প্রধান উপদেষ্টা
বন্দর বিদেশিদের দেওয়া বিরোধিতাকারীদের প্রতিহত করুন
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪১:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ জুন ২০২৫
- / 535
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবস্থাপনা বিদেশিদের হাতে তুলে দিলে নিরাপত্তা হুমকি তৈরি হবে না। বন্দর ব্যবস্থাপনার জন্য আমরা যাদের আনছি, তারা পৃথিবীর যে সব দেশে কাজ করে, সেসব কোনো দেশেরই সার্বভৌমত্ব বা জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েনি। যারা এর বিরোধিতা করছে, তাদের প্রতিহত করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা এ আহ্বান জানান।
সন্ধ্যা ৭টায় রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যমে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাই—আপনারা নিজেদেরকে ভিত্তিহীন বিরোধিতা এবং অপপ্রচারের শিকার হতে দেবেন না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বন্দর ব্যবস্থাপনার উদ্যোগে আপনাদের দৃঢ় সমর্থন অব্যাহত রাখুন। যারা বিরোধিতা করছে, তাদের প্রতিহত করুন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। এ কারণে বিনিয়োগ পরিষেবার উন্নয়নের পাশাপাশি বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছি। এটা করা সম্ভব না হলে দেশের কোটি কোটি মানুষের বেকারত্ব ঘুচবে না। অর্থনৈতিক সংকট রয়েই যাবে।’
ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে অনেকের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। মাঝেমধ্যে এমন কথাও শুনেছি যে এ বন্দর বিদেশিদেরকে নাকি দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমি আগেও জানিয়েছি, চট্টগ্রাম বন্দর হলো বাংলাদেশের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড। বর্তমানে এই হৃৎপিণ্ড অতি দুর্বল। এখন যেভাবে আছে, সেভাবে রেখে দিলে আমাদের অর্থনীতিকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।’
চট্টগ্রাম বন্দরকে শক্তিশালী করার জন্য অভিজ্ঞদের সাহায্য লাগবে দাবি করে মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আমরা যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, তারা বন্দর ব্যবস্থাপনায় বিশ্বের সেরা, সবচেয়ে অভিজ্ঞ। তারা ইউরোপ, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকাসহ বিশ্বজুড়ে বন্দর পরিচালনা করে। তাদের কাজ বন্দর ব্যবস্থাপনা করা, আমাদের লক্ষ্য হলো বন্দর ব্যবস্থাপনার কাজ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাদের কাছ থেকে শিখে নেওয়া।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি—যদি ৩১ সালের মধ্যে আমরা বন্দরের কাজ শিখে ফেলি, তাহলে এর পরবর্তী ৫ বছরে, অর্থাৎ ৩৬ সালের মধ্যে, পৃথিবীর যত দেশে যত বন্দর এই কোম্পানিগুলো চালায়, তাদের বহু বন্দর এই বাংলাদেশিরাই পরিচালনা করবে।’
‘আপনারা যে বন্দরেই পা দেবেন, দেখবেন সেখানে বাংলাদেশিরা আছেন। বহু লোকের কর্মসংস্থান হবে। বহু লোকের ওপরে ওঠার সুযোগ হবে। তাদের নিজেদের প্রয়োজনেই তারা আমাদের চাকরি দেবে।’
নিজের জাহাজে চড়ার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আগে যেকোনো জাহাজে চড়লে দেখা যেত—জাহাজের নাবিক চট্টগ্রাম বা সিলেটের। বন্দরের কাজ একবার শিখে নিতে পারলে, ভবিষ্যতে আমরা যে বন্দরে যাব না কেন, দেখব সেখানে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, সিলেট আর বরিশালের লোক—বাংলাদেশের লোক।
তিনি বলেন, বন্দর আধুনিক হলে তা শুধু বাংলাদেশের অর্থনীতিতেই ভূমিকা রাখবে না, বরং আমরা নেপাল, ভুটানসহ পাশের সব দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হব।
এই বন্দরই এ অঞ্চলের অর্থনীতির সমৃদ্ধির চাবিকাঠি উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘কুমিরা থেকে টেকনাফ পর্যন্ত নানা বন্দরের কর্মচাঞ্চল্যে সমগ্র উপকূল অঞ্চল দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। এই পুরো অঞ্চলে অনেকগুলো শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠবে শুধু সমুদ্রের সান্নিধ্য এবং তার ব্যবহারের দক্ষতার কারণে। তার সঙ্গে গড়ে উঠবে আরেকটি নতুন শিল্প—আধুনিক পদ্ধতিতে সমুদ্রে মাছ পালন, আহরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের শিল্প। এটি আরেকটি নতুন জগত সৃষ্টি করবে। এ ব্যাপারে আমরা আমাদের বন্ধু দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছি এবং তারা উৎসাহ সহকারে সাড়া দিয়েছেন।’































