ঢাকা ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ববির টিএসসি যেন বোবা ভূত, ঠাঁই নেই অধিকাংশ সংগঠনের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ববি (বরিশাল)
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:৩৬:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 72

ববির টিএসসি যেন বোবা ভূত, ঠাঁই নেই অধিকাংশ সংগঠনের

কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) শব্দটি শুনলেই সাধারণত এমন একটি স্থানের চিত্র ভেসে ওঠে, যা সবসময় থাকে শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের পদচারণায় মুখরিত। এটি হয় সেই প্রতিষ্ঠানের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চর্চার কেন্দ্রস্থল। ক্যাম্পাসের প্রায় প্রতিটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয় এখান থেকেই।

কিন্তু শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) টিএসসির চিত্র একেবারেই ভিন্ন। বন্ধের দিনে অধিকাংশ সময় টিএসসি থাকে নীরব, গেটে ঝুলে থাকে তালা। ফলে শিক্ষার্থীরা চাইলেও সেখানে আড্ডা দিতে পারেন না। টিএসসির ক্যাফেটেরিয়াও প্রায়শই বন্ধ থাকে।

ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী রনি খান বলেন, “টিএসসি (টিচার্স-স্টুডেন্টস সেন্টার) বাংলাদেশের প্রায় সব বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্র। সেখানে শিক্ষার্থীরা একাডেমিক পড়াশোনার বাইরে এসে সাংস্কৃতিক, ধর্মীয়, সামাজিক ও সংগঠনভিত্তিক নানা কার্যক্রমে অংশ নেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণ শিক্ষার্থীদের আড্ডা, শিল্পচর্চা, রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করার অন্যতম ক্ষেত্র। এটি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ, সৃজনশীলতা এবং সুস্থ বিনোদনের বড় মাধ্যম। কিন্তু বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির প্রেক্ষাপট ভিন্ন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের পড়াশোনা, পরীক্ষা ও চাপের কারণে শিক্ষার্থীরা মানসিক অবসাদে ভোগে। ঠিক তখনই একটি সক্রিয় টিএসসি তাদের জন্য প্রশান্তির জায়গা হতে পারত। কিন্তু দুঃখজনকভাবে ববির টিএসসি সাপ্তাহিক ছুটির দিনে খোলা থাকে না; অনেক সময় তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকে।”

শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ৩৫টিরও বেশি সক্রিয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন থাকলেও টিএসসিতে হাতেগোনা কয়েকটি সংগঠনেরই কার্যালয় রয়েছে। এতে মুক্ত বুদ্ধি চর্চা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ এই সংকটের মধ্যেও শিক্ষকদের জন্য একটি রুম বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা কার্যত ব্যবহার হয় না।

এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাবের সভাপতি মেহেদী আরেফিন বলেন, “আমরা লক্ষ্য করেছি টিএসসির একটি ফ্লোর শিক্ষকদের জন্য সংরক্ষিত। ফলে শিক্ষার্থীদের চাহিদা পূরণে ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। আমাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেন টিএসসির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে এবং শিক্ষার্থীদের কার্যক্রম পরিচালনায় রুম বরাদ্দে আরও সহায়ক ভূমিকা রাখে। এতে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ হবে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টিএসসির পরিচালক মো. তারিকুল হক বলেন, “প্রথমত জায়গা সংকটের কারণেই আমাদের বেশিরভাগ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। রুম সংকটের জন্য আমরা চাইলে সব সংগঠনকে বরাদ্দ দিতে পারছি না। তবে আশা করছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প শেষ হলে এই সংকট নিরসন হবে। আরেকটি বিষয় হলো—স্টাফ সংকটের কারণে আমরা ছুটির দিনে টিএসসি খোলা রাখতে পারি না। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে দেখব নতুন স্টাফ নিয়োগের সুযোগ আছে কি না। আর শিক্ষকদের জন্য একটি রুম বরাদ্দ থাকার বিষয়টি স্বাভাবিক, কারণ এর নামই টিচার্স-স্টুডেন্টস সেন্টার।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ববির টিএসসি যেন বোবা ভূত, ঠাঁই নেই অধিকাংশ সংগঠনের

