প্লুটো গ্রহ নয়, কিন্তু কেন?
- সর্বশেষ আপডেট ১২:২৯:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
- / 216
সৌরজগতের নবম গ্রহ হিসেবে পরিচিত ছিল প্লুটো। ১৯৩০ সালে আবিষ্কৃত হওয়ার পর প্রায় ৭০ বছর ধরে এটি সৌরজগতের শেষ সীমানার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতো। কিন্তু ২০০৬ সালের আগস্টে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ইউনিয়ন (IAU) একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয়, যার ফলে প্লুটো তার গ্রহের মর্যাদা হারায় এবং বামন গ্রহের (Dwarf Planet) শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত হয়। এই সিদ্ধান্তটি মহাকাশ বিজ্ঞানীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষদের মধ্যেও ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল।
২০০৬ সালে চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী প্রাগে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে বিজ্ঞানীরা গ্রহের আনুষ্ঠানিক সংজ্ঞা নির্ধারণ করেন। সেখানে বলা হয়, একটি বস্তুকে গ্রহ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হলে তিনটি শর্ত পূরণ করতে হবে:
১. সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে হবে।
২. নিজস্ব মহাকর্ষ বলের কারণে প্রায় গোলাকার আকৃতি থাকতে হবে।
৩. কক্ষপথের অন্যান্য বস্তুগুলোকে নিজেদের মহাকর্ষ দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হতে হবে।
প্লুটো সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে এবং গোলাকার আকৃতির, তাই দুটি শর্ত পূরণ করলেও তৃতীয় শর্ত পূরণ করতে পারেনি। প্লুটো তার কক্ষপথে মহাকর্ষীয়ভাবে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম নয়। কক্ষপথের অন্যান্য বস্তুর মোট ভরের তুলনায় প্লুটোর ভর অনেক কম, এবং এটি কুইপার বেল্টের অসংখ্য বস্তুর সঙ্গে কক্ষপথ ভাগ করে। পৃথিবী বা বৃহস্পতি যেমন তাদের কক্ষপথে ৯০ শতাংশের বেশি বস্তুকে আকর্ষণ বা বিতাড়িত করতে পারে, প্লুটো সেই ক্ষমতা রাখে না।
যেসব বস্তু গ্রহের প্রথম দুটি শর্ত পূরণ করে, কিন্তু তৃতীয় শর্ত পূরণ করতে পারে না, সেগুলিকে বামন গ্রহ হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়। বর্তমানে প্লুটো ছাড়াও এরিস, সেরেস, হাউমেয়া ও মেকেমে পরিচিত বামন গ্রহ। এই বৈজ্ঞানিক বিভাজন জ্যোতির্বিজ্ঞানকে আরও সুসংহত করেছে এবং সৌরজগতের কাঠামোগত বোঝাপড়াকে শক্তিশালী করেছে। প্লুটো গ্রহের মর্যাদা হারালেও বামন গ্রহ হিসেবে এটি এখনও বিজ্ঞানীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
































