ঢাকা ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
তদন্ত কমিটি ৭২ ঘণ্টায় প্রাথমিক রিপোর্ট দিবে

প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত: নিহত ২৭ জনের মধ্যে ২৫ শিশু

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:১০:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫
  • / 288

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী

রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়ি এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যমতে, নিহত ২৭ জনের মধ্যে ২৫ জনই স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থী। এছাড়া নিহতদের তালিকায় রয়েছেন বিমানের পাইলট ও একজন নারী শিক্ষক।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকালে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ও ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান।

তিনি বলেন, “নিহতদের মধ্যে ২৫ জন শিশু। দুর্ঘটনায় আহত হয়ে এখন পর্যন্ত ৭৮ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।”
তিনি আরও জানান, “বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন দুইজন রোগীকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। আমাদের মেডিকেল টিম সবধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে।”

মাইলস্টোনে বিমান বিধ্বস
মাইলস্টোনে বিমান বিধ্বস

সোমবার (২১ জুলাই) দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান হঠাৎ করে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনের একাংশে আছড়ে পড়ে। বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। মুহূর্তেই আগুন ধরে যায় ভবনে এবং বিমানের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে।

দুর্ঘটনার সময় ক্লাস চলছিল। শিশুরা ছিল ক্লাসরুমে ও করিডোরে। হঠাৎ বিস্ফোরণ ও ধ্বংসস্তূপে অনেক শিক্ষার্থী আগুনে দগ্ধ হয় এবং অনেকে ভবনের ভেতরে আটকা পড়ে।

ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র‍্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধার কাজে অংশ নেন। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

বিমানবাহিনী ও সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটি ছিল প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহৃত একটি যুদ্ধবিমান। এতে শুধু একজন প্রশিক্ষক পাইলট ছিলেন। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিমানটি নিচে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেবে বলে জানা গেছে।

এদিকে এ ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শোক প্রকাশ করেছে। সরকারিভাবে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও আহতদের চিকিৎসা সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এমন একটি এলাকায় কিভাবে যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণের অনুমতি দেওয়া হলো?

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, “এই দুর্ঘটনা আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রশিক্ষণ কৌশল এবং এর জননিরাপত্তামূলক ঝুঁকির বিষয়ে নতুন করে ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।”

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর জানিয়েছে, দুর্ঘটনার স্থান থেকে ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চলছে। নিহত ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালেও আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে নিহত শিশুদের নাম-পরিচয় শনাক্তে চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে, কারণ তাদের অনেকেই পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সারাদেশে এই মর্মান্তিক ঘটনায় শিশুদের মৃত্যুতে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কালো ব্যাজ ধারণ ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন চলছে।

 

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

তদন্ত কমিটি ৭২ ঘণ্টায় প্রাথমিক রিপোর্ট দিবে

প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত: নিহত ২৭ জনের মধ্যে ২৫ শিশু

সর্বশেষ আপডেট ১০:১০:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫

রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়ি এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যমতে, নিহত ২৭ জনের মধ্যে ২৫ জনই স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থী। এছাড়া নিহতদের তালিকায় রয়েছেন বিমানের পাইলট ও একজন নারী শিক্ষক।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকালে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ও ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান।

তিনি বলেন, “নিহতদের মধ্যে ২৫ জন শিশু। দুর্ঘটনায় আহত হয়ে এখন পর্যন্ত ৭৮ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।”
তিনি আরও জানান, “বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন দুইজন রোগীকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। আমাদের মেডিকেল টিম সবধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে।”

মাইলস্টোনে বিমান বিধ্বস
মাইলস্টোনে বিমান বিধ্বস

সোমবার (২১ জুলাই) দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান হঠাৎ করে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনের একাংশে আছড়ে পড়ে। বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। মুহূর্তেই আগুন ধরে যায় ভবনে এবং বিমানের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে।

দুর্ঘটনার সময় ক্লাস চলছিল। শিশুরা ছিল ক্লাসরুমে ও করিডোরে। হঠাৎ বিস্ফোরণ ও ধ্বংসস্তূপে অনেক শিক্ষার্থী আগুনে দগ্ধ হয় এবং অনেকে ভবনের ভেতরে আটকা পড়ে।

ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র‍্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধার কাজে অংশ নেন। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

বিমানবাহিনী ও সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটি ছিল প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহৃত একটি যুদ্ধবিমান। এতে শুধু একজন প্রশিক্ষক পাইলট ছিলেন। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিমানটি নিচে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেবে বলে জানা গেছে।

এদিকে এ ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শোক প্রকাশ করেছে। সরকারিভাবে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও আহতদের চিকিৎসা সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এমন একটি এলাকায় কিভাবে যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণের অনুমতি দেওয়া হলো?

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, “এই দুর্ঘটনা আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রশিক্ষণ কৌশল এবং এর জননিরাপত্তামূলক ঝুঁকির বিষয়ে নতুন করে ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।”

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর জানিয়েছে, দুর্ঘটনার স্থান থেকে ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চলছে। নিহত ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালেও আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে নিহত শিশুদের নাম-পরিচয় শনাক্তে চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে, কারণ তাদের অনেকেই পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সারাদেশে এই মর্মান্তিক ঘটনায় শিশুদের মৃত্যুতে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কালো ব্যাজ ধারণ ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন চলছে।