ঢাকা ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ববির পদোন্নতিতে ইউজিসির আপত্তি, উপাচার্যের বৃদ্ধাঙ্গুলি

নিজস্ব প্রতিবদেক, ববি
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:৪৮:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫
  • / 199

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি)। ছবি: সংগৃহীত

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৪টি অধ্যাপক পদে পদোন্নতি নিয়ে অডিট আপত্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। সম্প্রতি পরিদর্শনে আসা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বাজেট টিম ১৭টি বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। এর মধ্যে ৬টি আপত্তি পদোন্নতি ও নিয়োগ সংক্রান্ত এবং ৪টি রেজিস্ট্রার সংক্রান্ত। তবে ইউজিসির এসব অডিট আপত্তির তোয়াক্কা না করে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম অধ্যাপক পদে পদোন্নতির বোর্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ অক্টোবর থেকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি বোর্ড শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে অধিকাংশ বিভাগের বোর্ড সম্পন্ন হয়েছে। আগামীকাল (১ নভেম্বর) উদ্ভিদবিজ্ঞান ও ইতিহাস বিভাগের পদোন্নতি বোর্ড বসানোর মাধ্যমে অধ্যাপক পদে পদোন্নতির বোর্ড কার্যক্রম শেষ হবে। এর আগে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ খ্যাত শিক্ষকদের অধ্যাপক পদে পদোন্নতি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারিত হলে বিষয়টি নজরে আসে ইউজিসির। গত ২২ অক্টোবর তারা বাজেট টিম পাঠায়। ঐ টিম ১৭টি বিষয়ে অডিট আপত্তি দিয়ে বিভিন্ন খাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট বাজেটের ১০ কোটি টাকা আটকে দেয়।

পদোন্নতি ও নিয়োগ সংক্রান্ত অডিট আপত্তিগুলো হলো, অনুমোদন ছাড়াই অনিয়মিত প্রভাষক নিয়োগ, পদ না থাকার পরেও অধ্যাপক পদে আপগ্রেডেশন প্রক্রিয়া গ্রহন, দৈনিক ভিত্তিক কর্মচারী নিয়োগ, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পদোন্নতি নীতিমালায় অসংগতি, অনিয়মিত পর্যায়োন্নয়ন। রেজিস্ট্রার সংক্রান্ত আপত্তি হলো রেজিস্ট্রার অধ্যাপক হয়েও কেন সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কমিটির সদস্য, আবাসিক কর্মকর্তা হিসেবে তিনি কেন ক্যাম্পাসের ভেতরে থাকেন না ও রেজিস্ট্রার কেন গাড়ি ব্যবহার করেন।

ইউজিসির অডিট আপত্তিতে বলা হয়েছে, অধ্যাপক পদে আপগ্রেডেশনের ক্ষেত্রে ২৪ টি অধ্যাপক পদের বিপরীতে ২টি শূণ্যপদ ব্যতিত ইউজিসির কোনো অনুমোদিত পদ নেই। যে ৯টি অধ্যাপক পদে অনুমোদন আছে তার বিপরীতে ইউজিসির অনুমোদন ছাড়াই অধ্যাপক পদটি ব্লক করে ৭ জন প্রভাষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ৭ টি অধ্যাপক পদের বিপরীতে ৭ জন প্রভাষক নিয়োগ নিয়মসিদ্ধ হয়নি। তেমনি ব্লক করে রাখা ৭টি অধ্যাপক পদের বিপরীতে পুনরায় আপগ্রেডেশন প্রদান নিয়মসিদ্ধ হবে না। অবশিষ্ট দুটি শূণ্য অধ্যাপক পদের ইউজিসির অনাপত্তিপত্র নিয়ে উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ প্রদান না করে উক্ত পদের বিপরীতে আপগ্রেডেশন প্রদানের সুযোগ নেই।

আরেকটি আপত্তিতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের গত ৭ জুলাই প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১০ জন প্রভাষক নিয়োগ দেয়া হয়। যেখানে ৬টি প্রভাষক পদে ইউজিসির আর্থিক ও প্রশাসনিক অনুমোদন নেই । অবশিষ্ট ৪টি পদে ইউজিসির অনুমোদন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অর্থবছরে নিয়োগ কার্য সম্পন্ন না করায় নিয়ম ভঙ্গ করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, জৌষ্ঠ শিক্ষকদের অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দিতে উপাচার্য তড়িঘড়ি করে ১০টি প্রভাষক পদে পুনঃ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন। এর আগে গত বছরের ৬ মার্চ ও ২ জুন দুই দফায় মোট ৫১টি প্রভাষক পদের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয় ।

