ঢাকা ০৮:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বন্যা এলেই মনে পড়ে বেড়িবাঁধের কথা

নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালী
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:১৩:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ মে ২০২৫
  • / 309

বন্যা এলেই মনে পড়ে বেড়িবাঁধের কথা

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় ভারি বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বইছে। এর পাশাপাশি অস্বাভাবিক জোয়ারের চাপে বেশ কয়েকটি বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে, ফলে উপজেলার অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার হাজার হাজার পরিবার এখন পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। টানা ১৫ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পুরো উপজেলা বিদ্যুৎহীন রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) বিকেল থেকে ফেরিঘাট, লঞ্চঘাট ও খেয়াঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় গলাচিপা উপজেলা শহরের সঙ্গে সড়ক ও নৌপথের যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, অমাবস্যা এবং নিম্নচাপের যৌথ প্রভাবে জোয়ারের পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গলাচিপা পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধের বাইরের অংশ ডুবে গেছে পানিতে। এতে প্রায় আড়াই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব পরিবারের রান্নার চুলাও জ্বলে উঠেনি বহু ঘণ্টা ধরে।

এদিকে কুটিয়াল পাড়ার ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পানির নিচে তলিয়ে গেছে তাঁদের ধান, ডাল, বাদামসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য।

পানপট্টি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে যাওয়া ৫৫/৩ নম্বর পোল্ডারের প্রায় ১০-১৫ ফুট অংশ ধসে পড়ে। এর ফলে বিবির হাওলা, গুপ্তের হাওলা, সতিরাম ও খরিদা গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আরও অন্তত ১০-১২টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিক মৃধা জানান, “গত কয়েক বছর ধরে বেড়িবাঁধের অবস্থা করুণ। বারবার বলেছি সংস্কার করতে, কেউ শোনেনি। এবারও আগে থেকেই যদি মাটি ফেলে কিছু কাজ করা হতো, এই দুর্যোগ ঠেকানো যেত। বন্যা এলেই বেড়িবাঁধের কথা মনে পড়ে, তারপর সবাই ভুলে যায়।”

বন্যা এলেই মনে পড়ে বেড়িবাঁধের কথা
বন্যা এলেই মনে পড়ে বেড়িবাঁধের কথা

চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের মধ্য চালিতাবুনিয়া, চরমোন্তাজের নয়ারচর এবং ছোট বাইশদিয়ার কোড়ালিয়া গ্রামের বহু ঘরবাড়ি পানির নিচে। এসব এলাকায় সহস্রাধিক পরিবার এখন ঘরবন্দি। ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ধান, ডাল, বাদামসহ নানা কৃষিপণ্যের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গলাচিপা সদর ইউনিয়নের আগুনমুখা চরের ৬০টি এবং চর কারফারমার ৯০টি ঘর তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় হালিম মিয়া।

পটুয়াখালী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী জানান, “সক্রিয় মৌসুমি নিম্নচাপের কারণে ভারি বর্ষণ হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পটুয়াখালীতে ১১৬.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা এ বছরের সর্বোচ্চ।”

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, “বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করেছি। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জাফর রানাকে নিয়ে দুর্গত এলাকাগুলো পরিদর্শন করছি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করছি।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বন্যা এলেই মনে পড়ে বেড়িবাঁধের কথা

সর্বশেষ আপডেট ১১:১৩:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ মে ২০২৫

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় ভারি বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বইছে। এর পাশাপাশি অস্বাভাবিক জোয়ারের চাপে বেশ কয়েকটি বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে, ফলে উপজেলার অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার হাজার হাজার পরিবার এখন পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। টানা ১৫ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পুরো উপজেলা বিদ্যুৎহীন রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) বিকেল থেকে ফেরিঘাট, লঞ্চঘাট ও খেয়াঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় গলাচিপা উপজেলা শহরের সঙ্গে সড়ক ও নৌপথের যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, অমাবস্যা এবং নিম্নচাপের যৌথ প্রভাবে জোয়ারের পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গলাচিপা পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধের বাইরের অংশ ডুবে গেছে পানিতে। এতে প্রায় আড়াই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব পরিবারের রান্নার চুলাও জ্বলে উঠেনি বহু ঘণ্টা ধরে।

এদিকে কুটিয়াল পাড়ার ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পানির নিচে তলিয়ে গেছে তাঁদের ধান, ডাল, বাদামসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য।

পানপট্টি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে যাওয়া ৫৫/৩ নম্বর পোল্ডারের প্রায় ১০-১৫ ফুট অংশ ধসে পড়ে। এর ফলে বিবির হাওলা, গুপ্তের হাওলা, সতিরাম ও খরিদা গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আরও অন্তত ১০-১২টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিক মৃধা জানান, “গত কয়েক বছর ধরে বেড়িবাঁধের অবস্থা করুণ। বারবার বলেছি সংস্কার করতে, কেউ শোনেনি। এবারও আগে থেকেই যদি মাটি ফেলে কিছু কাজ করা হতো, এই দুর্যোগ ঠেকানো যেত। বন্যা এলেই বেড়িবাঁধের কথা মনে পড়ে, তারপর সবাই ভুলে যায়।”

বন্যা এলেই মনে পড়ে বেড়িবাঁধের কথা
বন্যা এলেই মনে পড়ে বেড়িবাঁধের কথা

চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের মধ্য চালিতাবুনিয়া, চরমোন্তাজের নয়ারচর এবং ছোট বাইশদিয়ার কোড়ালিয়া গ্রামের বহু ঘরবাড়ি পানির নিচে। এসব এলাকায় সহস্রাধিক পরিবার এখন ঘরবন্দি। ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ধান, ডাল, বাদামসহ নানা কৃষিপণ্যের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গলাচিপা সদর ইউনিয়নের আগুনমুখা চরের ৬০টি এবং চর কারফারমার ৯০টি ঘর তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় হালিম মিয়া।

পটুয়াখালী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী জানান, “সক্রিয় মৌসুমি নিম্নচাপের কারণে ভারি বর্ষণ হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পটুয়াখালীতে ১১৬.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা এ বছরের সর্বোচ্চ।”

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, “বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করেছি। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জাফর রানাকে নিয়ে দুর্গত এলাকাগুলো পরিদর্শন করছি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করছি।”