান্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মেহেদী হাসান ও মার্কেটিং বিভাগের মাজেদুল হক।

কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হলেন–
প্রশাসন ও সংস্থাপন শাখার উপরেজিস্ট্রার আলমগীর হোসেন খান ও আব্দুল হান্নান, ড. ইব্রাহীম হোসেন সোনা, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের সহকারী রেজিস্ট্রার ওয়ালিদ হাসান মুকুট ও মাসুদুর রহমান, উপরেজিস্ট্রার আব্দুস সালাম সেলিম, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শাখা কর্মকর্তা উকীল উদ্দিন, ফার্মেসি বিভাগের জাহাঙ্গীর আলম (শিমুল), আইসিটি সেলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জে এম ইলিয়াস, অর্থ ও হিসাব বিভাগের শাখা কর্মকর্তা তোফাজ্জেল হোসেন, তথ্য, প্রকাশনা ও জনসংযোগ দপ্তরের উপরেজিস্ট্রার (ফটোগ্রাফি) শেখ আবু সিদ্দিক রোকন।

এছাড়া শিক্ষার্থীরা হলেন–
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতির বিপুল খান, মুন্সি কামরুল হাসান অনিক, অর্থনীতির নাসিম আহমেদ জয়, তানভীর, শেখ সাদি, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মেহেদী হাসান হাফিজ ও শাহীন আলম, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের রতন রায়, মনিরুল ইসলাম আসিফ, ইমামুল মুক্তাকী শিমুল, মার্কেটিং বিভাগের হুসাইন মজুমদার, বাংলা বিভাগের তরিকুল ইসলাম ও আব্দুল আলিম, ফারহান লাবিব ধ্রুব, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের মৃদুল রাব্বী ও রাফিদ, ইংরেজি বিভাগের ফজলে রাব্বী ও মাসুদ রানা, ল অ্যান্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্টের শাকিল, বিজন রায়, শেখ সোহাগ, শাওন, ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিমুল খান, লিয়াফত ইসলাম রাকিব, আইন বিভাগের কামাল হোসেন, আরবি ভাষা ও সাহিত্যের মেজবাহুল ইসলাম, সমাজকল্যাণ বিভাগের অনিক কুমার, মাজহারুল ইসলাম, মারুফ ইসলাম, চারুকলা বিভাগের পিয়াস, আল-ফিকহ অ্যান্ড ল’র প্রাঞ্জল, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের নাবিল আহমেদ ইমন এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের আদনান আলী পাটোয়ারী প্রমুখ।