কেটে নিলো ১০ কোটি:
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মোট বাজেট বরাদ্দ হয়েছিল প্রায় ৬৪ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে কমে হয়েছে প্রায় ৫৪ কোটি টাকা। অডিট আপত্তি দিয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকা আটকে দিয়েছে ইউজিসি।

বরাদ্দ আটকে দেওয়া উল্লেখযোগ্য খাতগুলো হচ্ছে– অনুমতিহীন দৈনিক মজুর কর্মচারীদের জন্য ৮৪ লাখ টাকা, বিআরটিসি বাস ভাড়া বাবদ এক কোটি ৭২ লাখ, আবাসিক ভবন ভাড়া বাবদ ১৪ লাখ ৫০ হাজার, আউটসোর্সিং বাবদ ১০ লাখ, শ্রমিক মজুরি আট লাখ, আনসার নিয়োগ ৯০ লাখ, পরিবহন ব্যয় দুই কোটি ৭৬ লাখ, যৌন হয়রানি প্রতিরোধসহ বিভিন্ন কমিটির কার্যক্রম বাবদ ২১ লাখ টাকা।

ববির অর্থ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ইউজিসির তিন সদস্যের বাজেট অডিট টিম হঠাৎ গত ২২ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়। তাদের আপত্তিতে ববির বাজেট ওয়ার্কিং কমিটি জবাব দিয়েছিল। তবে তা গ্রহণযোগ্য হয়নি।

এ বিষয়ে ববির অর্থ দপ্তরের উপপরিচালক (অর্থ ও হিসাব) আতিকুর রহমান বলেন, ইউজিসির রিপোর্ট উপাচার্যের নিকট আছে, কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে গেছে৷ এ বছর প্রায় ১০ কোটি টাকা আটকে কেন গেল প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমরা চাকরি করি,এসব বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবেন বলে জানান তিনি৷”

পদোন্নতি নিয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে বলেন, ইউজিসি যা বলবূসেটা আমরা মানতে বাধ্য। তবে আমরা কোন লিখিত অডিট আপত্তি পায়নি পেলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব৷অডিট আপত্তি থাকলে আমাদের সাথে ইউজিসির সাথে মিটিং হবে। তখন একটা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ববির পদোন্নতিতে ইউজিসির আপত্তি, উপাচার্যের বৃদ্ধাঙ্গুলি

সর্বশেষ আপডেট ০২:৪৮:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৪টি অধ্যাপক পদে পদোন্নতি নিয়ে অডিট আপত্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। সম্প্রতি পরিদর্শনে আসা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বাজেট টিম ১৭টি বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। এর মধ্যে ৬টি আপত্তি পদোন্নতি ও নিয়োগ সংক্রান্ত এবং ৪টি রেজিস্ট্রার সংক্রান্ত। তবে ইউজিসির এসব অডিট আপত্তির তোয়াক্কা না করে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম অধ্যাপক পদে পদোন্নতির বোর্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ অক্টোবর থেকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি বোর্ড শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে অধিকাংশ বিভাগের বোর্ড সম্পন্ন হয়েছে। আগামীকাল (১ নভেম্বর) উদ্ভিদবিজ্ঞান ও ইতিহাস বিভাগের পদোন্নতি বোর্ড বসানোর মাধ্যমে অধ্যাপক পদে পদোন্নতির বোর্ড কার্যক্রম শেষ হবে। এর আগে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ খ্যাত শিক্ষকদের অধ্যাপক পদে পদোন্নতি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারিত হলে বিষয়টি নজরে আসে ইউজিসির। গত ২২ অক্টোবর তারা বাজেট টিম পাঠায়। ঐ টিম ১৭টি বিষয়ে অডিট আপত্তি দিয়ে বিভিন্ন খাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট বাজেটের ১০ কোটি টাকা আটকে দেয়।

পদোন্নতি ও নিয়োগ সংক্রান্ত অডিট আপত্তিগুলো হলো, অনুমোদন ছাড়াই অনিয়মিত প্রভাষক নিয়োগ, পদ না থাকার পরেও অধ্যাপক পদে আপগ্রেডেশন প্রক্রিয়া গ্রহন, দৈনিক ভিত্তিক কর্মচারী নিয়োগ, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পদোন্নতি নীতিমালায় অসংগতি, অনিয়মিত পর্যায়োন্নয়ন। রেজিস্ট্রার সংক্রান্ত আপত্তি হলো রেজিস্ট্রার অধ্যাপক হয়েও কেন সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কমিটির সদস্য, আবাসিক কর্মকর্তা হিসেবে তিনি কেন ক্যাম্পাসের ভেতরে থাকেন না ও রেজিস্ট্রার কেন গাড়ি ব্যবহার করেন।

