ফেক ড্রাইভিং লাইসেন্স: পর্তুগালে প্রবাসীদের সতর্কবার্তা
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:১৭:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫
- / 260
দেশ থেকে শুরু করে প্রবাসেও বাঙালীদের বিভিন্ন ধরনের সাফল্য অর্জনে যেমন সুনাম কুড়িয়েছে প্রবাসীরা, ঠিক তার উল্টো হয়েছে অনেক ক্ষেত্রেও। একদিকে যেমন সাফল্য অর্জন করছে প্রবাসীরা বিদেশের মাটিতে, অন্যদিকে কিছু প্রবাসীর কারণে দেশের বাইরে দেশের মান ক্ষুণ্ণ হচ্ছে অনেক।
পর্তুগাল ইউরোপের সবচেয়ে প্রাচীনতম একটি দেশ। এক পাশে রয়েছে সবুজ বিস্তৃত পাহাড়, অন্য প্রান্তজুড়ে রয়েছে নীল জলরাশির সমুদ্র। শান্তিপ্রিয় এই দেশে রয়েছে বাঙালি প্রবাসীদের অনেক সাফল্যের গল্প। আবার এই দেশেই রয়েছে অনেক বাংলাদেশের প্রতারণার গল্প।
টাকার নেশায় অন্ধ হয়ে কিছু প্রবাসী বেছে নিয়েছে প্রতারণার পথ। পর্তুগালে প্রায় ৪০ হাজার বাংলাদেশী বসবাস করে। সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু বাংলাদেশী শুরু করেছে ফেক ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবসা। আপনি দেশে না গিয়ে খুব সহজেই পর্তুগাল থেকে এই লাইসেন্স পেতে পারেন, যার জন্য খরচ হবে ১৫০০ থেকে ২০০০ ইউরো, যা বাংলা টাকায় আসে প্রায় ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
পর্তুগালে বসবাসরত যে কোনও বাংলাদেশীর যদি বাংলাদেশী লাইসেন্স থাকে, তাহলে সেটি সহজেই পর্তুগাল লাইসেন্সে পরিবর্তন করা যায়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু বাঙালি শুরু করেছে ফেক লাইসেন্সের রমরমা ব্যবসা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে পর্তুগালের বাংলাদেশীরা বিভিন্ন গ্রুপে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ ধরনের ফাঁদ পেতে থাকে। কিছু না বুঝে ফাঁদে পা দিয়েছে অনেক প্রবাসী। ড্রাইভিং লাইসেন্স যদি অরিজিনাল হয়, তাহলে তার সম্পূর্ণ বায়োডাটা বিআরটিএ সার্ভারে সক্রিয় থাকে। আর যদি ফেক হয়, তাহলে তার কোনো তথ্য বিআরটিএ সার্ভারে থাকে না।
চক্রটির সঙ্গে জড়িত রয়েছে বিআরটিএর কিছু অসাধু কর্মচারী, যারা কিছুদিনের জন্য এই লাইসেন্সের তথ্য সার্ভারে রাখে এবং নির্দিষ্ট সময় পর তা সক্রিয়ভাবে মুছে দেয়। বাংলাদেশ থেকে লাইসেন্স হাতে পাওয়ার পরে পর্তুগালে অবস্থানরত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে এটেস্টেড করতে হয়। দূতাবাসে পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই করে তারপরই এটেস্টেড করা হয়। দূতাবাসের যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে যদি কোনো তথ্য বিআরটিএ সার্ভারে পাওয়া না যায়, তাহলে লাইসেন্সটি এটেস্টেড হয় না।
সূত্র বলছে, পর্তুগালে বসবাসকারী ১০ থেকে ১২ জনের একটি চক্র এই ফেক লাইসেন্সের রমরমা ব্যবসা চালাচ্ছে। লাইসেন্সটি দেখতে আসল লাইসেন্সের মতো হলেও মূলত ফেক।

নিয়ম হলো, যদি কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য বিআরটিএ সার্ভারে পাওয়া না যায়, তাহলে তা দূতাবাস থেকে এটেস্টেড করা উচিত নয়। কিন্তু সমস্যা হলো,মোবিলিটি ও পরিবহন সংস্থা (আইএমটি) একটি তালিকা পাঠিয়েছে পর্তুগালে অবস্থানরত বাংলাদেশ দূতাবাসে, যেখানে ২২ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে। উক্ত তালিকার ব্যক্তিরা সবাই ফেক লাইসেন্স ব্যবহার করছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
আইএমটির প্রকাশিত তালিকায় দেখা গেছে একই লাইসেন্স নাম্বার দুজন ব্যক্তির কাছেই আছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এম্বাসি কিভাবে এই সব ব্যক্তিকে ছাড়পত্র দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দূতাবাসের আতাতভাবে এসব করা সম্ভব নয়।
তাদের আরও মতে, যেখানে সামান্য একটি সার্টিফিকেট এটেস্টেড করতে নিজে উপস্থিত হতে হয়, সেখানে কেউ না গিয়ে অন্য ব্যক্তি দিয়ে লাইসেন্সের ছাড়পত্র দেওয়া কিভাবে সম্ভব। এছাড়াও, যেহেতু তারা দূতাবাসের বিভিন্ন কাজের জন্য যান, তাই তাদের তথ্য দূতাবাসের কাছে থাকবে। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় কারো তথ্য এভাবে প্রকাশ করা কতটা যুক্তিযুক্ত, সেটি দূতাবাসের কাছে প্রশ্ন হিসেবে এসেছে। দূতাবাস চাইলে এই ব্যক্তিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারত, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করার প্রয়োজন নেই।
আইএমটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অচিরেই এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
































