ববিতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ফেল করানোর অভিযোগ
- সর্বশেষ আপডেট ০১:১১:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫
- / 243
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) বাংলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের (৮ম ব্যাচ) মিনহাজুল ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভ্যন্তরীণ নম্বর কম দিয়ে ফেল করানো হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বাংলা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের।
অভিযোগপত্রে মিনহাজুল ইসলাম উল্লেখ করেছেন, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষায় তুলনামূলক ভালো ফলাফল সত্ত্বেও দুটি কোর্সে (বাংলা সাহিত্য সমালোচনা ও গবেষণা-৪০২ ও জীবনানন্দ দাশের সাহিত্য-৪০৭) তিনি অকৃতকার্য হন। এছাড়া আরও দুটি কোর্সে কম নম্বর পেয়েছেন। নম্বরপত্র উত্তোলন করে দেখা যায়, ৪০২ নম্বর কোর্সে অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে মাত্র ১২ এবং ৪০৭ নম্বর কোর্সে মাত্র ৭ নম্বর দেওয়া হয়েছে, যা গোপন রাখা হয়েছে এবং নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ করা হয়নি।
তার অভিযোগ, শিক্ষক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে ফেল করিয়েছেন। পরবর্তী ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে এফ গ্রেড অপসারণ পরীক্ষায় অংশ নিলে একই শিক্ষক ব্যক্তিগত আক্রোশে পুনরায় অকৃতকার্য করেছেন।
বাংলা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি কোর্সে অভ্যন্তরীণ নম্বর ৪০। মিনহাজুল ইসলামের গ্রেডশীটে দেখা যায়, চতুর্থ বর্ষে মোট ১১টি কোর্সে পরীক্ষা দিয়েছে। ৪০২ নম্বর কোর্সে অভ্যন্তরীণ নম্বর ১২ এবং ৪০৭ নম্বর কোর্সে ৭। ৪০৩ নম্বর কোর্সে রিপোর্ট থাকায় নম্বর পাওয়া যায়নি।
অন্য কোর্সগুলোর অভ্যন্তরীণ নম্বর ছিল: ৪০১ নম্বর কোর্সে ৩০.২৪, ৪০৪ নম্বর কোর্সে ২২.৫০, ৪০৫ নম্বর কোর্সে ২২, ৪০৬ নম্বর কোর্সে ২৬.৫০, ৪০৮ নম্বর কোর্সে ২০.২৫, ৪০৯ নম্বর কোর্সে ২০.৫০ এবং ৪১০ নম্বর কোর্সে ২৮.২৫।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এমন ঘটনা নতুন নয়। শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে শিক্ষার্থীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এবং তার প্রভাব পরীক্ষার নম্বরে পড়ে। কেউ অভিযোগ করলে শিক্ষকেরা আরও বেশি চড়াও হন। তারা মিনহাজুলের ঘটনা ছাড়াও বিভাগের অন্যান্য দ্বন্দ্ব খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে সহযোগী অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার সরকার বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে বলেন, “আমরা সকল নোটিশ বোর্ডে দিয়েছি। অভিযোগকারী শিক্ষার্থী একজন ইয়ার ড্রপার। তিনি নিয়মিত ক্লাস করেননি, প্রয়োজনীয় ক্লাস উপস্থিতিও কম ছিল। একাধিক পরীক্ষা দেননি, মিডটার্মে সাদা খাতা জমা দিয়েছেন, অ্যাসাইনমেন্টও দেননি। তার বন্ধুরা ইন্টারনাল মার্ক পরীক্ষার আগেই পেয়েছে, আপনি খোঁজ নিয়ে দেখেন, তিনি নিয়মিত ক্লাস না করলে কিভাবে ইন্টারনাল মার্ক পাবলিশ হয়েছে কিনা জানতে পারবে?”
বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান উন্মেষ রায় বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। এখন তদন্ত করে সঠিক ঘটনা উদঘাটন করা হোক।”
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, “অভিযোগের কথা আমাকে জানানো হয়েছে। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সুব্রত কুমার জানান, “আমার দপ্তরে এখনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ এলে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”































