ঢাকা ০৬:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বঙ্গোপসাগরে ভারত-রাশিয়া যৌথ সামরিক মহড়া

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:০২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 17

ভারত ১৫ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত বিশাখাপত্তনমে তিনটি প্রধান আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। ছবি সৌজন্যে: X.com/@indiannavy

ভারত ও রাশিয়া আগামী ফেব্রুয়ারিতে বঙ্গোপসাগরে এক বড় যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনার পরিকল্পনা করছে, যা দুই দেশের সামরিক অংশীদারিত্বের গভীরতা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনের দিকে ইঙ্গিত করছে।

মিলান ২০২৬ নেভাল এক্সারসাইজ নামে এই মহড়া ফেব্রুয়ারি ১৮ থেকে ২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে এবং এতে রাশিয়ার আধুনিক যুদ্ধজাহাজও অংশ নেবে, যা নয়াদিল্লি-মস্কো সম্পর্কের সামরিক সমন্বয়কে প্রতিফলিত করছে।

রাশিয়ান মেরিটাইম বোর্ড জানিয়েছে, মহড়ায় অংশ নেবে প্যাসিফিক ফ্লিটের ফ্রিগেট মার্শাল শাপোশনিকভসহ অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ। শাপোশনিকভ অত্যন্ত সশস্ত্র জাহাজ, যা একই সঙ্গে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং সাবমেরিন-নাশক নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপে সক্ষম। এই যুদ্ধজাহাজ ইতিমধ্যে ওমানের মাস্কাট বন্দর পেরিয়ে বঙ্গোপসাগরের দিকে রওনা হয়েছে এবং মহড়া শেষে ভারতের বিশাখাপত্তম নৌবন্দর পর্যন্ত যাবে।

ভারতের নৌবাহিনী তিন মাস আগে অক্টোবর ২০২৫-এ মহড়ার ঘোষণা করেছিল। ভাইস চিফ অ্যাডমিরাল সঞ্জয় বাৎসায়ন এ সময় মহড়ার সময়সূচি নিশ্চিত করেছিলেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মহড়ার সময় নির্বাচন ভারতের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে ভারসাম্যপূর্ণ রাখার পাশাপাশি সমুদ্র শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যকেও প্রতিফলিত করে।

সামরিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই মহড়া দুটি দেশের জন্য সমুদ্রপথে শক্ত অবস্থান বজায় রাখার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সক্ষমতা প্রদর্শনের সুযোগ। তবে সমালোচকরা বলছেন, এ ধরনের মহড়া আঞ্চলিক কূটনীতিকে জটিল করতে পারে, বিশেষ করে এমন সময় যখন বিশ্বের অন্যান্য শক্তির দৃষ্টি ভারতের ও রাশিয়ার পার্টনারশিপের দিকে।

এই মহড়া ভারতের বহুমুখী কৌশলেরও প্রতিফলন, যার মাধ্যমে বঙ্গোপসাগর এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে নিরাপত্তা ও প্রভাব বজায় রাখা হচ্ছে। রাশিয়ার জন্যও মিলান ২০২৬ অংশগ্রহণ ইন্দো-প্যাসিফিকে তার প্রভাব এবং ভারতের প্রধান প্রতিরক্ষা অংশীদার হিসেবে অবস্থান দৃঢ় করার সুযোগ।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বঙ্গোপসাগরে ভারত-রাশিয়া যৌথ সামরিক মহড়া

সর্বশেষ আপডেট ০৫:০২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

ভারত ও রাশিয়া আগামী ফেব্রুয়ারিতে বঙ্গোপসাগরে এক বড় যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনার পরিকল্পনা করছে, যা দুই দেশের সামরিক অংশীদারিত্বের গভীরতা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনের দিকে ইঙ্গিত করছে।

মিলান ২০২৬ নেভাল এক্সারসাইজ নামে এই মহড়া ফেব্রুয়ারি ১৮ থেকে ২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে এবং এতে রাশিয়ার আধুনিক যুদ্ধজাহাজও অংশ নেবে, যা নয়াদিল্লি-মস্কো সম্পর্কের সামরিক সমন্বয়কে প্রতিফলিত করছে।

রাশিয়ান মেরিটাইম বোর্ড জানিয়েছে, মহড়ায় অংশ নেবে প্যাসিফিক ফ্লিটের ফ্রিগেট মার্শাল শাপোশনিকভসহ অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ। শাপোশনিকভ অত্যন্ত সশস্ত্র জাহাজ, যা একই সঙ্গে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং সাবমেরিন-নাশক নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপে সক্ষম। এই যুদ্ধজাহাজ ইতিমধ্যে ওমানের মাস্কাট বন্দর পেরিয়ে বঙ্গোপসাগরের দিকে রওনা হয়েছে এবং মহড়া শেষে ভারতের বিশাখাপত্তম নৌবন্দর পর্যন্ত যাবে।

ভারতের নৌবাহিনী তিন মাস আগে অক্টোবর ২০২৫-এ মহড়ার ঘোষণা করেছিল। ভাইস চিফ অ্যাডমিরাল সঞ্জয় বাৎসায়ন এ সময় মহড়ার সময়সূচি নিশ্চিত করেছিলেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মহড়ার সময় নির্বাচন ভারতের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে ভারসাম্যপূর্ণ রাখার পাশাপাশি সমুদ্র শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যকেও প্রতিফলিত করে।

সামরিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই মহড়া দুটি দেশের জন্য সমুদ্রপথে শক্ত অবস্থান বজায় রাখার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সক্ষমতা প্রদর্শনের সুযোগ। তবে সমালোচকরা বলছেন, এ ধরনের মহড়া আঞ্চলিক কূটনীতিকে জটিল করতে পারে, বিশেষ করে এমন সময় যখন বিশ্বের অন্যান্য শক্তির দৃষ্টি ভারতের ও রাশিয়ার পার্টনারশিপের দিকে।

এই মহড়া ভারতের বহুমুখী কৌশলেরও প্রতিফলন, যার মাধ্যমে বঙ্গোপসাগর এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে নিরাপত্তা ও প্রভাব বজায় রাখা হচ্ছে। রাশিয়ার জন্যও মিলান ২০২৬ অংশগ্রহণ ইন্দো-প্যাসিফিকে তার প্রভাব এবং ভারতের প্রধান প্রতিরক্ষা অংশীদার হিসেবে অবস্থান দৃঢ় করার সুযোগ।