ঢাকা ০৯:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বনের জমি দখলের নতুন কৌশল আনারস চাষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, টাঙ্গাইল
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:০৪:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
  • / 64

আনারস চাষ

বনের জমি দখলের পুরোনো কৌশল ছিল ঘরবাড়ি নির্মাণ। এখন সেই পদ্ধতি আরও বদলে গিয়ে দখলদাররা নতুনভাবে সামাজিক বনায়নের জমিতে আনারসের বাগান তৈরি করছে। শালিয়াবহ–শোকরকরা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সামাজিক বনায়নের নির্ধারিত প্লটে গাছের চারা নেই—বরং পুরো জমি জুড়ে রয়েছে সারি সারি আনারসের চারা।

স্থানীয়রা জানান, কয়েক মাস আগে বন বিভাগ নিলামে গাছ বিক্রি করে। গাছ কেটে নেওয়ার পর মাটি চষে আনারস লাগিয়েছেন আবু সাঈদ নামের একজন। এলাকায় তিনটি সামাজিক বনায়ন প্লট ছিল জাহাঙ্গীর আলম, আল মামুন ও বাছিরন বেগমের বরাদ্দে। এখন দেখা যাচ্ছে, শুধু এগুলো নয়—প্রায় ৬০টিরও বেশি প্লটে এ বছর গাছ কেটে আনারস চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক প্লটে বনায়নের নতুন চারা রোপণই হয়নি।

কেউ নিজের প্লটে আনারস লাগিয়েছেন, আবার অনেক উপকারভোগী জমি ইজারা দিয়ে দিয়েছেন। প্লটপ্রতি বার্ষিক ইজারা নেওয়া হচ্ছে ১০–১২ হাজার টাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই পুরো প্রক্রিয়ায় বিট কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। ফরেস্ট ক্যাম্পের পাশেও দেখা গেছে আনারস রোপণ—যেখানে চাষিরা বলেন, বিট কর্মকর্তার অনুমতিতেই কাজটি করেছেন।

এ বিষয়ে লক্ষিন্দর গ্রামের রিয়াজ বলেন, আনারসের গাছ বড় হওয়ার পর সামাজিক বনায়নের নতুন গাছ রোপণ করলেও তা আলো–বাতাস পায় না। আনারসের বাগান বজায় রাখতে মাঝে মাঝে এসব গাছের মাথা ভেঙে দেওয়া হয়, ফলে অনেক গাছই মরে যায়। সময়ের সঙ্গে জমিটি পুরোপুরি আনারস বাগানে রূপ নেয় এবং পরবর্তী কর্মকর্তারা এসে জমিটিকে ব্যক্তিমালিকানাধীন ভেবে নেন। পাহাড়ি এলাকায় বহু বনজমি একই কৌশলে দখল হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

ধলাপাড়া বিট কর্মকর্তা সফেরুজ্জামান দাবি করেন, চুক্তিপত্র অনুযায়ী সামাজিক বনায়নের প্লটে আনারস চাষ করা যায় এবং এতে গাছেরও উপকার হয়। তবে ধলাপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা সাব্বির হোসাইন বিপরীত অবস্থান তুলে ধরে বলেন, বনের জমিতে ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিকভাবে আনারস–কলা চাষ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সামাজিক বনায়নের কোনো প্লটে এমন চাষাবাদ পাওয়া গেলে তা তুলে ফেলা হবে এবং এতে কোনো কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে বিভাগের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বনের জমি দখলের নতুন কৌশল আনারস চাষ

সর্বশেষ আপডেট ০৪:০৪:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫

বনের জমি দখলের পুরোনো কৌশল ছিল ঘরবাড়ি নির্মাণ। এখন সেই পদ্ধতি আরও বদলে গিয়ে দখলদাররা নতুনভাবে সামাজিক বনায়নের জমিতে আনারসের বাগান তৈরি করছে। শালিয়াবহ–শোকরকরা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সামাজিক বনায়নের নির্ধারিত প্লটে গাছের চারা নেই—বরং পুরো জমি জুড়ে রয়েছে সারি সারি আনারসের চারা।

স্থানীয়রা জানান, কয়েক মাস আগে বন বিভাগ নিলামে গাছ বিক্রি করে। গাছ কেটে নেওয়ার পর মাটি চষে আনারস লাগিয়েছেন আবু সাঈদ নামের একজন। এলাকায় তিনটি সামাজিক বনায়ন প্লট ছিল জাহাঙ্গীর আলম, আল মামুন ও বাছিরন বেগমের বরাদ্দে। এখন দেখা যাচ্ছে, শুধু এগুলো নয়—প্রায় ৬০টিরও বেশি প্লটে এ বছর গাছ কেটে আনারস চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক প্লটে বনায়নের নতুন চারা রোপণই হয়নি।

কেউ নিজের প্লটে আনারস লাগিয়েছেন, আবার অনেক উপকারভোগী জমি ইজারা দিয়ে দিয়েছেন। প্লটপ্রতি বার্ষিক ইজারা নেওয়া হচ্ছে ১০–১২ হাজার টাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই পুরো প্রক্রিয়ায় বিট কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। ফরেস্ট ক্যাম্পের পাশেও দেখা গেছে আনারস রোপণ—যেখানে চাষিরা বলেন, বিট কর্মকর্তার অনুমতিতেই কাজটি করেছেন।

এ বিষয়ে লক্ষিন্দর গ্রামের রিয়াজ বলেন, আনারসের গাছ বড় হওয়ার পর সামাজিক বনায়নের নতুন গাছ রোপণ করলেও তা আলো–বাতাস পায় না। আনারসের বাগান বজায় রাখতে মাঝে মাঝে এসব গাছের মাথা ভেঙে দেওয়া হয়, ফলে অনেক গাছই মরে যায়। সময়ের সঙ্গে জমিটি পুরোপুরি আনারস বাগানে রূপ নেয় এবং পরবর্তী কর্মকর্তারা এসে জমিটিকে ব্যক্তিমালিকানাধীন ভেবে নেন। পাহাড়ি এলাকায় বহু বনজমি একই কৌশলে দখল হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

ধলাপাড়া বিট কর্মকর্তা সফেরুজ্জামান দাবি করেন, চুক্তিপত্র অনুযায়ী সামাজিক বনায়নের প্লটে আনারস চাষ করা যায় এবং এতে গাছেরও উপকার হয়। তবে ধলাপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা সাব্বির হোসাইন বিপরীত অবস্থান তুলে ধরে বলেন, বনের জমিতে ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিকভাবে আনারস–কলা চাষ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সামাজিক বনায়নের কোনো প্লটে এমন চাষাবাদ পাওয়া গেলে তা তুলে ফেলা হবে এবং এতে কোনো কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে বিভাগের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।