ঢাকা ১২:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুর ও কুমিল্লা নামেই নতুন বিভাগ হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:০৬:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 180

বাংলাদেশ সরকার

সরকার ফরিদপুর ও কুমিল্লা জেলার নামেই দুটি নতুন প্রশাসনিক বিভাগ গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। ফলে আগে আলোচনায় থাকা ‘পদ্মা’ ও ‘মেঘনা’ নাম ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় দুটি নতুন উপজেলা তৈরির প্রস্তাবও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশন শেষে প্রধান উপদেষ্টা দেশে ফেরার পর অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) বৈঠকে বিষয়টি অনুমোদনের জন্য তোলা হবে বলে জানা গেছে। সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত ৮ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রি-নিকার বৈঠকে ফরিদপুর ও কুমিল্লা নামে নতুন বিভাগ গঠনের পাশাপাশি কুমিল্লার মুরাদনগর ও চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি ভেঙে দুটি নতুন উপজেলা করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মুরাদনগরের বাঙ্গরা থানাধীন ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে “বাঙ্গরা উপজেলা” এবং ফটিকছড়ি ভেঙে “ফটিকছড়ি উত্তর” উপজেলা গঠনের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মুরাদনগরে ২২টি ইউনিয়ন রয়েছে।

জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন এরই মধ্যে নতুন বিভাগগুলোর প্রস্তাব করেছে। ফরিদপুর বিভাগের আওতায় আসবে ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ ও শরীয়তপুর জেলা। আর কুমিল্লা বিভাগের আওতায় থাকবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী।

বর্তমানে দেশে মোট আটটি বিভাগ রয়েছে—ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ। সর্বশেষ ২০১৫ সালে ময়মনসিংহকে আলাদা বিভাগ ঘোষণা করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের নভেম্বরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নিকার বৈঠকে ফরিদপুর অঞ্চলের জেলাগুলো নিয়ে “পদ্মা বিভাগ” এবং কুমিল্লা ও আশপাশের অঞ্চল নিয়ে “মেঘনা বিভাগ” করার প্রস্তাব উঠলেও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে তা অনুমোদন হয়নি।

এক সাবেক সচিব মন্তব্য করেছেন, নতুন বিভাগ হলে শুধু প্রশাসনিক পদ সৃষ্টি ও খরচ বাড়বে, কিন্তু জনগণের প্রত্যক্ষ কোনো সুবিধা আসবে না। তাঁর মতে, আধুনিক সময়ে বিভাগীয় কার্যালয় বাড়ানো অযৌক্তিক, কারণ মন্ত্রণালয় চাইলে এক ঘণ্টার নোটিশে দেশের সব ডিসিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক করতে পারে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ফরিদপুর ও কুমিল্লা নামেই নতুন বিভাগ হচ্ছে

সর্বশেষ আপডেট ০৯:০৬:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সরকার ফরিদপুর ও কুমিল্লা জেলার নামেই দুটি নতুন প্রশাসনিক বিভাগ গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। ফলে আগে আলোচনায় থাকা ‘পদ্মা’ ও ‘মেঘনা’ নাম ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় দুটি নতুন উপজেলা তৈরির প্রস্তাবও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশন শেষে প্রধান উপদেষ্টা দেশে ফেরার পর অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) বৈঠকে বিষয়টি অনুমোদনের জন্য তোলা হবে বলে জানা গেছে। সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত ৮ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রি-নিকার বৈঠকে ফরিদপুর ও কুমিল্লা নামে নতুন বিভাগ গঠনের পাশাপাশি কুমিল্লার মুরাদনগর ও চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি ভেঙে দুটি নতুন উপজেলা করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মুরাদনগরের বাঙ্গরা থানাধীন ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে “বাঙ্গরা উপজেলা” এবং ফটিকছড়ি ভেঙে “ফটিকছড়ি উত্তর” উপজেলা গঠনের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মুরাদনগরে ২২টি ইউনিয়ন রয়েছে।

জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন এরই মধ্যে নতুন বিভাগগুলোর প্রস্তাব করেছে। ফরিদপুর বিভাগের আওতায় আসবে ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ ও শরীয়তপুর জেলা। আর কুমিল্লা বিভাগের আওতায় থাকবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী।

বর্তমানে দেশে মোট আটটি বিভাগ রয়েছে—ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ। সর্বশেষ ২০১৫ সালে ময়মনসিংহকে আলাদা বিভাগ ঘোষণা করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের নভেম্বরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নিকার বৈঠকে ফরিদপুর অঞ্চলের জেলাগুলো নিয়ে “পদ্মা বিভাগ” এবং কুমিল্লা ও আশপাশের অঞ্চল নিয়ে “মেঘনা বিভাগ” করার প্রস্তাব উঠলেও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে তা অনুমোদন হয়নি।

এক সাবেক সচিব মন্তব্য করেছেন, নতুন বিভাগ হলে শুধু প্রশাসনিক পদ সৃষ্টি ও খরচ বাড়বে, কিন্তু জনগণের প্রত্যক্ষ কোনো সুবিধা আসবে না। তাঁর মতে, আধুনিক সময়ে বিভাগীয় কার্যালয় বাড়ানো অযৌক্তিক, কারণ মন্ত্রণালয় চাইলে এক ঘণ্টার নোটিশে দেশের সব ডিসিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক করতে পারে।