ঢাকা ১০:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত: নিহত ১৯, আহত ১৬৪

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:৩২:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫
  • / 250

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় মাইলস্টোন কলেজের একটি ভবনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন এবং ১৬৪ জন আহত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিমানটি ছিল বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজেআই মডেলের প্রশিক্ষণ জেট, যা দুপুর ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়ন করে এবং মাত্র ১২ মিনিট পর ১টা ১৮ মিনিটে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

ঘটনার পরপরই ১টা ২২ মিনিটে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এখন পর্যন্ত ৬টি অ্যাম্বুলেন্স উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তবে এখনো হতাহতের সংখ্যা নিয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আসেনি। ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার লিমা খানম জানিয়েছেন, “উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে, আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ের আগ পর্যন্ত নির্দিষ্ট সংখ্যা বলা যাবে না।”

কীভাবে ঘটলো এই দুর্ঘটনা?
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিমানটি প্রথমে মাইলস্টোন কলেজের ৭ নম্বর ভবনে ধাক্কা খায়, তারপর সেটি কাছের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের ওপর বিধ্বস্ত হয়।
মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষার্থী নাইমুল হাসান আদিত বলেন, “প্রথমে দেখি বিমানটা আমাদের ভবনে লাগে, তারপর ধাক্কা খেয়ে পাশের স্কুল ভবনে পড়ে।”

অগ্নিদগ্ধদের বর্ণনায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য
মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষক নুরুজ্জামান মৃধা বলেন, “আমরা কয়েকজনকে দগ্ধ অবস্থায় ভ্যান আর রিকশায় করে সরিয়ে নিই। কারো শরীরের কাপড় ছিঁড়ে গেছে, কেউ আগুনে ঝলসে গেছে—তবুও নিজের পায়ে হেঁটে কেউ কেউ উদ্ধারযানে ওঠেন।”

লুবানা জেনারেল হাসপাতালের সামনে দেখা গেছে, একজন শিক্ষার্থী দগ্ধ সহপাঠীকে কোলে নিয়ে রাস্তার ডিভাইডার পার হচ্ছেন। সেই শিক্ষার্থীকে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয় এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।

পাইলটের অবস্থা ও পরিচয়
ঘটনায় পাইলট স্কোয়াড্রন লিডার তৌকির ইসলামও আহত হয়েছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। পাইলটসহ বার্ন ইউনিটে ভর্তি ৮ জনের অবস্থা গুরুতর, জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ভবনটিতে কারা ছিল?
যে ভবনের ওপর বিমানটি পড়ে, সেখানে মূলত প্লে গ্রুপ থেকে প্রাথমিক স্তরের শিশুদের ক্লাস চলত। দুর্ঘটনার সময় ছিল স্কুল ছুটির সময়, তাই হতাহতের সংখ্যা এত বেশি হয়েছে বলে ধারণা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের চোখে বিভীষিকা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, সেনাবাহিনীর সদস্যরা শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করছেন, আগুনে পোড়া শরীর বাঁচাতে মরিয়া ছুটে চলছে অ্যাম্বুলেন্স।

ফায়ার সার্ভিস মিডিয়া সেলের সহকারী পরিচালক তালহা বিন জামিন জানিয়েছেন, “হতাহতের বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না, উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে।”

 

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত: নিহত ১৯, আহত ১৬৪

সর্বশেষ আপডেট ০৫:৩২:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় মাইলস্টোন কলেজের একটি ভবনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন এবং ১৬৪ জন আহত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিমানটি ছিল বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজেআই মডেলের প্রশিক্ষণ জেট, যা দুপুর ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়ন করে এবং মাত্র ১২ মিনিট পর ১টা ১৮ মিনিটে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

ঘটনার পরপরই ১টা ২২ মিনিটে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এখন পর্যন্ত ৬টি অ্যাম্বুলেন্স উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তবে এখনো হতাহতের সংখ্যা নিয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আসেনি। ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার লিমা খানম জানিয়েছেন, “উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে, আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ের আগ পর্যন্ত নির্দিষ্ট সংখ্যা বলা যাবে না।”

কীভাবে ঘটলো এই দুর্ঘটনা?
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিমানটি প্রথমে মাইলস্টোন কলেজের ৭ নম্বর ভবনে ধাক্কা খায়, তারপর সেটি কাছের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের ওপর বিধ্বস্ত হয়।
মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষার্থী নাইমুল হাসান আদিত বলেন, “প্রথমে দেখি বিমানটা আমাদের ভবনে লাগে, তারপর ধাক্কা খেয়ে পাশের স্কুল ভবনে পড়ে।”

অগ্নিদগ্ধদের বর্ণনায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য
মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষক নুরুজ্জামান মৃধা বলেন, “আমরা কয়েকজনকে দগ্ধ অবস্থায় ভ্যান আর রিকশায় করে সরিয়ে নিই। কারো শরীরের কাপড় ছিঁড়ে গেছে, কেউ আগুনে ঝলসে গেছে—তবুও নিজের পায়ে হেঁটে কেউ কেউ উদ্ধারযানে ওঠেন।”

লুবানা জেনারেল হাসপাতালের সামনে দেখা গেছে, একজন শিক্ষার্থী দগ্ধ সহপাঠীকে কোলে নিয়ে রাস্তার ডিভাইডার পার হচ্ছেন। সেই শিক্ষার্থীকে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয় এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।

পাইলটের অবস্থা ও পরিচয়
ঘটনায় পাইলট স্কোয়াড্রন লিডার তৌকির ইসলামও আহত হয়েছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। পাইলটসহ বার্ন ইউনিটে ভর্তি ৮ জনের অবস্থা গুরুতর, জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ভবনটিতে কারা ছিল?
যে ভবনের ওপর বিমানটি পড়ে, সেখানে মূলত প্লে গ্রুপ থেকে প্রাথমিক স্তরের শিশুদের ক্লাস চলত। দুর্ঘটনার সময় ছিল স্কুল ছুটির সময়, তাই হতাহতের সংখ্যা এত বেশি হয়েছে বলে ধারণা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের চোখে বিভীষিকা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, সেনাবাহিনীর সদস্যরা শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করছেন, আগুনে পোড়া শরীর বাঁচাতে মরিয়া ছুটে চলছে অ্যাম্বুলেন্স।

ফায়ার সার্ভিস মিডিয়া সেলের সহকারী পরিচালক তালহা বিন জামিন জানিয়েছেন, “হতাহতের বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না, উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে।”