সর্বশেষ আপডেট ০৪:৩৬:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) শব্দটি শুনলেই সাধারণত এমন একটি স্থানের চিত্র ভেসে ওঠে, যা সবসময় থাকে শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের পদচারণায় মুখরিত। এটি হয় সেই প্রতিষ্ঠানের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চর্চার কেন্দ্রস্থল। ক্যাম্পাসের প্রায় প্রতিটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয় এখান থেকেই।

কিন্তু শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) টিএসসির চিত্র একেবারেই ভিন্ন। বন্ধের দিনে অধিকাংশ সময় টিএসসি থাকে নীরব, গেটে ঝুলে থাকে তালা। ফলে শিক্ষার্থীরা চাইলেও সেখানে আড্ডা দিতে পারেন না। টিএসসির ক্যাফেটেরিয়াও প্রায়শই বন্ধ থাকে।

ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী রনি খান বলেন, “টিএসসি (টিচার্স-স্টুডেন্টস সেন্টার) বাংলাদেশের প্রায় সব বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্র। সেখানে শিক্ষার্থীরা একাডেমিক পড়াশোনার বাইরে এসে সাংস্কৃতিক, ধর্মীয়, সামাজিক ও সংগঠনভিত্তিক নানা কার্যক্রমে অংশ নেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণ শিক্ষার্থীদের আড্ডা, শিল্পচর্চা, রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করার অন্যতম ক্ষেত্র। এটি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ, সৃজনশীলতা এবং সুস্থ বিনোদনের বড় মাধ্যম। কিন্তু বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির প্রেক্ষাপট ভিন্ন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের পড়াশোনা, পরীক্ষা ও চাপের কারণে শিক্ষার্থীরা মানসিক অবসাদে ভোগে। ঠিক তখনই একটি সক্রিয় টিএসসি তাদের জন্য প্রশান্তির জায়গা হতে পারত। কিন্তু দুঃখজনকভাবে ববির টিএসসি সাপ্তাহিক ছুটির দিনে খোলা থাকে না; অনেক সময় তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকে।”

শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ৩৫টিরও বেশি সক্রিয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন থাকলেও টিএসসিতে হাতেগোনা কয়েকটি সংগঠনেরই কার্যালয় রয়েছে। এতে মুক্ত বুদ্ধি চর্চা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ এই সংকটের মধ্যেও শিক্ষকদের জন্য একটি রুম বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা কার্যত ব্যবহার হয় না।

এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাবের সভাপতি মেহেদী আরেফিন বলেন, “আমরা লক্ষ্য করেছি টিএসসির একটি ফ্লোর শিক্ষকদের জন্য সংরক্ষিত। ফলে শিক্ষার্থীদের চাহিদা পূরণে ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। আমাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেন টিএসসির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে এবং শিক্ষার্থীদের কার্যক্রম পরিচালনায় রুম বরাদ্দে আরও সহায়ক ভূমিকা রাখে। এতে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ হবে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টিএসসির পরিচালক মো. তারিকুল হক বলেন, “প্রথমত জায়গা সংকটের কারণেই আমাদের বেশিরভাগ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। রুম সংকটের জন্য আমরা চাইলে সব সংগঠনকে বরাদ্দ দিতে পারছি না। তবে আশা করছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প শেষ হলে এই সংকট নিরসন হবে। আরেকটি বিষয় হলো—স্টাফ সংকটের কারণে আমরা ছুটির দিনে টিএসসি খোলা রাখতে পারি না। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে দেখব নতুন স্টাফ নিয়োগের সুযোগ আছে কি না। আর শিক্ষকদের জন্য একটি রুম বরাদ্দ থাকার বিষয়টি স্বাভাবিক, কারণ এর নামই টিচার্স-স্টুডেন্টস সেন্টার।”