ফায়ার সার্ভিস ভলান্টিয়ারদের সুবিধা ও প্রশিক্ষণ বাড়াচ্ছে সরকার
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:১২:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 59
সরকার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ভলান্টিয়ার বা স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য সুবিধা বাড়ানো এবং প্রশিক্ষণের মান ও সংখ্যা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে দ্রুত একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
আজ শুক্রবার রাজধানীর পূর্বাচল ট্রেনিং গ্রাউন্ডে ‘ইন্টারন্যাশনাল ভলান্টিয়ার্স ডে’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, প্রশিক্ষিত ভলান্টিয়াররা নিঃস্বার্থভাবে জনগণের সেবা করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক ভূমিকম্প, বড় অগ্নিদুর্ঘটনা এবং অন্যান্য দুর্যোগে স্বেচ্ছাসেবকরা ফায়ার ফাইটারদের সঙ্গে মিলিত হয়ে অগ্নিনির্বাপন ও উদ্ধারকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
তিনি ভলান্টিয়ারদের উদ্দেশে বলেন, “কোনও সুবিধা ছাড়াই নিজের ইচ্ছায় সেবা প্রদানের জন্য আপনারা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। এই নিঃস্বার্থ কাজের প্রতিদান আপনি পাবেন না শুধু ইহকালে, বরং পরকালেও।”
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স দেশে ৬২ হাজার ভলান্টিয়ার তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে, যার মধ্যে ইতিমধ্যে ৫৫ হাজারেরও বেশি ভলান্টিয়ারকে প্রশিক্ষণ প্রদান সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, “এই প্রশিক্ষণ ভলান্টিয়ারদের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এর ফলে জনবল সংকট কমেছে এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।”
উপদেষ্টা আরও বলেন, “সরকারি বাহিনী এককভাবে বড় দুর্যোগ মোকাবিলা করতে পারে না। ভূমিকম্প, অগ্নিদুর্ঘটনা বা বন্যার মতো পরিস্থিতিতে স্বেচ্ছাসেবকেরা পেশাদার বাহিনীর সঙ্গে কাজ করে কার্যকর ভূমিকা রাখে। তাই সকল স্তরে স্বেচ্ছাসেবকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ রাজনীতিমুক্ত হবে কিনা—এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা জানান, “আইন প্রণয়ন জনগণের সেবা নিশ্চিত করার জন্য। পুলিশ কমিশনও জনগণ এবং পুলিশের কল্যাণে কিছু সুপারিশ করবে, যা বাস্তবায়ন করা হবে।”
উপদেষ্টা অনুষ্ঠান শুরুর আগে পূর্বাচল ট্রেনিং গ্রাউন্ডে স্বেচ্ছাসেবকদের প্রদর্শিত মহড়া দেখেন এবং তাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
































