ববি’র ক্যাফেটেরিয়ায় নৈরাজ্য, খাবারে থাকে পোকা
- সর্বশেষ আপডেট ১২:৫২:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫
- / 144
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীদের খাবারের জন্য একমাত্র নির্ভরযোগ্য জায়গা হলো কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া। কিন্তু এই ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের দাম ও মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের রয়েছে অসন্তোষ। শিক্ষার্থীরা জানান, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় খাবারের মূল্য অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার তুলনায় বেশি—এমনকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাইরের খাবারের দোকানগুলোর থেকেও বেশি। খাবারের মানও ভালো না এবং মাঝে মাঝে খাবারে বিভিন্ন ধরনের পোকা পাওয়া যায়। এছাড়া কোন খাবারের কত মূল্য, তার একটি তালিকাও নেই ক্যাফেটেরিয়ায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাব্বি ভূঁইয়া বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাজারো ব্যস্ততার মাঝে ক্লান্তির ছাপ যখন স্পষ্ট হয়, তখন ক্যাফেটেরিয়ার খাবারই যেন সেই ক্লান্ত মুখে হাসি ফোটানোর উৎস হয়। কিন্তু সেই খাবার যদি হয় খাওয়ার অনুপযোগী, পোকার সমাহারে পূর্ণ, তাহলে সেই ক্লান্ত শরীর নিমিষেই বিষাদে নিমজ্জিত হয়। হাসি পরিণত হয় হতাশায়। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া শিক্ষার্থীদের জন্য যেন এক দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষুধা নিবারণে সেখানে গেলে খাবারের ভেতরে প্রায়ই দেখা যায় পোকার বাসস্থান। খাবারের দাম যেমন বেশি, মান ঠিক ততটাই খারাপ। এমন খাবার শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। ক্যাফেটেরিয়াটি যেন হয়ে উঠেছে নষ্ট খাবারের ব্যবসায়িক আড়ত।”
অন্য শিক্ষার্থী ইফতেখার সায়েম বলেন, “ক্যাফেটেরিয়ার ওয়াশরুম ও কিচেন দুটিই অস্বাস্থ্যকর। ওয়াশরুমে একবার গেলে দ্বিতীয়বার যেতে ইচ্ছা করে না। কিচেন অস্বাস্থ্যকর হওয়ায় মাঝে মাঝে খাবারে পোকামাকড় পাওয়া যায়। এসব যখন সংবাদে আসে, তখন পুরো বাংলাদেশ দেখে এবং এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানহানি হয়। খাবারের মান খারাপ এবং দাম বেশি হওয়ায় ক্যাফেটেরিয়াটি শিক্ষার্থীবান্ধব মনে হয় না। মেনুতে বৈচিত্র্য থাকা উচিত, যাতে রুচি অনুযায়ী খাবার বেছে নেওয়া যায়। নারীদের আলাদা বসার স্থানটি নিয়মিত পরিচর্যার অভাবে অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে। এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া উচিত।”
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে যে দোকানে মুরগির মাংস ৩৫ টাকায় বিক্রি হয়, সেটি ক্যাফেটেরিয়ায় ৪০ টাকা। মাছের ক্ষেত্রেও বাইরের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি। মাঝে মাঝে বাসি খাবারও পরিবেশন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্যাফেটেরিয়ায় যে রোল ১০ টাকায় বিক্রি হয়, তার সাইজ অনুযায়ী দাম হওয়া উচিত ৫–৬ টাকা।
খাবারের মূল্য তালিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালক মোঃ মামুন বলেন, “নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া মূল্য তালিকা টাঙানো যায় না। আমি অনেক আগেই এ বিষয়ে আবেদন করেছি, কিন্তু এখনো কোনো সাড়া পাইনি।”
খাবারের দাম বেশি হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “সারাদেশেই পণ্যের দাম বেশি। ক্যাফেটেরিয়ার বাইরের দোকানগুলোতে কর্মচারী না থাকায় পরিচালনা খরচ কম। কিন্তু আমাদের এখানে কয়েকজন কর্মচারী রয়েছেন, যাদের বেতন দিতে হয়, তাই কিছু খাবারের দাম বেশি রাখতে হয়।”
পোকা পাওয়া যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “একসাথে অনেক খাবার রান্না হয়। মাঝে মাঝে হয়তো কিছু পোকা উড়ে এসে পড়ে যায়, কিন্তু আমরা সেটা খেয়াল করি না। এটা আমাদের অজান্তে ঘটে যায়।”
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি)-এর পরিচালক ও ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক মোঃ তারিকুল হক বলেন,
“বর্তমানে ক্যাফেটেরিয়া যার ইজারায় রয়েছে, তার মেয়াদ শেষ। নতুন ইজারা দিতে কিছুটা সময় লাগছে। আমরা ফাইল ভিসি স্যারের অফিসে পাঠিয়েছি, স্যার সাইন করলেই নতুন টেন্ডারের বিজ্ঞপ্তি দেব।”
মূল্য তালিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি মামুনকে বলেছি তালিকা টাঙাতে, কিন্তু এখনো টাঙায়নি। আমি আবারও বলব।”
খাবারের দাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন,”বর্তমানে যিনি ক্যাফেটেরিয়া চালাচ্ছেন, তার সময় শেষ হয়ে গেছে। নতুন টেন্ডার না হওয়া পর্যন্ত তাকে চুক্তিহীনভাবে রাখছি, তাই তার দামের ওপর আমরা নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারছি না। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে খাবারের দাম কম, হয়তো সেখানে ভর্তুকি দেয়। আমাদের বাজেট কম, তবে নতুন ইজারায় মান ঠিক রেখে দাম কমানোর চেষ্টা করব।”
































