ঢাকা ০৮:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বন্ধুকে ভিডিও কলে রেখে নোবিপ্রবির ছাত্রীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, নোয়াখালী
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৪৪:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 87

বন্ধুকে ভিডিও কলে রেখে নোবিপ্রবির ছাত্রীর মৃত্যু

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ফলিত গণিত বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ফাহিমা সুলতানা মারিয়া (২৪) ভিডিও কলে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।

শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে নোয়াখালীর মাইজদী রশিদ কলোনির একটি ভাড়া বাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ফাহিমার বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায়। তিনি রশিদ কলোনির হোসেন টাওয়ারের দ্বিতীয় তলায় সহপাঠীদের সঙ্গে ভাড়া থাকতেন, তবে ঘটনার সময় একাই ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্যমতে, বিকেল ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যায় এক আত্মীয় বাসায় গিয়ে দরজা ভেঙে জানালার সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় তাকে দেখতে পান। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

সহপাঠীরা জানান, পূজার ছুটিতে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী বাসায় গেলেও মারিয়া মেসেই ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে তাদের সঙ্গে শেষবার কথা বলেন তিনি। শুক্রবার বিকেলে অনলাইন ক্লাসে অংশ নেননি এবং ফোনেও সাড়া দেননি। অসুস্থতার কারণে তিনি নিয়মিত ঘুমের ওষুধ সেবন করতেন। প্রথমে সহপাঠীরা ভেবেছিলেন তিনি ঘুমাচ্ছেন। তবে রাতে মৃত্যুর খবর আসে।

পরিবার জানায়, সকালে তারা ফাহিমাকে বাড়ি আসতে বললেও তিনি চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাওয়ার কথা বলেন। বিকেল থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ না পেয়ে তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে রাত পৌনে ৯টার দিকে কয়েকজন বন্ধু বাসায় গিয়ে দরজা ভেঙে মরদেহ দেখতে পান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর জামাল উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিকেল চারটার দিকে তিনি এক বন্ধুর সঙ্গে ভিডিও কলে থাকার সময় গলায় ফাঁস দেন। তার মোবাইল ফোন থেকেও এমন আলামত মিলেছে।

সুধারাম থানার উপ-পরিদর্শক মনির হোসেন বলেন, মরদেহ জানালার সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় তার ফোনে ভিডিও কল চালু ছিল। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। তারা মরদেহ নিজ গ্রামে নিয়ে দাফন করেছেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বন্ধুকে ভিডিও কলে রেখে নোবিপ্রবির ছাত্রীর মৃত্যু

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৪৪:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ফলিত গণিত বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ফাহিমা সুলতানা মারিয়া (২৪) ভিডিও কলে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।

শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে নোয়াখালীর মাইজদী রশিদ কলোনির একটি ভাড়া বাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ফাহিমার বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায়। তিনি রশিদ কলোনির হোসেন টাওয়ারের দ্বিতীয় তলায় সহপাঠীদের সঙ্গে ভাড়া থাকতেন, তবে ঘটনার সময় একাই ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্যমতে, বিকেল ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যায় এক আত্মীয় বাসায় গিয়ে দরজা ভেঙে জানালার সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় তাকে দেখতে পান। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

সহপাঠীরা জানান, পূজার ছুটিতে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী বাসায় গেলেও মারিয়া মেসেই ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে তাদের সঙ্গে শেষবার কথা বলেন তিনি। শুক্রবার বিকেলে অনলাইন ক্লাসে অংশ নেননি এবং ফোনেও সাড়া দেননি। অসুস্থতার কারণে তিনি নিয়মিত ঘুমের ওষুধ সেবন করতেন। প্রথমে সহপাঠীরা ভেবেছিলেন তিনি ঘুমাচ্ছেন। তবে রাতে মৃত্যুর খবর আসে।

পরিবার জানায়, সকালে তারা ফাহিমাকে বাড়ি আসতে বললেও তিনি চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাওয়ার কথা বলেন। বিকেল থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ না পেয়ে তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে রাত পৌনে ৯টার দিকে কয়েকজন বন্ধু বাসায় গিয়ে দরজা ভেঙে মরদেহ দেখতে পান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর জামাল উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিকেল চারটার দিকে তিনি এক বন্ধুর সঙ্গে ভিডিও কলে থাকার সময় গলায় ফাঁস দেন। তার মোবাইল ফোন থেকেও এমন আলামত মিলেছে।

সুধারাম থানার উপ-পরিদর্শক মনির হোসেন বলেন, মরদেহ জানালার সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় তার ফোনে ভিডিও কল চালু ছিল। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। তারা মরদেহ নিজ গ্রামে নিয়ে দাফন করেছেন।