ঢাকা ০৮:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই নির্বাচন: প্রেস সচিব

বাংলা অ্যাফেয়ার্স ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:০৪:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 80

ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত শক্ত বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম। সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকালে একটি দৈনিকে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের লিংক শেয়ার করে তিনি ফেসবুক পোস্টে এ মন্তব্য করেন।

পোস্টে তিনি লিখেন, জিল্লুর রহমান ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলেও সরকার সে পথে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগোচ্ছে। শফিকুল আলম লিখেছেন, “বাংলাদেশ একটি অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আশা করছি নির্বাচন কমিশন দ্রুতই তফসিল প্রকাশ করবে।”

তার ভাষায়, জিল্লুর রহমান গত কয়েক মাস ধরে একই ধরনের মন্তব্য করে চলেছেন, যা করার অধিকার তার আছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তুতি নেই—এ দাবি বাস্তবতার অতিরঞ্জন। প্রেসসচিব বলেন, নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকার শুরু থেকেই স্বচ্ছতা রেখেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় রেকর্ডসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি অতীতের তুলনায় নজিরবিহীন হারে সামরিক সদস্য থাকবেন। নতুন ডিসি ও এসপি পোস্টিং সম্পন্ন হয়েছে, এবং এসব নিয়োগ নিয়ে প্রশ্নও তেমন ওঠেনি।

তিনি জানান, নির্বাচনী প্রচারণা ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। সামান্য কিছু আন্তঃদলীয় দ্বন্দ্ব বাদ দিলে সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল। জুলাই চার্টার গৃহীত হওয়ার পর নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভিত্তিও তৈরি হয়েছে, যার ফলে একসঙ্গে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটকে ঘিরেও রাজনৈতিক দল ও নাগরিকদের প্রস্তুতি চলছে।

প্রেসসচিব প্রশ্ন তোলেন- প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জিল্লুর রহমান কেন দাবি করছেন যে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন সম্ভব নয়? তিনি কেন ১৯৯৬, ২০১৪, ২০১৮ বা ২০২৪ সালের মতো পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছেন? শফিকুল আলম বলেন, “মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত একটি দল নির্বাচনে না থাকলে নির্বাচন অবিশ্বাসযোগ্য হয়—এ ধারণার সঙ্গে আমরা একমত নই। দেশের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকও তা মনে করেন না। আওয়ামী লীগকে আবার নির্বাচনে ফেরানোর পক্ষে কেউ জোরালো কথা বলছে না। তাদের বিরুদ্ধে বহু জাতীয় নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।”

তার দাবি, দলের বর্তমান নেতৃত্ব এখনো সহিংস পন্থায় রাজনৈতিক ফায়দা খুঁজছে। আন্তর্জাতিক সহযোগী রাষ্ট্রগুলোও মনে করে, ক্ষমাপ্রার্থনা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ছাড়া দলের রাজনীতি স্বাভাবিক পথেফিরতে পারবে না। সাম্প্রতিক বাসে আগুন দেওয়া বা ককটেল হামলার মতো ঘটনা তাদের মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ।

শফিকুল আলম বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জিল্লুর রহমান যে মনোলগ ভিডিওগুলো তৈরি করছেন, তার অনেক অংশই তথ্যের বদলে বিভ্রান্তি ছড়ায় এবং গুজবকে উসকে দেয়। তার বক্তব্যে মাঝে মাঝেই ষড়যন্ত্রতত্ত্বের ছাপ থাকে। তিনি নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ, গোলাম মাওলা রনির মতো বিতর্কিত ব্যক্তিদের ধারাবাহিকভাবে সামনে নিয়ে এসেছেন বলেও উল্লেখ করেন। তার মতে, জিল্লুর রহমান নিজেও এখন ধীরে ধীরে সেই একই অবস্থানে চলে যাচ্ছেন।

পোস্টের শেষ অংশে প্রেসসচিব লিখেছেন, “মানুষ সব দেখছে এবং তারা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেবে। তাদের বোকা ভাবার সুযোগ নেই। তবে দুই বিষয়ে আমি নিশ্চিত-আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না, এবং অন্তর্বর্তী সরকার ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করবে-ইনশাআল্লাহ।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই নির্বাচন: প্রেস সচিব

