ঢাকা ০৬:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বন্যহাতি চিকিৎসায় আহত দুই চিকিৎসককে ঢাকায় আনা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৪৬:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৫
  • / 138

বন্যহাতি চিকিৎসায় আহত দুই চিকিৎসককে ঢাকায় আনা হয়েছে

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে আহত একটি বন্যহাতির চিকিৎসা দিতে গিয়ে হাতিটির আক্রমণে গুরুতর আহত হন ২ চিকিৎসকসহ ৩ জন। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিজিবির হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় আনা হয়েছে।

শনিবার সকাল ১০টায় কক্সবাজার সামরিক হাসপাতাল থেকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে হেলিকপ্টারে করে তাদের স্থানান্তর করা হয়।

বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার বিকেলে কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার মিয়ানমার সীমান্তবর্তী রাজারকুল থোয়াইংগ্যকাটা এলাকার বালুচড়া দক্ষিণের পাহাড়ে মাইন বিস্ফোরণে আহত হাতিটির চিকিৎসা দিতে গেলে হাতিটির আক্রমণে তিনজন গুরুতরভাবে আহত হন।

আহতরা হলেন; ডুলাহাজরা সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. হাতেম সাজ্জাত মো. জুলকারনাইন, গাজীপুর সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং সেভ দ্য ন্যাচার অব বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলা শাখার সদস্য সচিব মো. আতিকুর রহমান। বাকি আহতরা স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এক ক্ষুদেবার্তায় জানান, মিয়ানমার সীমান্তে ৪-৫ দিন আগে একটি হাতি আহত হয়। তাকে সুস্থ করতে চিকিৎসা দিতে গিয়ে বন বিভাগের ৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আঘাতে তার শরীরে রক্ত জমে এবং হাড় ভেঙে গিয়ে পরিস্থিতি বর্তমানে খুবই সংকটাপন্ন।

বন বিভাগের তথ্যমতে, হাতিটির সামনের ডান পা বিস্ফোরণে প্রায় অবশ হয়ে গেছে। পায়ের তলা ও নখ উড়ে গেছে। হাতিটি খুঁড়িয়ে হাঁটছে এবং যন্ত্রণায় খাবার সংগ্রহ করতেও কষ্ট হচ্ছে।

চিকিৎসকরা জানান, হাতিটি রক্ত ও পানিশূন্যতায় ভুগছে এবং দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাকে সুস্থ করতে হলে দীর্ঘমেয়াদি নিবিড় পরিচর্যা প্রয়োজন।

রামুর রেঞ্জ কর্মকর্তা আলী নেওয়াজ জানান, গত রোববার মিয়ানমার সীমান্তের পাশে পুঁতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে হাতিটি গুরুতর আহত হয়ে পরে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। খবর পেয়ে শুক্রবার কয়েকজন চিকিৎসকসহ বন বিভাগের ১৫ সদস্য নিয়ে তিনি রামু উপজেলার দারিয়ারদীঘি সংরক্ষিত বনে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর হাতিটির উপস্থিতি টের পাওয়ার আগেই হঠাৎ আক্রমণ করে। এতে সবাই আহত হন। এমনকি হাতিটি একজনের বন্দুক কেড়ে নিয়ে বনের ভেতরে ছুড়ে ফেলে, যা পরে উদ্ধার করা হয়।

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম বলেন, আহত হাতিটির চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বন বিভাগের কর্মীরা আহত হলেও তারা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন।

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক সরকার বলেন, মিয়ানমারের ভেতরে স্থলমাইন বিস্ফোরণে হাতিটি আহত হয় এবং সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বন্যহাতি চিকিৎসায় আহত দুই চিকিৎসককে ঢাকায় আনা হয়েছে

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৪৬:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৫

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে আহত একটি বন্যহাতির চিকিৎসা দিতে গিয়ে হাতিটির আক্রমণে গুরুতর আহত হন ২ চিকিৎসকসহ ৩ জন। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিজিবির হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় আনা হয়েছে।

শনিবার সকাল ১০টায় কক্সবাজার সামরিক হাসপাতাল থেকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে হেলিকপ্টারে করে তাদের স্থানান্তর করা হয়।

বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার বিকেলে কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার মিয়ানমার সীমান্তবর্তী রাজারকুল থোয়াইংগ্যকাটা এলাকার বালুচড়া দক্ষিণের পাহাড়ে মাইন বিস্ফোরণে আহত হাতিটির চিকিৎসা দিতে গেলে হাতিটির আক্রমণে তিনজন গুরুতরভাবে আহত হন।

আহতরা হলেন; ডুলাহাজরা সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. হাতেম সাজ্জাত মো. জুলকারনাইন, গাজীপুর সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং সেভ দ্য ন্যাচার অব বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলা শাখার সদস্য সচিব মো. আতিকুর রহমান। বাকি আহতরা স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এক ক্ষুদেবার্তায় জানান, মিয়ানমার সীমান্তে ৪-৫ দিন আগে একটি হাতি আহত হয়। তাকে সুস্থ করতে চিকিৎসা দিতে গিয়ে বন বিভাগের ৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আঘাতে তার শরীরে রক্ত জমে এবং হাড় ভেঙে গিয়ে পরিস্থিতি বর্তমানে খুবই সংকটাপন্ন।

বন বিভাগের তথ্যমতে, হাতিটির সামনের ডান পা বিস্ফোরণে প্রায় অবশ হয়ে গেছে। পায়ের তলা ও নখ উড়ে গেছে। হাতিটি খুঁড়িয়ে হাঁটছে এবং যন্ত্রণায় খাবার সংগ্রহ করতেও কষ্ট হচ্ছে।

চিকিৎসকরা জানান, হাতিটি রক্ত ও পানিশূন্যতায় ভুগছে এবং দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাকে সুস্থ করতে হলে দীর্ঘমেয়াদি নিবিড় পরিচর্যা প্রয়োজন।

রামুর রেঞ্জ কর্মকর্তা আলী নেওয়াজ জানান, গত রোববার মিয়ানমার সীমান্তের পাশে পুঁতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে হাতিটি গুরুতর আহত হয়ে পরে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। খবর পেয়ে শুক্রবার কয়েকজন চিকিৎসকসহ বন বিভাগের ১৫ সদস্য নিয়ে তিনি রামু উপজেলার দারিয়ারদীঘি সংরক্ষিত বনে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর হাতিটির উপস্থিতি টের পাওয়ার আগেই হঠাৎ আক্রমণ করে। এতে সবাই আহত হন। এমনকি হাতিটি একজনের বন্দুক কেড়ে নিয়ে বনের ভেতরে ছুড়ে ফেলে, যা পরে উদ্ধার করা হয়।

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম বলেন, আহত হাতিটির চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বন বিভাগের কর্মীরা আহত হলেও তারা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন।

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক সরকার বলেন, মিয়ানমারের ভেতরে স্থলমাইন বিস্ফোরণে হাতিটি আহত হয় এবং সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।