‘প্রসিকিউশন বলেছে গ্রেপ্তার, আমরা বলি আত্মসমর্পণ’
- সর্বশেষ আপডেট ১১:০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
- / 96
আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সেনা কর্মকর্তারা স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন। বুধবার (২২ অক্টোবর) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশের পর তিনি এই মন্তব্য করেন।
ব্যারিস্টার সারোয়ার জানান, গত ৮ অক্টোবর তিনটি মামলায় ট্রাইব্যুনাল থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। এরপর সেনা সদর থেকে কর্মকর্তাদের হেফাজতে রাখা হয়। আজ সেই মামলাগুলোর নির্ধারিত দিনে তারা আদালতে উপস্থিত হয়ে আত্মসমর্পণ করেন।
তিনি বলেন, “আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। আদালত আমাদের ওকালতনামা গ্রহণ করেছে এবং তিনটি আবেদন জমা দিতে অনুমতি দিয়েছে—এর মধ্যে একটি জামিনের আবেদন, একটি প্রিভিলেজ কমিউনিকেশন এবং অন্যটি সাবজেলে রাখার অনুরোধ।”
সাবজেল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন জেল কর্তৃপক্ষ। যারা এখনো পলাতক রয়েছেন, তাদের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ নভেম্বর।”
গ্রেপ্তার না আত্মসমর্পণ—এই বিষয়ে সারোয়ার বলেন, “প্রসিকিউশন বলছে তারা গ্রেপ্তার হয়েছে, কিন্তু আমরা বলি আত্মসমর্পণ। কারণ তারা স্বেচ্ছায় আদালতে এসেছেন, পুলিশ তাদের আটক করেনি। প্রশাসনিক কারণে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে সেনা বাহিনীর গাড়িতে তাদের আনা হয়েছে।”
এদিন সকাল ৮টার পর তিন মামলার শুনানি শুরু হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। পরে ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল ১৫ আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, “আজ তিনটি মামলার মোট ১৫ আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়েছে। এর মধ্যে র্যাবের টিএফআই সেলে গুম-নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার ১৭ আসামির মধ্যে ১০ জনকে হাজির করা হয়। ট্রাইব্যুনাল তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।”
তিনি আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক আসামিদের হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রকাশ করতে হবে। মামলাগুলোর পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ নভেম্বর।
জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি)-এ গুমের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ১৩ আসামির তিনজনকে হাজির করা হয়। তাদের বিরুদ্ধেও একই আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলার পরবর্তী শুনানিও ২০ নভেম্বর হবে।
এছাড়া জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় হাজির হওয়া দুজন আসামিকেও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ নভেম্বর।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর তিনটি মামলায় মোট ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়—যার মধ্যে ২৫ জনই সেনা কর্মকর্তা। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। সেনা সদর জানায়, ১১ অক্টোবর ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
এদের মধ্যে রয়েছেন র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার কে. এম. আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসরকালীন ছুটিতে), র্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম, বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা মেজর মো. রাফাত বিন আলম, এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।
সেনা কর্মকর্তাদের আদালতে হাজিরকে কেন্দ্র করে রাজধানীর কাকরাইল, পল্টন ও মৎস্য ভবন এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সকাল থেকে ট্রাইব্যুনাল ও হাইকোর্ট মাজারগেট এলাকায় পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনা সদস্যদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়।