ইউজিসির অডিট আপত্তিতে বলা হয়েছে, অধ্যাপক পদে আপগ্রেডেশনের ক্ষেত্রে ২৪ টি অধ্যাপক পদের বিপরীতে ২টি শূণ্যপদ ব্যতিত ইউজিসির কোনো অনুমোদিত পদ নেই। যে ৯টি অধ্যাপক পদে অনুমোদন আছে তার বিপরীতে ইউজিসির অনুমোদন ছাড়াই অধ্যাপক পদটি ব্লক করে ৭ জন প্রভাষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ৭ টি অধ্যাপক পদের বিপরীতে ৭ জন প্রভাষক নিয়োগ নিয়মসিদ্ধ হয়নি। তেমনি ব্লক করে রাখা ৭টি অধ্যাপক পদের বিপরীতে পুনরায় আপগ্রেডেশন প্রদান নিয়মসিদ্ধ হবে না। অবশিষ্ট দুটি শূণ্য অধ্যাপক পদের ইউজিসির অনাপত্তিপত্র নিয়ে উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ প্রদান না করে উক্ত পদের বিপরীতে আপগ্রেডেশন প্রদানের সুযোগ নেই।

আরেকটি আপত্তিতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের গত ৭ জুলাই প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১০ জন প্রভাষক নিয়োগ দেয়া হয়। যেখানে ৬টি প্রভাষক পদে ইউজিসির আর্থিক ও প্রশাসনিক অনুমোদন নেই । অবশিষ্ট ৪টি পদে ইউজিসির অনুমোদন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অর্থবছরে নিয়োগ কার্য সম্পন্ন না করায় নিয়ম ভঙ্গ করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, জৌষ্ঠ শিক্ষকদের অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দিতে উপাচার্য তড়িঘড়ি করে ১০টি প্রভাষক পদে পুনঃ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন। এর আগে গত বছরের ৬ মার্চ ও ২ জুন দুই দফায় মোট ৫১টি প্রভাষক পদের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয় ।

কেটে নিলো ১০ কোটি:
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মোট বাজেট বরাদ্দ হয়েছিল প্রায় ৬৪ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে কমে হয়েছে প্রায় ৫৪ কোটি টাকা। অডিট আপত্তি দিয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকা আটকে দিয়েছে ইউজিসি।

বরাদ্দ আটকে দেওয়া উল্লেখযোগ্য খাতগুলো হচ্ছে– অনুমতিহীন দৈনিক মজুর কর্মচারীদের জন্য ৮৪ লাখ টাকা, বিআরটিসি বাস ভাড়া বাবদ এক কোটি ৭২ লাখ, আবাসিক ভবন ভাড়া বাবদ ১৪ লাখ ৫০ হাজার, আউটসোর্সিং বাবদ ১০ লাখ, শ্রমিক মজুরি আট লাখ, আনসার নিয়োগ ৯০ লাখ, পরিবহন ব্যয় দুই কোটি ৭৬ লাখ, যৌন হয়রানি প্রতিরোধসহ বিভিন্ন কমিটির কার্যক্রম বাবদ ২১ লাখ টাকা।

ববির অর্থ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ইউজিসির তিন সদস্যের বাজেট অডিট টিম হঠাৎ গত ২২ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়। তাদের আপত্তিতে ববির বাজেট ওয়ার্কিং কমিটি জবাব দিয়েছিল। তবে তা গ্রহণযোগ্য হয়নি।

এ বিষয়ে ববির অর্থ দপ্তরের উপপরিচালক (অর্থ ও হিসাব) আতিকুর রহমান বলেন, ইউজিসির রিপোর্ট উপাচার্যের নিকট আছে, কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে গেছে৷ এ বছর প্রায় ১০ কোটি টাকা আটকে কেন গেল প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমরা চাকরি করি,এসব বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবেন বলে জানান তিনি৷”

পদোন্নতি নিয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে বলেন, ইউজিসি যা বলবূসেটা আমরা মানতে বাধ্য। তবে আমরা কোন লিখিত অডিট আপত্তি পায়নি পেলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব৷অডিট আপত্তি থাকলে আমাদের সাথে ইউজিসির সাথে মিটিং হবে। তখন একটা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।