সর্বশেষ আপডেট ০১:০৪:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত শক্ত বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম। সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকালে একটি দৈনিকে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের লিংক শেয়ার করে তিনি ফেসবুক পোস্টে এ মন্তব্য করেন।

পোস্টে তিনি লিখেন, জিল্লুর রহমান ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলেও সরকার সে পথে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগোচ্ছে। শফিকুল আলম লিখেছেন, “বাংলাদেশ একটি অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আশা করছি নির্বাচন কমিশন দ্রুতই তফসিল প্রকাশ করবে।”

তার ভাষায়, জিল্লুর রহমান গত কয়েক মাস ধরে একই ধরনের মন্তব্য করে চলেছেন, যা করার অধিকার তার আছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তুতি নেই—এ দাবি বাস্তবতার অতিরঞ্জন। প্রেসসচিব বলেন, নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকার শুরু থেকেই স্বচ্ছতা রেখেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় রেকর্ডসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি অতীতের তুলনায় নজিরবিহীন হারে সামরিক সদস্য থাকবেন। নতুন ডিসি ও এসপি পোস্টিং সম্পন্ন হয়েছে, এবং এসব নিয়োগ নিয়ে প্রশ্নও তেমন ওঠেনি।

তিনি জানান, নির্বাচনী প্রচারণা ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। সামান্য কিছু আন্তঃদলীয় দ্বন্দ্ব বাদ দিলে সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল। জুলাই চার্টার গৃহীত হওয়ার পর নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভিত্তিও তৈরি হয়েছে, যার ফলে একসঙ্গে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটকে ঘিরেও রাজনৈতিক দল ও নাগরিকদের প্রস্তুতি চলছে।

প্রেসসচিব প্রশ্ন তোলেন- প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জিল্লুর রহমান কেন দাবি করছেন যে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন সম্ভব নয়? তিনি কেন ১৯৯৬, ২০১৪, ২০১৮ বা ২০২৪ সালের মতো পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছেন? শফিকুল আলম বলেন, “মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত একটি দল নির্বাচনে না থাকলে নির্বাচন অবিশ্বাসযোগ্য হয়—এ ধারণার সঙ্গে আমরা একমত নই। দেশের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকও তা মনে করেন না। আওয়ামী লীগকে আবার নির্বাচনে ফেরানোর পক্ষে কেউ জোরালো কথা বলছে না। তাদের বিরুদ্ধে বহু জাতীয় নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।”

তার দাবি, দলের বর্তমান নেতৃত্ব এখনো সহিংস পন্থায় রাজনৈতিক ফায়দা খুঁজছে। আন্তর্জাতিক সহযোগী রাষ্ট্রগুলোও মনে করে, ক্ষমাপ্রার্থনা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ছাড়া দলের রাজনীতি স্বাভাবিক পথেফিরতে পারবে না। সাম্প্রতিক বাসে আগুন দেওয়া বা ককটেল হামলার মতো ঘটনা তাদের মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ।

শফিকুল আলম বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জিল্লুর রহমান যে মনোলগ ভিডিওগুলো তৈরি করছেন, তার অনেক অংশই তথ্যের বদলে বিভ্রান্তি ছড়ায় এবং গুজবকে উসকে দেয়। তার বক্তব্যে মাঝে মাঝেই ষড়যন্ত্রতত্ত্বের ছাপ থাকে। তিনি নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ, গোলাম মাওলা রনির মতো বিতর্কিত ব্যক্তিদের ধারাবাহিকভাবে সামনে নিয়ে এসেছেন বলেও উল্লেখ করেন। তার মতে, জিল্লুর রহমান নিজেও এখন ধীরে ধীরে সেই একই অবস্থানে চলে যাচ্ছেন।

পোস্টের শেষ অংশে প্রেসসচিব লিখেছেন, “মানুষ সব দেখছে এবং তারা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেবে। তাদের বোকা ভাবার সুযোগ নেই। তবে দুই বিষয়ে আমি নিশ্চিত-আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না, এবং অন্তর্বর্তী সরকার ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করবে-ইনশাআল্লাহ।”